বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: আজ যে বন্ধু, কাল সে শত্রুর আসনে। এটাই হল গোটা বিশ্বের বর্তমান পরিস্থিতি। কূটনীতির খেলায় একত্রিত না থাকলেও অনেক সময় স্বার্থের জন্য শত্রুও বন্ধু হয়েছে। সেই পর্বে দাঁড়িয়ে ভারতকেও ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখেই বুঝে চলতে হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি যাই হোক না কেন সন্ত্রাসবাদ নিয়ে নয়া দিল্লির অবস্থা চিরকালই এক। সন্ত্রাসবাদ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে এগোচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার (India On Terrorism)। এমতাবস্থায়, এশিয়া সোসাইটির মঞ্চ থেকে সেটাই আরও পরিষ্কার করে বুঝিয়ে দিলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। বার্তা দিলেন আমেরিকাকেও (America)।
আমেরিকাকে বড় বার্তা বিদেশমন্ত্রীর
সোমবার, এশিয়া সোসাইটির মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পাকিস্তানকে সতর্ক করলেন বিদেশ মন্ত্রী। সেই সাথে আমেরিকার মাটিতে দাঁড়িয়ে আমেরিকাকেই বড় বার্তা দিলেন তিনি। এদিন প্রাক্তন মার্কিন কূটনীতিক ড্যানিয়েল রাসেলের সাথে কথা বলার সময় ভারতের বিদেশ মন্ত্রী একেবারে খোলাখুলি জানালেন, সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারতের উদ্বেগ যদি আমেরিকা না বোঝে তবে পারস্পরিক সম্পর্কে তার প্রভাব পড়বে।
জয়শঙ্করের কথায়, “পৃথিবীতে এমন খুব কম সংখ্যক দেশ রয়েছে, যারা আমাদের মতো প্রতিনিয়ত প্রতিবেশী দেশের মদতে সন্ত্রাসবাদের শিকার হচ্ছে।” এদিন পাকিস্তানের নাম উল্লেখ না করলেও ঘুরিয়ে ইসলামাবাদকেই ঠুকেছেন বিদেশমন্ত্রী! তিনি আরও বলেন, “সীমান্ত সন্ত্রাস আমাদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়। আর এই বিষয়টা বুঝতে হবে বন্ধু রাষ্ট্রগুলিকে। সেখানে দাঁড়িয়ে যদি ভারতের অংশীদাররা দ্বিচারিতা করে, আমাদের সমস্যা না বোঝে তাহলে কূটনৈতিক সম্পর্ক খারাপ হবে।”
সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারতের অবস্থান বুঝিয়ে বিদেশমন্ত্রী কার্যত স্পষ্ট করে দেন, সন্ত্রাসবাদ নিয়ে যদি আমেরিকার সাথে সাথে ভারতের সমস্যা কোনও বন্ধু দেশ না বোঝে তবে সেটা ভারতের জন্য সত্যিই দুঃখের। আর এতে দুই দেশের সম্পর্ক খারাপ হবেই! বিশ্বের বর্তমান পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে যেখানে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে বারবার পাকিস্তানকে ছাড় দিয়ে আসছে আমেরিকা, সেই পর্বে আমেরিকার মাটিতে দাঁড়িয়ে ভারতের বিদেশমন্ত্রীর এমন মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক মহলের একটা বড় অংশ।
Glad to speak at @AsiaSociety at the end of the #UNHighLevelWeek. Thank @dannyrrussel for the conversation. Highlighted the following points:
✅ The difficult state of the world, with multiple conflicts and the 4F (food, fuel, fertiliser & finance) crisis.
✅ The paradox of… pic.twitter.com/KBiGHPwf1e
— Dr. S. Jaishankar (@DrSJaishankar) September 29, 2026
আরও পড়ুন: তারেকের সরকার ফেলতে বিরাট ষড়যন্ত্র, বাংলাদেশে পৌঁছল ১০ হাজার রাইফেল!
এদিন ভারতের বিদেশমন্ত্রীর এমন মন্তব্যের পর অনেকেই মনে করছেন, সাম্প্রতিক সময় সন্ত্রাসবাদকে মদত দেওয়ার পরেও পাকিস্তানকে নানা ভাবে সমর্থন করার জন্যই এবার আমেরিকাকে স্পষ্ট ভাষায় কঠিন বার্তা দিলেন জয়শঙ্কর। এদিন সন্ত্রাসবাদ নিয়ে কথা বলার পাশাপাশি দুই দেশের বাণিজ্য নিয়েও মুখ খোলেন বিদেশমন্ত্রী। জানান, ভারত এবং আমেরিকার বাণিজ্য চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। হঠাৎ করে আমেরিকা শুল্ক নীতিতে বদল আনায় চুক্তি চূড়ান্ত হতে দেরি হচ্ছে।










