৪০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক সংকটের মুখে বাংলাদেশ, বন্ধ ৫০০ কারখানা, ব্যর্থ তারেক!

Published:

Bangladesh Protest

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: দীর্ঘ 40 বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক সংকটের মুখে বাংলাদেশ (Bangladesh)! প্রতিবেশী দেশটিতে পোশাক শিল্পকে ঘিরে তৈরি হয়েছে চরম অস্থিরতা। শ্রমিক অসন্তোষ এবং বিক্ষোভের জেরে বাংলাদেশে ইতিমধ্যেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে প্রায় 500 কারখানা। বর্তমানে কাজ হারানোর আশঙ্কায় ওপার বাংলার অন্তত 10 লাখ শ্রমিক। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman)।

চরম অর্থনৈতিক মন্দার মুখে বাংলাদেশ!

গত শনিবার থেকেই বেতন, ভাতা বৃদ্ধি সহ একাধিক দাবি নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন বাংলাদেশের পোশাক শ্রমিকরা। বর্তমানে ওপার বাংলার পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম বেতন মাসিক সাড়ে 12 হাজার টাকা। তবে ওপারের শ্রমিকদের দাবি, তাঁদের ন্যূনতম মাসিক বেতন 30 হাজার টাকা করতে হবে। আর এমন দাবিতেই বাংলাদেশের গাজীপুর থেকে শুরু করে ঢাকা, সাভার এবং আশুলিয়ার মতো শিল্পাঞ্চলগুলিতে ছড়িয়ে পড়েছে বিক্ষোভেরা আগুন।

বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওপার বাংলার একাধিক জায়গায় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে এসে বিপদে পড়েছে পুলিশ! বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের সাথে খন্ড যুদ্ধ বেঁধেছে বিক্ষোভকারীদের। এমনকি পুলিশ বক্সে আগুন লাগিয়ে দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে। এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়েছে পুলিশও। পাশাপাশি জলকামান ব্যবহারের সাথে সাথে বিভিন্ন এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী।

যা খবর, সময় যত গড়াচ্ছে বাংলাদেশে বিক্ষোভ তত তীব্রতর হচ্ছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, দেশে মুদ্রাস্ফীতি মাত্রা ছাড়িয়েছে। বেড়েছে জীবনযাত্রার খরচ। এদিকে ন্যূনতম বেতন মাত্র সাড়ে 12 হাজার টাকা, এই টাকায় সংসার চলে না। তাই যত দ্রুত সম্ভব ন্যূনতম মাসিক বেতন 30 হাজার টাকা করতে হবে। মূলত এমন দাবি নিয়েই শ্রমিকরা রাস্তায় নামায় বাংলাদেশে বন্ধ হয়ে গিয়েছে প্রায় 500 কারখানা। ফের কবে খুলবে সেই উত্তর নেই কারও কাছে।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে অশান্তি, সুযোগ পেয়ে আফ্রিকা-ইউরোপে জ্বালানি পাঠাচ্ছে রিলায়েন্স, চাল আম্বানির!

এদিকে, পরিস্থিতি সামাল দিতে ছয় সদস্যের একটি নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে বাংলাদেশের সরকার। শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের শ্রমমন্ত্রী। তবে ইতিমধ্যেই শ্রমিকদের বিক্ষোভ এবং অস্থিরতার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশের রপ্তানি শিল্পে। কমবেশি সকলেরই জানা, পোশাক কারখানাগুলি বাংলাদেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড। বাংলাদেশের মোট রপ্তানিতে 80 শতাংশেরও বেশি অবদান রয়েছে এই পোশাক শিল্পের। আর সেই খাতই এখন বিপাকে! বিশেষজ্ঞ মহলের অনেকেই মনে করছেন, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে বড়সড় আর্থিক সংকট তৈরি হবে বাংলাদেশে।

google button