সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: চাঞ্চল্যকর ঘটনা। একদিকে আদালতের চলছে মামলার শুনানি, আর ঠিক তার পাশের চেম্বারেই এক শীর্ষ পুলিশ কর্তার সঙ্গে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হলেন খোদ মহিলা বিচারক (Female Justice)। আমেরিকার জর্জিয়া প্রদেশের আটলান্টার একটি ফেডারেল আদালতে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি বর্তমানে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে একেবারে সাড়া ফেলে দিয়েছে (US Court Sexual Incident)। ব্লুমবার্গের রিপোর্ট অনুযায়ী, অভিযুক্ত ওই হাইপ্রোফাইল বিচারক এলিয়ানোর রস এবং আটলান্টা পুলিশ ডিপার্টমেন্টের ডেপুটি চিপ কেলি কলিয়ারের দীর্ঘকালীন গোপন সম্পর্ক। এবার এই ঘটনার জেরেই কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে মার্কিন জুডিশিয়াল কমিটি।
এজলাসের পাশে যৌন সম্পর্ক বিচারপতির
তদন্তের রিপোর্ট করে জানা গিয়েছে, গত দুই বছর ধরেই আটলান্টার ফেডারেল কোর্টে নিজের চেম্বারে ডিউটি চলাকালীন সময় নিয়মিত যৌন সংগ্রামে লিপ্ত হতেন বিচারক এলিয়ানোর রস এবং পুলিশ অফিসার কেলি কলিয়ার। এমনকি ওই যুগল যখন চেম্বারে দরজা বন্ধ করে দীর্ঘ সময় কাটাতেন, তখন বাইরে বসে থাকা আইনি সহকারীরাও অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতেন। কারণ, বিচারকের ব্যক্তিগত চেম্বার থেকে ভেসে আসা আওয়াজ বাইরে কর্মরত কর্মীদেরও কানে আসতো। তদন্তকারী দল জানিয়েছে যে, বিচারপতির এরকম কাণ্ডজ্ঞানহীন আচরণের জেরে আদালতের কর্মীদের কাজের স্বাভাবিক আর পেশাদার পরিবেশও বিঘ্নিত হচ্ছিল।
প্রাথমিক পর্যায়ে জুডিশিয়াল কমিটির সামনে বিচারক এলিয়ানোর রস ও পুলিশ আধিকারিক কেলি কলিয়ার উভয়ই তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন। কিন্তু তদন্ত কমিটি বেশি জলঘোলা না করে তাঁদের বিরুদ্ধে তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করেন। প্রমাণ মিলতেই বিচারকের বিরুদ্ধে বেশ কিছু কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করে মার্কিন ফেডারেল জুডিশিয়াল কমিটি। প্রথমত, ভবিষ্যতে ফেডারেল কোর্টের চিফ জাজ বা প্রধান বিচারক হওয়ার সমস্ত দরজা তাঁর জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয়ত, আদালতের কোনও বিচার বিভাগীয় বা জুডিশিয়াল কমিটিতে অংশ নেওয়ার অধিকারও তাঁর কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়। এবং তৃতীয়ত, নিজের কৃতকর্মের জন্য আদালতের অন্তত ছয়জন ক্লার্ক বা আইনি সহকারীর কাছ থেকে তিনি লিখিতভাবে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: কাগজের দিন শেষ! এবার বাজারে প্লাস্টিকের নোট আনতে চলেছে RBI
না বললেই নয়, মার্কিন রাজনীতির আঙিনায় বিচারক এলিয়ানোর রসের নাম বেশ পরিচিতি। ২০১৪ সালে আমেরিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার জামানায় তিনি জর্জিয়া উত্তর জেলার ফেডারাল কোর্টের জজ হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। তিনি এই আদালতের প্রথম মহিলা বিচারপতিও বটে। আর ব্যক্তিগত জীবনে তিনি জর্জিয়া স্টেট কোর্টের বিচারক ব্রায়ান রসের স্ত্রী। আবার অন্যদিকে কেলি কলিয়ার ১৯৯৮ সাল থেকেই আটলান্টা পুলিশে কর্মরত। প্রযুক্তি এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনার জন্য পুলিশ বিভাগেও তাঁর বিশেষ নামডাক রয়েছে। বর্তমানে তিনি আটলান্টা পুলিশের কমিউনিটি সার্ভিস ডিভিশনের ডেপুটি চিপ তথা কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করছেন। এই অপকর্মের জেরে তাঁর বিরুদ্ধেও একাধিক নোটিশ পাঠানো হয়েছে।










