জোট বাঁধছে আরব দল, টলোমলো নেতানিয়াহুর চেয়ার! ইজরায়েলে বদলাবে সরকার?

Published:

Israel

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নয়া মোড়। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে চলা ইজরায়েলের (Israel) প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর চেয়ার এবার গভীর সংকটের মুখে। ২০২৩ সালে হামাসের সঙ্গে সংঘাতের পর দেশটিতে প্রথমবার সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেই ফলাফল বেরোতেই ইজরায়েলের রাজনীতিতে শুরু হয় নতুন সমীকরণ। তবে এবার প্রভাব বাড়ছে আরব সংখ্যাগরিষ্ঠ দলগুলির এবং বিরোধী নেতা গাদি আইসেনকোটের। সেই সূত্রে নেতানিয়াহুর ভবিষ্যৎ নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা।

প্রধানমন্ত্রীর পদ যাবে নেতানিয়াহুর?

সাম্প্রতিক নির্বাচনে কোনও একক দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। ১২০ সদস্যের ইজরায়েলের সংসদে সরকার গঠনের জন্য অন্তত ৬১ জন সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন ছিল। তবে কোনও পক্ষই সেই মাইলফলক ছুঁতে পারেনি। ফলাফল অনুযায়ী, বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী ও ধর্মীয় দলগুলির জোট ৫৩টি আসন অর্জন করে। আগেরবার নির্বাচনে তাঁর ঝুলিতে ছিল ৬৮টি আসন। ফলে বর্তমানে নেতানিয়াহুর অবস্থান যে দুর্বল তা স্পষ্ট।

অন্যদিকে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া বিভিন্ন মধ্যপন্থী ও ধর্মনিরপেক্ষ ইহুদি দলগুলি সম্মিলিত হবে ৪৮টি আসনে জয়লাভ করে। পাশাপাশি ইজরায়েলের রাজনীতিতে অত্যন্ত প্রভাবশালী দুই প্রধান আরব রাজনৈতিক দল রাআম এবং জয়েন্ট লিস্ট মিলে মোট ১৯টি আসন জয়লাভ করে। সেই সূত্রে এখন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে বিরোধী শিবিরে জ্বলছে আশার আলো।

টাইমস অফ ইজরায়েলের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উঠে আসছে প্রাক্তন আইডিএফ চিফ অফ স্টাফ তথা বর্তমান বিরোধী নেতা গাদি আইসেনকোটের নাম। আরব দলগুলি যদি আইসেনকোটের নেতৃত্বাধীন জোটকে বাইরে থেকে সমর্থন দেয়, তাহলে এই দাবিই হতে পারে সত্য। অন্যদিকে জয়েন্ট লিস্টের প্রভাবশালী নেতা ও সাংসদ আহমেদ তিবি জানিয়েছেন যে তাঁরা বর্তমান সরকারকে হটিয়ে পরিবর্তন আনতে ইচ্ছুক। তিনি বলেন, “আমরা সেই সমস্ত শক্তির পাশে দাঁড়াতে চাই, যারা এই অজনপ্রিয় সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে দেশে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে চায়।

আরও পড়ুন: মালবোঝাই ট্রাকের চাপে নদীতে ভেঙে পড়ল সেতু, মাথাভাঙায় ব্যাহত যাতায়াত

বর্তমানে ১২০ আসনের নেসেটে আইসেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবির এবং আরব দলগুলির মধ্যে যদি সমঝোতা চূড়ান্ত হয়, তাহলে নেতানিয়াহুর বিরোধী এই জোটের আসন সংখ্যা দাঁড়াবে ৬৭। আর এটি সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের ম্যাজিক ফিগারকে যে অনায়াসেই ছাড়িয়ে যাবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ফলে সম্ভাব্য জোট যদি তৈরি হয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে রাজত্ব করে আসা বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর প্রধানমন্ত্রীত্বের মেয়াদ এখানেই শেষ।

google button