ফ্রিতে ৪০ লাখ মানুষ ব্যবহার করছে বিদ্যুৎ! কীভাবে আবেদন পিএম সূর্য ঘর প্রকল্পে?

Published:

Free Electricity

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দেশের সাধারণ মানুষকে বিদ্যুতের বিলের হাত থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য আর সৌরশক্তির প্রসার ঘটাতে কেন্দ্র সরকারের পিএম সূর্য ঘর মুক্ত বিজলি যোজনা (Pradhan Mantri Surya Ghar Muft Bijli Yojana) এবার বিরাট মাইলফলক স্পর্শ করে ফেলল। সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশে রেকর্ড ৪০ লক্ষের বেশি পরিবার এই বিনামূল্যে বিদ্যুৎ (Free Electricity) পাওয়ার প্রকল্পে নিজেদের নাম নথিভুক্ত করিয়ে ফেলেছেন।

সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, বর্তমানে দেশে সৌরশক্তি গ্রহণের গতি একেবারে রেকর্ড স্তরে পৌঁছেছে। এখন প্রতি ৮ দিনে প্রায় ১ লক্ষ মানুষ নিজেদের বাড়িতে সোলার প্যানেল বসিয়ে নিচ্ছেন। যা আগে সম্পন্ন হতে প্রায় ৪৭ দিন সময় লাগত। অর্থাৎ, বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে আনুমানিক ১২,০০০ নতুন মানুষ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের আওতায় সুবিধা নিচ্ছেন। কিন্তু আপনিও কীভাবে আবেদন করবেন? সেটাই জানাবো এই প্রতিবেদনে।

কী এই পিএম সূর্যঘর মুক্ত বিজলি যোজনা?

জানিয়ে দিই, ২০২৪ এর ফেব্রুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাত ধরে এই প্রকল্পটি চালু করা হয়। এর মূল লক্ষ্য হল আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের মধ্যে দেশের অন্তত ১ কোটি মধ্যবিত্ত পরিবারের ছাদ সোলার প্যানেল বসানো। নবীন ও পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ মার্চ পর্যন্ত সারা দেশে ইতিমধ্যেই ২৬.১৯ লক্ষের বেশি পরিবার সোলার প্যানেল বসানোর কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। এমনকি এই প্রকল্প চালু হওয়ার পর থেকে যোগ্য উপভোক্তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ভর্তুকি বাবদ সরকারের মোট ১৭,৯৬৭ কোটি টাকার বেশি খরচ হয়েছে।

গ্রাহকরা কী কী সুবিধা পাবে এই প্রকল্পে?

এই প্রকল্পে সঙ্গে যুক্ত হলে গ্রাহকরা তিনটি বড় বড় আর্থিক সুবিধা পাবেন। সেগুলি হল—

  • প্রথমত, ছাদে সোলার প্যানেল থেকে উৎপন্ন বিদ্যুৎ ব্যবহারের পর প্রতি মাসে সবথেকে বেশি ৩০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ব্যবহার করা যাবে। ফলে বিল অনেকটাই কম আসবে।
  • দ্বিতীয়ত, এই প্রকল্পে ভর্তুকি বাবদ সরকার সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার টাকা পর্যন্ত দিয়ে থাকে। তবে প্যানেল হিসাবে ভর্তুকির টাকা নির্ভর করে।
  • তৃতীয়ত, আপনার বাড়িতে উৎপাদিত সোলার বিদ্যুৎ যদি আপনার ব্যবহারের থেকে বেশি হয়ে যায়, তাহলে নেট মিটিং এর সাহায্যে বিক্রি করে অতিরিক্ত টাকা উপার্জন করতে পারেন।

কারা এই প্রকল্পের জন্য যোগ্য?

