বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: আগেই মক্কা চুক্তিতে (Mecca Deal) সই করেছে তুরস্ক, পাকিস্তান এবং সৌদি আরব। মূলত পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সামরিক ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই স্বাক্ষরিত হয়েছে এই চুক্তি। জানা যাচ্ছে, এই বিশেষ চুক্তির অধীনে এবার এই তিন মুসলিম দেশ একে অপরের উপর হওয়া হামলাকে নিজেদের উপর হওয়া হামলা হিসেবেই দেখবে। আর এই মক্কা চুক্তিকেই বলা হচ্ছে ইসলামিক ন্যাটো (Islamic NATO)। রিপোর্ট অনুযায়ী, এবার মুসলিম দেশগুলির সেই জোটে অংশ নিতে পারে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় প্রতিবেশী বাংলাদেশও (Bangladesh)।
ভারতকে ঘিরে ফেলার ছক?
বাংলাদেশের তরফে জানানো হয়েছে, সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তান যে মক্কা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, মূলত কৌশলগত এবং অর্থনৈতিক স্বার্থের কথা বিবেচনা করে তারাও এই চুক্তির অংশ হতে পারে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির প্রতিরক্ষা চুক্তিতে ইতিমধ্যেই অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দিয়ে দিয়েছেন। তবে সেটা নাকি শুধুমাত্র নিজেদের স্বার্থের কথা ভেবেই।
বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম বিএসএস নিউজকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে তারেক রহমানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা কবির জানান, “বাংলাদেশ শুধুমাত্র নিজেদের স্বার্থ এবং বিশ্ব অর্থনীতি ও বাণিজ্য ক্ষেত্রে ঘটে চলা পরিবর্তনগুলিকে মাথায় রেখে সৌদি আরব, পাকিস্তান এবং তুরস্কের সাথে যেকোনও ধরনের অর্থনৈতিক বা প্রতিরক্ষা কাঠামোতে যোগদান নিয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক।” এক কথায়, খুব শীঘ্রই এই চুক্তিতে জুড়ে যেতে পারে ওপার বাংলার নামও।
আরও পড়ুন: সোমালিয়ায় অস্ত্র বোঝাই জাহাজে হামলা, ৬ ভারতীয়কে অপহরণ করে নিয়ে গেল জলদস্যুরা
এখন প্রশ্ন, চার মুসলিম দেশ মিলে বিশেষ চুক্তির অধীনে কি ভারতের বিরুদ্ধে কোনও চক কষছে? বিশেষজ্ঞ মহলের অনেকেই মনে করছেন, পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং তুরস্ক যে মক্কা চুক্তি করেছে তাতে বাংলাদেশ যুক্ত হলে চার দেশের একটি ইসলামিক ন্যাটো বা জোট গড়ে উঠতে পারে। যা ভারতের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগের হতে চলেছে। কারণ, শেখ হাসিনার পতনের পর থেকেই বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক খারাপ হয়েছে নয়া দিল্লির। ওপারের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চিন এবং পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক জোরদার করলেও নয়া দিল্লি সফর স্থগিত রেখেছেন। যদিও, মক্কা চুক্তি সংক্রান্ত সমস্ত গতিবিধির উপর কড়া নজর রাখছে ভারত।










