অনন্যা সরকার, কলকাতা: আগামী ১২ই আগস্ট আকাশে একই সাথে দুটি আশ্চর্যজনক মহাজাগতিক ঘটনা প্রত্যক্ষ করতে চলেছেন বিশ্ববাসী। আর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল এগুলি দেখার জন্য কোনো বিশেষ যন্ত্রপাতির দরকার হবে না। ওইদিন চাঁদ সরাসরি সূর্যের সামনে দিয়ে যাবে, যার ফলে উত্তর আমেরিকা, আয়ারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য সহ ইউরোপের প্রধান অঞ্চলগুলি থেকে দেখা যাবে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ (Total Solar Eclipse)। তারপর রাত নামলে পৃথিবী একটি ধূমকেতুর রেখে যাওয়া ধ্বংসাবশেষের মধ্যে দিয়ে যাবে, যার ফলে সৃষ্টি হবে বছরের অন্যতম দর্শনীয় উল্কাবৃষ্টি (Meteor Shower)। বিজ্ঞানীরা বলছেন একই দিনে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ এবং উল্কাবৃষ্টি ঘটা একটি অত্যন্ত বিরল মহাজাগতিক ঘটনা, যা মানুষ তাদের জীবদ্দশায় খুব কমই দেখতে পান। কারণ এই ধরনের ঘটনা হাজার হাজার বছরে একবার ঘটে।
দিনে সূর্যগ্রহণ আর রাতের আকাশে উল্কাবৃষ্টির সাক্ষী হবে পৃথিবী
আগস্টের ১২ তারিখ চাঁদ সূর্য ও পৃথিবীর মাঝে এসে পড়বে আর সূর্যকে ঢেকে দেবে সম্পূর্ণরূপে। এর এরফলে পৃথিবীর কিছু স্থানে দিনের বেলাতেও নেমে আসবে রাতের অন্ধকার। আবার ওই দিন রাতেই পৃথিবী সুইফট-টাটল ধূমকেতুর (Comet Swift-Tuttle) ধ্বংসাবশেষের মধ্যে দিয়ে যাবে। যখন এর ক্ষুদ্র ধূলিকণাগুলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে আঘাত করবে, তখন জ্বলে উঠবে। এরফলে আকাশে এক উজ্জ্বল আলোর রেখা দেখা যাবে, যাকে আমরা উল্কাবৃষ্টি বলে থাকি। সূর্যগ্রহণ সবসময়ই অমাবস্যার দিনে ঘটে। অমাবস্যায় আকাশ সম্পূর্ণভাবে অন্ধকার হয়ে যায়, এর ফলে ছোট, অনুজ্জ্বল উল্কাও উজ্জ্বল ও স্পষ্ট দেখাবে।
কোথায় এবং কীভাবে দেখা যাবে এই মহাজাগতিক ঘটনাগুলি?
পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের মূল পথটি গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, আটলান্টিক মহাসাগর এবং উত্তর স্পেনের উপর দিয়ে যাবে। তাই এই এলাকাগুলিতে দিনের বেলায় সম্পূর্ণ অন্ধকারে ঢেকে যাবে। আবার, আয়ারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য সহ ইউরোপের বাকি অংশ, কানাডা, উত্তর-পূর্ব আমেরিকা সহ উত্তর আমেরিকা ও উত্তর আফ্রিকায় আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। তবে এই সূর্যগ্রহণ ভারতে সরাসরি দেখা যাবে না কারণ তখন এদেশে রাত থাকবে। তবে অনলাইন লাইভস্ট্রিমের মাধ্যমে ভারতীয়রা সূর্যগ্রহণের দৃশ্য দেখতে পারেন।
অন্যদিকে, পার্সেইড উল্কাবৃষ্টি উত্তর গোলার্ধের বেশিরভাগ অংশ থেকেই দেখা যাবে, তবে আবহাওয়া পরিষ্কার থাকতে হবে। ১২ আগস্টের গভীর রাত থেকে ১৩ আগস্টের ভোর পর্যন্ত এটি দেখার আদর্শ সময়। এই সময়ে প্রতি ঘণ্টায় ৬০ থেকে ১০০টি উল্কা চোখে পড়তে পারে। এর জন্য টেলিস্কোপ বা বাইনোকুলারেরও প্রয়োজন হবে না। শহরের উজ্জ্বল আলো থেকে দূরে কোনো অন্ধকার, খোলা মাঠ বা ছাদে গিয়ে অন্ধকারের সাথে চোখকে মানিয়ে নেওয়ার জন্য কিছুটা সময় দিলে সরাসরি আকাশের দিকে তাকিয়ে এই মহাজাগতিক দৃশ্য উপভোগ করা যাবে।
আরও পড়ুনঃ গুরু পূর্ণিমা ২০২৬ কত তারিখে? দেখুন দিনক্ষণ, সময়সূচি ও পালনের নিয়ম
তবে উল্লেখ্য, সূর্যগ্রহণ কখনোই সরাসরি দেখা উচিত নয় সর্বদা সার্টিফাইড সোলার এক্লিপ্স গ্লাস (ISO 12312-2 সার্টিফাইড) ব্যবহার করতে হয়। অনেকে সাধারণ সানগ্লাস ব্যবহার করেন, কিন্তু এতে চোখের ক্ষতি হতে পারে। তবে, উল্কাবৃষ্টি দেখার জন্য চোখে কোনো বিশেষ সুরক্ষার প্রয়োজন হয় না, এটি খালি চোখেই দেখা যায়।










