হাওড়াগামী ট্রেনের কামরায় কালাচ সাপ! আতঙ্কে হুড়োহুড়ি যাত্রীদের, প্রশ্নের মুখে রেল

Published:

Venomous Snake in Katihar Express

অনন্যা সরকার, কলকাতা: বর্ষাকালে সাপের উপদ্রব সর্বত্র। গ্রাম গঞ্জের ঝোপঝাড় তো রয়েছেই, এমনকি শহুরে বাড়িগুলোতেও মাঝেমধ্যে হানা দিতে দেখা যায় এই সরীসৃপকে। কিন্তু এবার বিষধরের হাত থেকে মুক্তি পেল না ট্রেনও (Venomous Snake in train)। শনিবার রাতে হাওড়াগামী কাটিহার এক্সপ্রেসের কামরায় বিশাল বড় এক কালাচ সাপকে ঘুরে বেড়াতে দেখে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন যাত্রীরা। ওই কামড়ায় থাকা এক যাত্রী এই ঘটনার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্ট করেছেন (Viral Video)।  তারপর থেকেই তুমুল হৈচৈ পড়ে গিয়েছে সমাজ মাধ্যমে। যাত্রী সুরক্ষা নিয়ে বড় প্রশ্নের মুখে ভারতীয় রেল (Indian Railways)। 

কাটিহার এক্সপ্রেসের কামরায় কালাচের আতঙ্ক

কাটিহার-হাওড়া এক্সপ্রেসের যাত্রীরা জানিয়েছেন যে, শনিবার রাতে একটি নন-এসি রিসার্ভড কোচে যাত্রা করার সময় সাইড-লোয়ার বার্থের নীচে একটি সাপকে দেখতে পাওয়া যায়। সাপটি হঠাৎ সিটের তলা থেকে বেরিয়ে আসায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন যাত্রীরা। ভয়ে কামরায় ছোটাছুটি শুরু হয়ে যায়। এরপর সাপটি ট্রেনের ভেস্টিবিউলের দিকে এগিয়ে গিয়ে দরজার কোণে লুকিয়ে পড়ে।

দ্রুত খবর দেওয়া হয় আরপিএফ (RPF)-কে। তবে তাঁরা পৌঁছানোর আগেই বিষধর সাপটি দরজার পিছনে অদৃশ্য হয়ে যায়। ট্রেন থামিয়ে অনেকক্ষণ তল্লাশি চালিয়েও সেটিকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। রবিবার হাওড়া কার শেডে ট্রেনটি পরিষ্কার করার সময় সাপটির সন্ধান করার কথা রয়েছে। ফলে শনিবার সারারাত যাত্রীরা বিষধর সাপের সাথেই ভয়ে ভয়ে ট্রেনে ভ্রমণ করতে বাধ্য হন। 

আরও পড়ুন: ট্রেনের ভরসা ছাড়ুন, উত্তরবঙ্গ যাওয়ার অতিরিক্ত ৪০টি বাস চালাবে NBSTC

এই ঘটনাটি ভারতীয় রেলের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থার উদ্বেগজনক অবস্থাকে তুলে ধরেছে। যাত্রীরা ইতিমধ্যেই ট্রেনের ওই বিশাল সাপটির ছবি ও ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন। সূত্র মারফৎ জানা যাচ্ছে, এই বিষয়ে রেল কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে। জানিয়ে রাখি, বর্তমানে বিহারের বিস্তীর্ণ অঞ্চল বন্যায় প্লাবিত হয়েছে, ফলে সেখানে সাপের উপদ্রব বেড়েছে। এরকম অবস্থায় রেল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে যাত্রীদের নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ে আরও বেশি সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন ছিল, কিন্তু এই ঘটনা পরিষেবা সম্পর্কিত ব্যর্থতারই প্রমাণ দিচ্ছে।