কেন্দ্রীয় এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য আবেদনকারীকে অবশ্যই কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়। সেগুলি হল—

  • আবেদনকারীকে প্রথমত ভারতীয় নাগরিক হতে হবে।
  • দ্বিতীয়ত, নিজের একটি পাকা বাড়ি থাকতে হবে আর ছাদে সোলার প্যানেল বসানোর জন্য উপযুক্ত জায়গা থাকতে হবে।
  • তৃতীয়ত, বৈধ এবং সচল আবাসিক বিদ্যুৎ সংযোগ থাকতে হবে।
  • এছাড়া আগে কোনও রুফটপ সোলার প্রকল্পের ভর্তুকির সুবিধা নেওয়া যাবে না।

কত টাকা সুবিধা মেলে?

এই প্রকল্পে আপনার মাসিক বিদ্যুতের খরচের উপর ভিত্তি করে কী পরিমাণ সোলার প্যানেল বসানো হবে তার উপর ভিত্তি করেই সরকার সাহায্য করবে। সেক্ষেত্রে ০ থেকে ১৫০ ইউনিট মাসিক বিদ্যুৎ খরচ হলে ১ থেকে ২ কিলোওয়াট প্যানেল বসাতে পারেন। তখন সরকার ৩০ হাজার টাকা থেকে ৬০ হাজার টাকা সহযোগিতা করবে। যদি ১৫০ থেকে ৩০০ ইউনিট বিদ্যুৎ লাগে, তাহলে ২ থেকে ৩ কিলোওয়াট প্যানেল বসাতে পারেন। সেক্ষেত্রে সরকার ৬০ হাজার থেকে ৭৮ হাজার টাকা খরচ করবে। আর যদি ৩০০ ইউনিটের বেশি বিদ্যুৎ লাগে, তাহলে ৩ কিলোওয়াটের বেশি প্যানেলে বসাতে হবে। সেক্ষেত্রে সরকার সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার টাকা পর্যন্ত সাহায্য করবে।

আরও পড়ুন: রবিতেও তুমুল ঝড়, বৃষ্টির সতর্কতা দক্ষিণবঙ্গের জেলায় জেলায়, আগামীকালের আবহাওয়া

কীভাবে অনলাইনে আবেদন করবেন?

এই প্রকল্প সরাসরি অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করা যায়। এর জন্য নিম্নলিখিত ধাপগুলো অনুসরণ করুন—

  • সর্বপ্রথম যে কোনও ব্রাউজারে গিয়ে পিএম সূর্যঘর বিজলি প্রকল্পের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট pmsuryaghar.gov.in এ ভিজিট করুন।
  • তারপর নতুন আবেদনকারী হলে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করুন। সেক্ষেত্রে মোবাইল নাম্বার এবং ইমেইল আইডি লাগবে।
  • এরপর লগইন করে রুফটপ সোলারের জন্য থাকা ফর্মটিকে সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে।
  • ফর্ম সাবমিট করার পর স্থানীয় ডিসকম আধিকারিকরা খতিয়ে দেখে তা অনুমোদন করবে।
  • ডিসকম অনুমোদনের পর পোর্টালে থাকা যে কোনও নিবন্ধিত বা অনুমোদিত বিক্রেতার কাছ থেকে আপনি বাড়িতে ছাদে সোলার সিস্টেম ইনস্টল করে নিতে পারবেন।
  • আর সোলার সিস্টেম বসানো সম্পন্ন হয়ে গেলে পোর্টালে নেট মিটারিং স্থাপনের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তারপর আধিকারিকরা মিটার পরীক্ষা করে কমিশনিং সার্টিফিকেট জারি করবে।
  • সার্টিফিকেট পাওয়ার পর আপনার ব্যাংকের পাশবইয়ের প্রথম পাতার স্পষ্ট ছবি আপলোড করতে হবে। আর সম্পূর্ণ যাচাইকরণ সম্পন্ন হওয়ার সর্বোচ্চ ১৫ দিনের মধ্যেই ভর্তুকির টাকা সরাসরি আপনার অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।