বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের (Sergio Gor) সাথে বৈঠকের কথা বলেও তা ভেস্তে দিয়েছিল মালদ্বীপ! একাধিক রিপোর্ট অনুযায়ী, গত মার্চ মাসে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মহম্মদ মইজ্জুর সাথে একটি বৈঠক করার কথা ছিল ভারতে নিযুক্ত আমেরিকান রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোরের। সেই মতোই দ্বীপ রাষ্ট্রটিতে পৌঁছে মালদ্বীপের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সাথে সাক্ষাৎ করলেও প্রেসিডেন্ট মইজ্জুর সাথে সাক্ষাৎ করার আগেই বিশেষ বৈঠক বাতিল করে দেয় মালদ্বীপ। কিন্তু কেন? জানা গেল আসল কারণ।
কেন গোরের সাথে বৈঠকে বসলেন না মইজ্জু?
গত 23 মার্চ মালদ্বীপ সফর করেছিলেন ভারতে নিযুক্ত আমেরিকার রাষ্ট্রদূত। সেখানে পৌঁছে মালদ্বীপ সরকারের অন্যান্য প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক করার পাশাপাশি রাষ্ট্রটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন তিনি। পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট মইজ্জুর সাথে খোলাখুলি বৈঠকের কথা থাকলেও মালদ্বীপের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয় মইজ্জু এখনই বৈঠকে যেতে পারবেন না। কিন্তু কেন মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাথে বৈঠক করলেন না মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট?
হিন্দুস্থান টাইমসের একটি রিপোর্ট দাবি করছে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের বৈঠক বাতিল করার সিদ্ধান্ত ভারতে নিযুক্ত আমেরিকার রাষ্ট্রদূতকে জানানো হলে তিনি কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে মইজ্জুর দপ্তরের সাথে যোগাযোগ করেন। একই সাথে বাতিলের সিদ্ধান্ত আরও একবার পুনরায় বিবেচনা করতে বলেন। মার্কিন প্রতিনিধির এমন অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে মালদ্বীপের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়, মইজ্জু তাঁর সাথে গোপনে, রুদ্ধদ্বার বৈঠক করতে রাজি। যদিও এমন প্রস্তাবে সাড়া দেননি গোর। যার কারণে গোটা বৈঠক ভেস্তে যায়।
অবশ্যই পড়ুন: জ্বালাপোড়া গরমের মাঝে দক্ষিণবঙ্গে দুর্যোগ! কোথায় কোথায় বৃষ্টি? আগামীকালের আবহাওয়া
স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে কেন খোলাখুলি গোরের সাথে দেখা করতে চাইলেন না মইজ্জু? মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট খোলাখুলি বৈঠকে রাজি না হওয়ায় মালদ্বীপ থেকে সোজা দিল্লিতে চলে আসেন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত। কিন্তু কোন কারণে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাথে সর্বসমক্ষে বৈঠক করা গেল না, কেন আলাদা করে গোপনে বৈঠক করার প্রয়োজন পড়বে এসব নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও এ বিষয়ে মুখ খোলেনি কোনও পক্ষই। তবে সূত্রের খবর, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইরানের উপর মার্কিন হামলার ঘোর বিরোধিতা করেন। তাছাড়াও ইজরায়েল এবং সে দেশের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর কট্টর বিরোধী মইজ্জু। এদিকে ইজরায়েল এবং আমেরিকাই ইরানের উপর যৌথভাবে হামলা চালিয়েছে। তাই ট্রাম্প ঘনিষ্ঠ মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাথে বৈঠক করে তিনি ইরানকে এমনটা বোঝাতে চাননি যে তিনি ইরানে হাওয়া হামলার সমর্থন করছেন।










