সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ইরান-আমেরিকার যুদ্ধ আবারও মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে চড়ল তেলের দাম (Brent Crude Price Hike)। হরমুজের উপর আধিপত্য বিস্তারে দুই দেশের যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়ার কারণে সোমবার তেলের দাম ফের ৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি প্রায় ৯০ ডলারে ঠেকেছে। তাই দেশের বাজারে আবারও পেট্রোল-ডিজেল নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে হরমুজ (Strait of Hormuz) থেকে বেরোনোর সময় থামার আদেশ অমান্য করার জেরে যুক্তরাষ্ট্র ওমান সাগরে একটি ইরানি পণ্যবাহী জাহাজ আটক করে। যে কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা। এমনকি শেয়ার বাজারেও পড়েছে প্রভাব।
ফের দাম বাড়ল অপরিশোধিত তেলের
বলে রাখি, দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হওয়ার কারণে এবং ইরান হরমুজ প্রণালী মুক্ত করে দেওয়ার ঘোষণা করাতেই তেলের দাম হু হু করে কমেছিল। তবে অস্থিরতার জেরে আবারও হরমুজ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয় ইরান। যে কারণে সোমবার ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের ফিউচার মূল্য আবারও ৮ শতাংশ বেড়েছে এবং নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ব্যারেল প্রতি ৮৯.১০ ডলার। অন্যদিকে ব্রেন্ট ক্রুডের ফিউচার মূল্য ব্যারেল প্রতি ৯৫ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। আর এই নতুন করে অস্থিরতার জেরে আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, ইরান এবং আমেরিকার সংঘাত আবারও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে এবং গোটাবিশ্বে তার প্রভাব পড়তে পারে। যার ফলে পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়ার আশঙ্কাও একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
এক্ষেত্রে জানিয়ে রাখি, রবিবার ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে, মার্কিন নৌ-বাহিনী হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ শুরু করবে। ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার জেরেও যুদ্ধ অবসানের কোনও চুক্তি না হওয়ার কারণে উত্তেজনা দিনের পর দিন বৃদ্ধি পাচ্ছিল। আর ট্রাম্পের এই ঘোষণায় দু’সপ্তাহ ধরেই যুদ্ধবিরতি ঝুঁকির মুখে পড়ে। তবে দুই দেশের মধ্যে শান্তি রক্ষা এবং সংঘর্ষ বিরতির কারণে ইরান হরমুজ খুলে দেওয়ার ঘোষণা করে। যে কারণে অনেকটাই দাম কমে তেলের। তবে কাজ হয়নি তাতে। আমেরিকা ফের ইরানের তৈলবাহী জাহাজ আটক করে এবং যে কারণে বাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা যায়।
আরও পড়ুন: বাতিল ৮৪০ কোটির তিস্তার দ্বিতীয় সেতুর টেন্ডার, ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ
শেয়ারবাজারেও পড়েছে প্রভাব
প্রসঙ্গত, ২০ এপ্রিল এশিয়ার বাজারগুলোতেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। ব্যাপক ক্রয় ও সাম্প্রতিক উচ্চতার কাছাকাছি ইতিবাচক গতির মুখে জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক দিনের শুরুতেই ৪৬০ পয়েন্ট বাড়ে। এমনকি দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচকও বাড়ে ০.৯৫%। আর ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং তেলের দামের ওঠানামা সামগ্রিক বাজারকে প্রভাবিত করলেও এশিয়ার প্রধান সূচকগুলি এখন ঊর্ধ্বমুখী। যদিও তেলের দাম নিয়ে থেকে যাচ্ছে অনিশ্চয়তা।










