বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ইরান যুদ্ধের কারণে ধাক্কা খেয়েছে বিশ্ব অর্থনীতি, সে কথা অস্বীকার করার জায়গা নেই (IMF On Iran War)। আন্তর্জাতিক অর্থ ভান্ডারও (International Monetary Fund) তাদের নতুন রিপোর্ট দাবি করছে, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত তথা ইরানের যুদ্ধের কারণে বিশ্ব অর্থনীতির গতি কমে এসেছে। নতুন বছর অর্থাৎ 2026 এর শুরুর দিকে যে গতি দেখা গিয়েছিল তা এখন কার্যত থমকে। IMF এর তরফে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির যে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল তা 3.4 শতাংশ থেকে কমিয়ে 3.1 শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। এই আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল বলছে, আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে বিশ্বের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার 2 শতাংশ নেমে আসতে পারে। এখন প্রশ্ন, ইরান যুদ্ধের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে কোন দেশের?
ইরান যুদ্ধের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কোন দেশ?
আমেরিকা, ইজরায়েল এবং ইরানের একটানা সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজার বড় ধাক্কা খেয়েছে। তেহরান হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ করে দেওয়ায় এই আন্তর্জাতিক জলপথ দিয়ে যথেচ্ছ জ্বালানিবাহী জাহাজ মারফত বাণিজ্য করতে পারছে না দেশগুলি। আজও হরমুজে আটকে রয়েছে বহু জাহাজ। সেই তালিকায় রয়েছে ভারতের পতাকা লাগানো জাহাজও। এসব নিয়েই আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডারের প্রধান অর্থনীতিবিদ পিয়ের অলিভিয়ের গৌরাঞ্চ জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি বড় আঘাত। এর ফলে তেল এবং অন্যান্য পণ্যের দাম বাড়ছে, যা মুদ্রাস্ফীতিকে উসকে দেবে। এর ফলে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমবে।
তিনি আরও জানান, এই যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে সরবরাহ শৃংখল এর উপর। হরমুজ প্রণালীতে অবরোধ এবং এর ফলে ওই অঞ্চলে হওয়া ক্ষয়ক্ষতি তেল সরবরাহকে প্রভাবিত করেছে। এর ফলে ধীরে ধীরে বেড়ে চলেছে তেলের দাম। যা প্রত্যেক দেশের মুদ্রাস্ফীতিকে উসকে দেবে তা বলাই যায়। বিগত দিনগুলিতে আমেরিকায় পেট্রোলের দাম ব্যাপক হারে বেড়েছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, তেলের এমন মূল্যবৃদ্ধির ফলে আমেরিকায় অর্থনৈতিক মন্দার ঝুঁকি বাড়ছে। এদিকে আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডারের দাবি, 2026 সালে মার্কিন অর্থনীতি 2.3 শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাবে, যা আনুমানিক পরিমাণের থেকে 0.1 শতাংশ কম।
এদিকে চিন ও কানাডার প্রবৃদ্ধি হার 0.1 শতাংশ হ্রাস পাবে বলেই পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক অর্থ ভান্ডার। যদিও 2027 সালের পূর্বাভাস বা ভবিষ্যতবানী অপরিবর্তিত রেখেছে IMF। একই সাথে ইরান যুদ্ধের কারণে ভারতে সাময়িক প্রভাব পড়লেও আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডারের মতে, ভারতের পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নত হচ্ছে। 2026 ও 2027 সালে ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস 0.1 শতাংশ করে বাড়িয়ে দিয়েছে IMF। আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডার অনুমান করছে 2026 ও 2027 এই দু বছর ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি 6.5 শতাংশ হারে হবে। ভারতের পাশাপাশি পাকিস্তানের অর্থনীতিতেও উন্নতি দেখতে পাচ্ছে IMF।
অবশ্যই পড়ুন: শীঘ্রই প্রকাশিত হবে উচ্চ মাধ্যমিকের রেজাল্ট, দেখতে পারবেন এক ক্লিকেই, জানুন
এছাড়াও ব্রাজিল এবং রাশিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নির্ধারিত পূর্বাভাস থেকে আরও 0.3 শতাংশ বাড়িয়ে দিয়েছে আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডার। তবে G7 এর দেশগুলির মধ্যে ব্রিটেনের অবস্থা সবচেয়ে ভয়ানক। ইরান যুদ্ধের কারণে এই দেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। IMF 2026 সালের হিসেবে এই দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার 0.5 পাঁচ শতাংশ কমিয়েছে। 2027 সালের মধ্যে এই দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার 1.3 শতাংশ থাকবে বলেই অনুমান। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের কারণে ধাক্কা খেয়েছে সৌদি আরবও। 2026 সালের হিসেবে এই দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার 1.4 শতাংশ কমানো হয়েছে। তবে 2027 এ গিয়ে এই দেশের উন্নতি হতে পারে।










