ইরান হরমুজ প্রণালী খুলে দিতেই কমল তেলের দাম, এবার কত হল?

Published:

Strait of Hormuz

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দীর্ঘ ৪৯ দিন পর খুলে দেওয়া হল হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz)। শেষ হতে চলেছে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ (Iran-United States War)! দুই দেশের মধ্যেই শান্তির চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। গতকাল অর্থাৎ ১৭ এপ্রিল ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি নিজের এক্স পোস্টে জানিয়েছেন যে, সব দেশের জন্যই এবার হরমুজ খুলে দেওয়া হচ্ছে। আর এই ঘোষণার পরেই একধাক্কায় অপরিশোধিত তেলের দাম তলানিতে ঠেকেছে। তাহলে কি দেশে জ্বালানির সংকট কাটতে চলেছে?

খুলে দেওয়া হল হরমুজ প্রণালী

গতকাল সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি পোস্ট করে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, লেবাননের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরেই হরমুজ প্রণালী সকল দেশের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হল। ৪৯ দিন পর এই পথ খোলার ঘোষণা করা হয়েছে ইরানের তরফ থেকে। বিদেশমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, ইরান এবং রাশিয়ার মধ্যেও সমঝোতা সম্পন্ন হয়েছে। জ্বালানি বহনকারী জাহাজগুলি এবার অনায়াসে এই পথ দিয়ে চলাচল করতে পারবে।

উল্লেখ করে রাখি, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান, আমেরিকা এবং ইজরায়েলের মধ্যে চলা সংঘাতের জেরে তেহরান হরমুজ বন্ধ করে দেয়। যার জেরে গোটা বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেল এবং গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে, এবং ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৬৫ ডলার থেকে বেড়ে একেবারে ১২০ ডলারে পৌঁছে যায়। যার ফলে পেট্রোল, ডিজেল এবং এলপিজি সিলিন্ডারের দামও বেড়ে যায়। এমনকি জ্বালানি সংকটে হাহাকার পরে। কারণ, এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই বিশ্বের ২০% তেল আমদানি ও রফতানি হয়। এমনকি প্রতিদিন প্রায় ১৪০ থেকে ১৫০টি তেলবাহী জাহাজ এর মধ্য দিয়ে যাতায়াত করে, যেগুলি প্রায় ১৮ থেকে ২০ বিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বহন করে।

একধাক্কায় কমে গেল অপরিশোধিত তেলের দাম

এদিকে ইরান হরমুজ প্রণালী খোলার ঘোষণা করার সঙ্গে সঙ্গেই অপরিশোধিত তেলের দাম এক ঝটকায় কমে গিয়েছে। হ্যাঁ, নিমেষের মধ্যেই ১০ শতাংশ কমে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ৯.২১ ডলার পতন হয়ে দাঁড়িয়েছে ৮৯.৮ ডলারে। অন্যদিকে শুক্রবার ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দাম ১১.৩৫ শতাংশ কমেছে। হিসাবে ১০.৫৮ ডলার কমে নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ৮৩ ডলার। পাশাপাশি গ্যাসের দামও ৭.৩৯ শতাংশ কমেছে।

আরও পড়ুন: IPL-র মাঝেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় ICU-তে তারকা ক্রিকেটার

ভারত তাদের তেল এবং গ্যাসের চাহিদা মেটাতে সিংহভাগ আমদানির উপরে নির্ভর করে থাকে। তবে এর মধ্যে ৪০ শতাংশের বেশি অপরিশোধিত তেল এবং ৫৪% এলএনজি এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই আসে। বিশেষ করে পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মাঝে অবস্থিত এই পথটি মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে ভারতের যাতায়াতের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই এই প্রণালী খুলে দেওয়ায় দেশে তেল ও গ্যাসের সংকট লাঘব হবে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।