বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: গঙ্গা জল বন্টন চুক্তি নিয়ে এবার বড় শর্ত দিল বাংলাদেশ (India-Bangladesh Ganges Treaty)। ভারতের (India) তরফে আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে জল বন্টন চুক্তি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলবে। এমতাবস্থায়, ওপার বাংলার জল সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী আনি জানিয়েছেন, ডিসেম্বরে শেষ হতে যাওয়া চুক্তিটি নবীকরণ করার আগে বাংলাদেশ এ নিয়ে নিশ্চয়তার একটি ধারা অন্তর্ভুক্ত করতে চায়। যার ফলে নদীর নিম্ন অববাহিকায় ন্যূনতম জল সরবরাহ নিশ্চিত হবে। বলাই বাহুল্য, বাংলাদেশের সাথে গঙ্গা জল বন্টন চুক্তি নবীকরণ করার আগে পশ্চিমবঙ্গ এবং বিহারের পরিস্থিতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলেই সূত্রের খবর।
জল বন্টন চুক্তি নিয়ে ভারতকে শর্ত বাংলাদেশের
দ্য প্রিন্টকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের জলসম্পদ মন্ত্রী আনি জানিয়েছেন, “1977 সালে ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছিল গঙ্গা জল বন্টন চুক্তি। সেই চুক্তির অন্যতম অংশ গ্যারান্টি ধারা। তবে 1996 সালে সেই ধারাকেই চুক্তি থেকে বাদ দেওয়া হয়। চুক্তি নবীকরণের ক্ষেত্রে আমরা যে বিষয়গুলির দাবি জানাচ্ছি তার মধ্যে অন্যতম গ্যারান্টি ধারা। এটা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এই চুক্তির ক্ষেত্রে দুই দেশের স্বার্থ অবশ্যই বিবেচনা করে দেখা উচিত।”
এদিন বাংলাদেশের ওই মন্ত্রী আরও বলেন, গ্যারান্টি ধারা যুক্ত করে গঙ্গা জল বন্টন চুক্তি নবীকরণ করা হলে ভারত এবং বাংলাদেশের সম্পর্ক অনেকটাই শক্তিশালী হবে। তাঁর দাবি, গঙ্গা জল বন্টন চুক্তির খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য খুব শীঘ্রই যৌথ নদী কমিশন বৈঠকে বসবে। 1972 সালে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত এই বিশেষ চুক্তি নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ের উপর আলোচনার জন্য শেষবারের মতো বৈঠক বসেছিল কলকাতায়। গত মে মাসে সেই বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
আরও পড়ুন: স্টেডিয়াম ভরা দর্শকে, মাঠের মধ্যেই প্যান্ট খুলে ফেললেন বৈভব সূর্যবংশী, ভিডিও ভাইরাল
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সাথে গঙ্গা জল বন্টন চুক্তি নবীকরণ করা নিয়ে এখনই কোনও সিদ্ধান্ত জানায়নি ভারত। আগামী 12 ডিসেম্বর শেষ হয়ে যাচ্ছে এই চুক্তির মেয়াদ। তবে নতুন করে এই চুক্তি নবীকরণ করা নিয়ে আপত্তি রয়েছে বিহারের একটা বড় অংশের। এ নিয়ে ইতিমধ্যেই আওয়াজ তুলেছেন রাজ্যসভার সাংসদ এবং জনতা দল (ইউনাইটেড)-এর জাতীয় সভাপতি সঞ্জয় কুমার ঝা। তাঁর দাবি, বাংলাদেশের সাথে এই চুক্তি পুরোপুরি বাতিল করতে হবে। মূলত বিহারের স্বার্থের কথা চিন্তা করেই এই দাবি করেছেন তিনি।










