বড়সড় অর্থনৈতিক সঙ্কটের মুখে পাকিস্তান! দেশে মাত্র ৫-৭ দিনের তেল মজুদ

Published:

Pakistan

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আর হরমুজ প্রণালীত (Strait of Hormuz) সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি এখন ১২৬ ডলারে পৌঁছে গিয়েছে। আর এই পরিস্থিতিতে নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তার একেবারে কঙ্কালসার দশা প্রকাশ করে পাকিস্তানের (Pakistan) পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী আলী পারভেজ মালিক হাসির খোরাক জুগিয়েছে। এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেছেন যে, ভারতের মতো বিপুল পরিমাণ তেল মজুদ রাখার ক্ষমতা পাকিস্তানের নেই। যা আছে তা ৫ থেকে ৭ দিনের।

মজুদ মাত্র কয়েকদিনের তেল

পাক মন্ত্রী আলী পারভেজ মালিক জানিয়েছেন, পাকিস্তানের কোনও রাষ্ট্রীয় তেল ভাণ্ডার নেই। যা আছে তা কেবলমাত্র বাণিজ্যিক প্রয়োজনে মজুদ রাখা তেল। তিনি বলেছেন, আমাদের কাছে মাত্র পাঁচ থেকে সাত দিনের তেল মজুদ রয়েছে। অথচ ভারতের ক্ষেত্রে চিত্রটা সম্পূর্ণ আলাদা। ভারত সরকার স্রেফ একটা সই করলেই তাদের বিশাল পরিমাণ ভাণ্ডার থেকে তেল ব্যবহার করতে পারে।

এদিকে ভারতের সঙ্গে তুলনা টেনে পাক মন্ত্রী ভারতের আর্থিক শক্তির প্রশংসা করেছেন। তাঁর কথায়, ভারতের কাছে কৌশলগত আর বাণিজ্যিক মিলিয়ে আনুমানিক ৬০ থেকে ৭০ দিনের তেল মজুদ থাকে। আর ভারতের ৬০০ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার তাদের এই সংকটে রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে। বিশ্ববাজারে দাম বাড়লেও ভারত সরকার ট্যাক্স কমিয়ে পেট্রোল–ডিজেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। যেখানে দিল্লিতে পেট্রোলের দাম লিটার প্রতি ৯৪.৭৭ টাকা, সেখানে পাকিস্তানে একেবারে আকাশছোঁয়া।

এদিকে জ্বালানির দাম হু হু করে বাড়ার কারণে পাকিস্তানের সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করেছে। এক ধাক্কায় পেট্রোলের দাম ৪২.৭ শতাংশ বাড়িয়ে ৩২১.১৭ টাকা থেকে ৪৫৮.৪১ পাকিস্তানি রুপি করা হয়েছিল। তবে জনরোষের মুখে পড়ে প্রধানমন্ত্রী শরীফ দাম কিছুটা কমিয়ে ৩৭৮ টাকা করলেও তাতে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ এখনও পর্যন্ত কমেনি। কারণ, তেলের অভাবের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা দিনের পর দিন তলানিতে ঠেকছে।

এমনকি আলী পারভেজ মালিক আরও জানিয়েছেন যে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফ-র কঠিন শর্তের কারণে পাকিস্তান সরকার চাইলেও সাধারণ মানুষকে খুব একটা স্বস্তি দিতে পারছে না। তিনি জানিয়েছেন, ডিজেলের দাম ৩ থেকে ৪ গুণ বেড়ে যাওয়ার কারণে আমরা ডিজেলের উপর শুল্ক শূন্য করে দিয়েছি। সেই বোঝা পেট্রোলের উপর চাপানো হয়েছে। কিন্তু মোটরসাইকেল চালকদের জন্য বিশেষ ভর্তুকির ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে। এতে পাকিস্তান আরও বড় অর্থনৈতিক সংকটে পড়তে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

আরও পড়ুন: এবার ট্রেনেই মিলবে বিমানের মতো পরিষেবা, তৈরি হবে প্রিমিয়াম এক্সিকিউটিভ পড

জানিয়ে দিই, ভারতের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের কাছে এখনও পর্যন্ত বর্তমানে প্রায় ৬০ দিনের তেল মজুদ রয়েছে। এর পাশাপাশি ৮ লক্ষ টন এলপিজি মজুদ রাখা রয়েছে জরুরি অবস্থার জন্য। আর ভারতের এই পরিকল্পনাই আজ বিশ্ববাজারে টালমাটাল পরিস্থিতিতে দেশবাসীকে স্বস্তি দিচ্ছে।