সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ফের আতঙ্ক পশ্চিম বর্ধমানের অন্ডালে। শনিবার আচমকা বিকট শব্দে কেঁপে উঠল কুয়োর জল। এমনকি তার পরপরই নিমেষের মধ্যে ২০ ফুট নিচে নেমে গেল সেই জলস্তর। ঘটনায় অন্ডালের (Andal) ধান্দাডিহি (Dhandadihi) গ্রামে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, কয়েকদিন আগেই গ্রামের একটি অংশে মাটি ধসে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। এমনকি সেখান থেকে ধোঁয়া বের হতেও দেখা যায়। সবটাই ইসিএল-র গাফিলতি।
অন্ডালে বিকট শব্দে কেঁপে উঠল কুয়োর জল
আসলে দিন কয়েক আগেই ওই এলাকায় ইসিএল-র জমিতে ধসের পাশাপাশি মাটি থেকে আগুন এবং ধোঁয়া বের হতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, গত তিনদিন ধরে গ্রামের একটি অংশে মাটি থেকে আগুন এবং ধোঁয়া বের হচ্ছে। এমনকি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। এমনকি গ্রামবাসীদের অভিযোগ, ঘটনার তিনদিন পেরিয়ে গেলেও ইসিএল-র কোনও আধিকারিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেননি এবং কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে কোনও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। গ্রামের মানুষ রাষ্ট্রায়ত্ত ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেডের কাছে পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছিলেন।
তবে সেই ঘটনার ১০ দিন কাটতে না কাটতেই ছড়াল ফের আতঙ্ক। শনিবার আচমকা বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে কুয়োর জল। এমনকি তার পরপরই প্রায় ২০ ফুট নিচে নেমে যায় সেই জলের স্তর। মাটির নিচে ঠিক কী ঘটছে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন বাসিন্দারা। এমনকি মাটির নিচে আদৌ আগুন বা অন্য কোনও ভূগর্ভস্থ সমস্যা রয়েছে কিনা তা নিয়ে উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন তারা। স্থানীয় মানুষজন বাধ্য হয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন।
আরও পড়ুন: হাওড়াগামী ট্রেনের কামরায় কালাচ সাপ! আতঙ্কে হুড়োহুড়ি যাত্রীদের, প্রশ্নের মুখে রেল
এ বিষয়ে রানীগঞ্জের বিধায়ক পার্থ ঘোষ জানিয়েছেন, “ধান্দাডিহি ধস কবলিত এলাকা। তবে বারে বারে ধসের ঘটনা ঘটবে তা বরদাস্ত করা হবে না। ইসিএল কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। নাহলে এলাকার মানুষকে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।” নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দার কথায়, “হঠাৎ কাল ভোর পাঁচটার দিকে কেঁপে উঠল। সেই টাইমে আমি পার্টির লোক এবং গ্রামের লোকজনদের খবর দিলাম। পাশের বাড়িতেও ধস নেমেছে। বালি দিয়ে প্যাক করে দিয়েছি। তবে আমরা আতঙ্কে আছি।”










