সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: এবছর অর্থাৎ ২০২৬ সালে গুরু পূর্ণিমা কত তারিখে পড়ছে? গুরু পূর্ণিমা ২০২৬ (Guru Purnima 2026) এর সময়সূচি কী রয়েছে? কেনই বা এই গুরু পূর্ণিমা পালন করা হয়? আসলে বৈদিক দৃষ্টিকোণ অনুযায়ী, এই দিনটিতে বৃহস্পতির শক্তি যা প্রজ্ঞা, আধ্যাত্মিক জ্ঞান আর গুরু-শিষ্য সম্পর্কের গ্রহ তার বার্ষিক শিখরে পৌঁছয়। পূর্ণিমা সেই শক্তিকে আরও বাড়িয়ে তোলে। তাই নিষ্ঠা ও ভক্তি সহকারে এই গুরু পূর্ণিমা পালন করা হয়। ২০২৬ এর গুরু পূর্ণিমা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানতে অবশ্যই পড়ুন প্রতিবেদনটি।
গুরু পূর্ণিমা ২০২৬ কত তারিখে? | Guru Purnima 2026 Date And Time |
বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুযায়ী, গুরু পূর্ণিমা ২০২৬ পালিত হবে আগামী ২৯ জুলাই বুধবার। বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এই দিনটি পড়ছে আগামী ১২ শ্রাবণ। তবে পূর্ণিমা তিথি শুরু হবে ২৮ জুলাই সন্ধ্যা ৬:১৮ মিনিটে এবং পূর্ণিমা তিথি শেষ হবে ২৯ জুলাই রাত ৮:০৫ মিনিটে। সেই সূত্র ধরে ২৯ জুলাই অর্থাৎ বুধবার পূর্ণিমা পালন করা হবে।
কেন পালন করা হয় গুরু পূর্ণিমা?
অজ্ঞানের অন্ধকার দূর করে জীবনে জ্ঞানের আলো ছড়ানোর জন্য গুরুদেবের অবদান সবসময় অনস্বীকার্য। হিন্দু বলুন বা বৌদ্ধ কিংবা জৈন, যে কোনও ধর্মে গুরু বা শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং কৃতজ্ঞতা ও সম্মান জানাতেই এই গুরু পূর্ণিমা পালন করা হয়। সনাতন ধর্মে এই দিনটিকে ব্যাস পূর্ণিমা বলা হয়ে থাকে। এমনকি মহাভারত, ১৮টি পুরান ও বেদ বিভাগের রচয়িতা মহর্ষি বেদব্যাস এই দিনটিতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন বলেই জানা যায়। তাঁর প্রতি সম্মান জানাতেই এই দিনটিতে গুরু পূর্ণিমা হিসেবে উদযাপিত হয়। এছাড়া বৌদ্ধ ধর্মে এই দিনটি আরও পবিত্র। কারণ, গৌতম বুদ্ধ বোধিলাভ করার পর উত্তরপ্রদেশের সারনাথে তাঁর প্রথম শীর্ষদের উপদেশ বা ধর্মচক্র প্রবর্তন করেছিলেন এই দিনটিতে।
গুরু পূর্ণিমার গুরুত্ব
‘গুরু’ শব্দটি ‘গু’ এবং ‘রু’ এই দুই সংস্কৃত শব্দ থেকেই এসেছে। ‘গু’ শব্দের অর্থ হলো অন্ধকার বা অজ্ঞতা, এবং ‘রু’ শব্দের অর্থ হল অন্ধকারকে দূর করা। ‘গুরু’ শব্দটি দ্বারা এরকম একজন ব্যক্তিকে নির্দেশ করা হয় যিনি অন্ধকার দূর করেন, অর্থাৎ জীবনকে অন্ধকার কাটিয়ে আলোতে নিয়ে যান, তিনিই গুরু। আর গুরু আমাদের মনের সমস্ত সংশয়, সন্দেহ, অন্ধকার দূর করেন ও নতুন পথের দিশা দেখান। সেই কারণেই এই দিনটিতে গুরুদেবকে শ্রদ্ধা জানিয়ে পালন করা হয়।
আরও পড়ুন: ২০২৬-এ বিপত্তারিণী পূজা কত তারিখে পড়ছে? দেখুন দিনক্ষণ, ব্রত পালনের নিয়ম
গুরু পূর্ণিমার করুন এই কাজ
বিশ্বাস করা হয়, গুরু পূর্ণিমার দিন বিশেষ কিছু কাজ করলে গুরুর কৃপা লাভ হয় এবং সমস্ত বিপদ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়, জীবনে অনেক উন্নতি লাভ করা যায়। সেগুলি হল—
- গুরু পূর্ণিমার এই বিশেষ দিনটিতে সূর্যোদয়ের আগে ঘুম থেকে ওঠার চেষ্টা করুন এবং বিছানা ছেড়ে তাড়াতাড়ি গঙ্গাস্নান করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন জামা কাপড় পরতে হবে।
- গুরু পূর্ণিমার দিন মা লক্ষ্মীর আরাধনা করতে পারেন। এমনকি বাড়ি থেকে কুপ্রভাব দূর করার জন্য সত্যনারায়ণ ব্রত করতে পারেন।
- আর্থিক সংকট দূর করার জন্য এদিন গৃহে প্রদীপ জ্বালানোর চেষ্টা করুন। আর মা লক্ষ্মীর কাছে নারকেলের নাড়ু বা লাড্ডু অর্পণ করার চেষ্টা করতে হবে।
- ব্যবসায় উন্নতি লাভ করতে হলে গুরু পূর্ণিমার দিন লাল কাপড়ে নারকেল মুড়িয়ে তাতে আটা এবং সিঁদুর লাগিয়ে চন্দ্রদেবকে অর্পণ করতে হবে।
- চন্দ্রের দোষ যদি আপনার থেকে থাকে, তাহলে এদিন চন্দ্রদেবের উপাসনা করুন, এবং সন্ধ্যাবেলা ধুপ, প্রদীপ জ্বালিয়ে চন্দ্রদেবকে জল অর্পণ করার চেষ্টা করুন।
- সবথেকে বড় ব্যাপার, এই দিনটিতে গরিব মানুষদেরকে অন্ন, বস্ত্র দান করার চেষ্টা করুন। এতে গুরুদেব এবং উপরওয়ালার কৃপা বর্ষিত হয়।










