ইরানের সাথে আমেরিকার শান্তি চুক্তির পর খুলছে হরমুজ, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ট্রাম্পের

Published:

Iran-United States Deal

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: অবশেষে মিটছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ! ইরানের সঙ্গে সম্পন্ন হল আমেরিকার শান্তি চুক্তি (Iran-United States Deal)। খুলে দেওয়া হল হরমুজ। এমনকি এই প্রণালী থেকে মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়া হয়েছে বলে জানান ট্রাম্প (Donald Trump)। আমেরিকা এবং ইরান দুই পক্ষই এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। তাহলে কি দেশের জ্বালানি সংকট দূর হবে? যদিও এখনও পর্যন্ত আমেরিকা এবং ইরানের চুক্তি খাতায়কলমে স্বাক্ষর হয়নি বলেই খবর। আগামী ১৯ জুন তাতে শিলমোহর পড়বে। তারপর থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে জাহাজ চলাচল।

অবসান হল মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ

এদিন নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছেন, “সকলকে অভিনন্দন। ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এই ঐতিহাসিক চুক্তি সমগ্র অঞ্চলের নিরাপত্তা এবং শান্তি ফিরিয়ে আনবে। আমার আগে অনেক রাষ্ট্রপতি ইরানের সঙ্গে শান্তি স্থাপনের চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তারা সবাই ব্যর্থ হয়েছেন। এই প্রথমবার এই অঞ্চলের নেতারা এরকম একজন প্রেসিডেন্টকে পেয়েছেন, যিনি তাঁদের প্রকৃত শান্তি অর্জন করতে সাহায্য করেছেন। আগামী শুক্রবার এই চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হবে। আমি হরমুজ প্রণালী থেকে মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার নির্দেশ দিচ্ছি। সারা পৃথিবীর জাহাজ তাদের ইঞ্জিন চালু করুক। তেল পরিবাহিত হোক।”

বলে রাখা প্রয়োজন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা, ইজরায়েলের এবং ইরানের মধ্যে এই যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটে। বিশেষ করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে যৌথভাবে নিকেশ করে আমেরিকা এবং ইজরায়েল। আর তারপর থেকেই তেহরান পশ্চিম এশিয়ার মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে একাধিক হামলা চালাতে শুরু করে। আর সেখান থেকেই বন্ধ করে দেওয়া হয় হরমুজ প্রণালী। এমনকি এই প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর উপরেও করা হয় হামলা। ট্রাম্প জানিয়েছেন, সমস্ত চুক্তি সইসাবত হলে মাইন সরানোর কাজে এগোবে। আর হরমুজের দুই দিক দিয়েই তখন তেল পরিবহন সম্ভব হবে।

জানা যাচ্ছে, চুক্তির ভিত্তিতেই হরমুজকে সম্পূর্ণ মুক্ত করা হবে। ইরান এই প্রণালী খুলে দেবে। অন্যদিকে আমেরিকা অবরোধ তুলবে। এমনকি আরও এক শর্তে আমেরিকা ইরানের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে বলে জানানো হয়। আর নতুন করে কোনও নিষেধাজ্ঞাও চাপানো হবে না। যার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে খুব সহজেই ইরান তেল বিক্রি করতে পারবে। এমনকি একইসঙ্গে আমেরিকা ইরানের যে ২৫ বিলিয়ন ডলার বাজেয়াপ্ত করেছে তাও ফেরত দেবে বলে অফিসিয়ালভাবে জানানো হয়েছে। বিনিময়ে ইরানকে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে যে তারা আর কোনও পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না।

আরও পড়ুন: দিঘায় পর্যটকদের আর দিতে হবে না চাঁদা, বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

যদিও শনিবার ট্রাম্প জানিয়েছিলেন যে রবিবার ইরানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হবে, এবং তেহরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির তাতে মতামত রয়েছে। এমনকি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফও রবিবার এই চুক্তির কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান। কিন্তু ইরান তাতে নিশ্চয়তা দেয়নি। বরং তাদের বিদেশ মন্ত্রকের তরফ থেকে দাবি করা হয়েছিল যে রবিবার চুক্তি হচ্ছে না। কয়েকদিনের মধ্যে হতে পারে। কিন্তু সোমবার ভোরে ট্রাম্প নিজেই একথা সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘোষণা করেন।