বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ভারতের আমদানি সংক্রান্ত কিছু নিষেধাজ্ঞার কারণে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নেপাল (Nepal)। দিল্লির সেফগার্ড শুল্ক আরোপের কারণে গত আর্থিক বছরে নেপালের ইস্পাত রপ্তানি 62.43 শতাংশ কমেছে। গত আর্থিক বছরে নেপাল 6.14 বিলিয়ন রুপির লোহা এবং ইস্পাত রপ্তানি করেছে, যেখানে এর আগের বছর পরিমাণটা ছিল 16.35 বিলিয়ন রুপি। এর অর্থ, ভারতের (India) এক সিদ্ধান্তে নেপালের ক্ষতি হয়েছে 10 বিলিয়ন রুপির। যার প্রভাব সরাসরি গিয়ে পড়েছে দেশটির কর্মসংস্থান এবং রাজস্বের উপর।
রেহাই পেতে মরিয়া নেপাল
দ্য কাঠমান্ডু পোস্টের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত সপ্তাহে ভারত এবং নেপালের মধ্যে দিল্লিতে অন্ত-সরকার উপকমিটির একটি বৈঠক হয়েছিল। সেই বৈঠকেই নয়া দিল্লির কাছে নেপালের পাট এবং ইস্পাত পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে যে সমস্যাগুলি রয়েছে তার সমাধানের জন্য অনুরোধ জানানো হয় কাঠমান্ডুর তরফে। এ নিয়ে নেপালের রপ্তানিকারকরা বলছেন, পাট এবং ইস্পাত পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে ভারত কিছু নিষেধাজ্ঞা চাপানোয় ব্যবসায় বিরাট ক্ষতি হচ্ছে তাঁদের।
অন্যদিকে, ভারতের উৎপাদকরা বলছেন, পাট এবং ইস্পাত পণ্যের ক্ষেত্রে নেপালের উপর নির্ভরশীল হয়ে থাকলে দেশীয় পণ্যের উৎপাদন ব্যাহত হবে। তাই দেশীয় উৎপাদন যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেজন্যই নেপালের পাট এবং ইস্পাত পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে শুক্ল জারি করেছে নয়া দিল্লি। গত ডিসেম্বর মাসে সস্তা আমদানি আটকাতে ভারত নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের উপর তিন বছরের জন্য সুরক্ষামূলক শুল্ক আরোপ করেছিল।
ভারতের এই শুল্ক মূলত চিন, নেপাল এবং ভিয়েতনাম থেকে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। প্রথম বছরে এই শুল্ক 12 শতাংশ, দ্বিতীয় বছরে 11.5 শতাংশ এবং তৃতীয় বছরে শুল্কের পরিমাণ কমে 11 শতাংশ হওয়ার কথা। আসলে স্টেনলেস স্টিল সহ ইস্পাতের ক্ষেত্রে এই শুল্ক অনুমোদন করেছিল ভারত। আসলে ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ইস্পাত উৎপাদক দেশ হওয়ায় সুরক্ষামূলক শুল্ক অনুমোদন করেছিল নয়া দিল্লি।
আরও পড়ুন: প্রয়াত কৃষ্ণা মুখোপাধ্যায়, মাতৃহারা হলেন অভিনেত্রী রানী মুখার্জী
এদিকে ভারতের এই শুল্কের চাপে পড়ে ধুঁকছে নেপাল! নেপালের ব্যবসায়ীদের দাবি, ভারতের এই সুরক্ষামূলক শুল্ক নাকি অন্যায্য। কারণ, নেপাল একটি স্বল্পোন্নত দেশ হওয়ায় এর অর্থনীতি তুলনামূলকভাবে দুর্বল। এদিকে নেপালের অন্যতম বড় ইস্পাত উৎপাদনকারী সংস্থা হুলাস স্টিল ইন্ডাস্ট্রিজের সুনীল মানোত বলেন, রপ্তানি বন্ধ থাকায় নেপালে ইস্পাতের উৎপাদন ক্ষমতা 20 শতাংশে নেমে গিয়েছে। আসলে ভারত নেপালের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। নেপালের মোট বাণিজ্যে 60 শতাংশের বেশি অবদান রয়েছে ভারতের। এমতাবস্থায়, নয়া দিল্লির সুরক্ষামূলক শুল্ক ও কিছু নিষেধাজ্ঞার কারণে চরম বিপাকে পড়ে রেহাই পেতে মরিয়া বালেন শাহের সরকার।










