সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, অবশেষে জেল থেকে বেরলেন ইমরান খান! ভর্তি হাসপাতালে

Published:

Imran Khan

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: অবশেষে স্বস্তি পেলেন প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান (Imran Khan)। পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হল ইমরানকে। শুক্রবার ভোরে ইসলামাবাদের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে ৭৩ বছর বয়সী পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ প্রতিষ্ঠাতা প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা প্রধানমন্ত্রীকে। এমনকি হাসপাতালের বাইরে ভিড় জমাচ্ছেন তাঁর অনুগামীরা। তবে তাঁর শারীরিক অবস্থা বর্তমানে আশঙ্কাজনক বলেই খবর।

হাসপাতালে ভর্তি প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রী

ইমরানের দল এবং তাঁর পরিবারের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল, জেলের ভিতর ইমরান খানের শরীর ক্রমাগত খারাপের দিকে এগোচ্ছে। দ্রুত তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হোক। এমনকি আদিয়ালা জেলের সাম্প্রতিক একটি রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর শরীর নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল ইমরান খানের পরিবার। সেই সূত্র ধরে পাকিস্তানে সুপ্রিম কোর্ট ইমরানের চিকিৎসার জন্য একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করে তাঁকে অবিলম্বে হাসপাতালে ভর্তি করার নির্দেশ দিয়েছিল। সেই সূত্রেই ইমরান খানকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে তাঁর শারীরিক অবস্থার আপডেট এখনও সামনে আসেনি।

তবে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ফের পুনর্বিবেচনার আর্জি জানিয়েছে পাকিস্তানের শেহবাজ শরীফ সরকার। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতরের তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে, ইমরান খানকে যা সুবিধা দেওয়া হয়েছে তা আইনি বাধ্যবাধকতার মধ্যে পড়ে না। সেই কারণে সরকারের পক্ষ থেকে রিভিউ পিটিশন দাখিল করা হয়েছে। যদিও প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরানের দল সেই আবেদন প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। এমনকি দলের মহাসচিব জানিয়েছেন, ১৮ আগস্টের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ কার্যকর করার ক্ষেত্রে সরকার কোনও রকম অজুহাত দিতে পারে না।

আরও পড়ুন: ফের মধ্যবিত্তদের চাপ দিয়ে বাড়ল সোনা, রুপোর দাম! আজকের রেট

প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখি, ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলেছেন ইমরান খান। তবে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই তাঁর সঙ্গে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সম্পর্ক নিয়ে শুরু হয় টালবাহানা। এমনকি পরবর্তী সময়ে একাধিক দুর্নীতি মামলায় নাম জড়িয়ে পড়ে ইমরান খান এবং তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবির নামে। সেই সূত্রে আদালত ১৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল ইমরান খানদের। ২০২৩ সাল থেকে জেলবন্দি প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রী। তবে সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে বিভিন্ন রকম প্রশ্ন উঠেছে। সবদিক বিবেচনা করেই হাসপাতালে ভর্তির নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট।