সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পাকিস্তানে (Pakistan) অজ্ঞাত পরিচয়ের দুষ্কৃতীদের কাছে লস্কর-ই-তৈবার অন্তত ৩০ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে খবর। এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি প্রকাশ করেছে খোদ শীর্ষ এক লস্কর জঙ্গি। নিজেই এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তিনি এ কথা জানিয়েছেন। রিজওয়ান হানিফ নামে ওই শীর্ষ লস্কর সদস্য স্পষ্ট ভাষায় এই প্রাণহানির কথা স্বীকার করেছেন। এমনকি উল্লেখ করা হচ্ছে, ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলার মূল পরিকল্পনায় ছিল এই জঙ্গি সংগঠন, যেখানে প্রাণ হারিয়েছিলেন ১৬৬ জন নিরাপরাধ মানুষ।
পাকিস্তানের ৩০ জন লস্কর সদস্য খতম
যে ভিডিও বার্তা শেয়ার করা হয়েছে সেখানে স্পষ্টভাবে দাবি করা হচ্ছে, বিগত তিন থেকে চার বছরে তাদের বহু সদস্যের রহস্য মৃত্যু ঘটেছে। এমনকি ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলায় এই লস্কর-ই-তৈবা সংগঠন জড়িত ছিল। তবে সেই সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের একাধিক সদস্য ভারত সীমান্তের কাছে বিশেষ করে পাক অধিকৃত কাশ্মীর বা কাশ্মীর সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় দিনের পর দিন খুন হয়েছেন। করাচি, পেশোয়ার, রাওয়ালপিন্ডি, মোজাফফরবাদ ইত্যাদি শহরে হামলাকারীদের গুলিতে অন্তত ৩০ জনের বেশি মৃত্যু হয়েছে বলেই খবর।
এমনকি ভিডিওতে রিজওয়ান দাবি করছেন, বেছে বেছে লস্কর ক্যাডারদেরকেই খতম করা হচ্ছে। কিন্তু কারা এই চক্রান্তের পেছনে রয়েছে তা স্পষ্ট নয়। কিন্তু টার্গেট করেই এই খুন হচ্ছে বলেই জানান তিনি। এদিকে জানিয়ে রাখি, ২০০৫ সালে আল কায়েদা এবং তালিবানদের সঙ্গে যোগসূত্রের কারণে জাতিসংঘ লস্কর-ই-তৈবাকে জঙ্গি সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করে গোটা বিশ্বজুড়ে নিষিদ্ধ করেছিল। তবে এতদিন পর্যন্ত এই সংগঠনের কোনও জঙ্গি প্রকাশ্যে এসে অকপটে মৃত্যুর খবর স্বীকার করেনি। এই প্রথমবার এভাবে সামনে এল ভিতরের খবর। এমনকি ভিডিওতে হানিফের অভিযোগ, এই হত্যার পিছনে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলির হাত রয়েছে। যদিও নয়াদিল্লি সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।
🚨 JUST IN : Lashkar Terrorist Accuses Indian Agencies of Using an “Unknown Gunman Model” to Kill Terrorists in Pakistan
He Said that in the last 4 years, 30 of our men (Terrorists) Have Been killed in Mysterious ways , Some in Rawalakot, some in Rawalpindi, and Some in Karachi… pic.twitter.com/iVLwtwulgW
— GEO INSIGHTS (@Rudraeyes) August 3, 2026
আরও পড়ুন: সোনার দামে পতন হলেও বাড়ল রুপোর দর, দেখুন আজকের রেট
তবে হত্যাকাণ্ডের এই খবর প্রকাশ্যে আনার পাশাপাশি ভিডিওতে রিজওয়ান হানিফ ভারতের বিরুদ্ধে সরাসরি হিংসাত্মক এবং আপত্তিকর মন্তব্য করেন। এমনকি হিন্দুধর্ম সম্বন্ধেও নিজের ক্ষোভ উগড়ে দেন তিনি। তবে ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলি ইতিমধ্যেই হানিফের ওই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করার চেষ্টা করছে। এমনকি সবথেকে বড় ব্যাপার, ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড ক্রিমিনাল লিস্টে রিজওয়ান হানিফ অন্যতম, যাকে দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তা সংস্থা খুঁজে চলেছে।










