অনন্যা সরকার, কলকাতা: দীপাবলির আগে ঘর-বাড়ি পরিষ্কার করা একটা চিরাচরিত রীতি। গোটা দেশের মানুষ উৎসবের আনন্দে মেতে ওঠার আগে নিজের বাড়িকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে সাজিয়ে তোলেন। তবে আমরা ঘর, রান্নাঘর, বাথরুম পরিষ্কারের ওপর বেশি মনোযোগ দিলেও, ছাদে রাখা জলের ট্যাঙ্কটি (Water Tank) অবহেলিত হয়ে পড়ে থাকে। কিন্তু বছরে একবার অন্তত জলের ট্যাঙ্কটি পরিষ্কার করা অত্যন্ত জরুরি। দীর্ঘ সময় ধরে ট্যাঙ্ক পরিষ্কার না করলে এর তলদেশে পলি মাটি, ধুলোবালি, পাতা এবং অন্যান্য দূষণ সৃষ্টিকারী পদার্থ জমা হতে থাকে, যা রোজকার কাজে ব্যবহৃত জলের গুণমান নষ্ট করে দেয়। তবে ট্যাঙ্কের ভেতরে ঢুকে পরিষ্কার করা অনেকের কাছেই একটা বড় ঝক্কি। কিন্তু ভিতরে না ঢুকেও ট্যাঙ্ক পরিষ্কার করা সম্ভব। কীভাবে? আসুন জেনে নেওয়া যাক।
জলের ট্যাঙ্ক পরিষ্কার করা কেন প্রয়োজন?
ছাদের ওপর রাখা জলের ট্যাঙ্কে দৈনন্দিন প্রয়োজনে ব্যবহৃত জল জমা করে রাখা হয়। এই ট্যাঙ্কের ঢাকনা খোলা থাকলে,নাবা তাতে ফাঁক থাকলে সহজেই ধুলোবালি, পাতা ও আবর্জনা ভেতরে ঢুকে পড়তে পারে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ট্যাঙ্কের দেওয়ালে পিচ্ছিল আস্তরণ, শ্যাওলা বা পলি জমতে শুরু করে। তাই নিয়মিত ট্যাঙ্কের ভিতরের অবস্থা নজরে রাখা ও এটি পরিষ্কার করা খুবই জরুরি। ট্যাঙ্কের মধ্যে যাতে ধুলো, বালি, ময়লা না ঢোকে, তাই ট্যাঙ্কের সমস্ত মুখ বা খোলা অংশ ভালোভাবে বন্ধ আছে কিনা, তা খেয়াল রাখতে হবে।
ট্যাঙ্কের ভেতরে না ঢুকে পরিষ্কার করার পদ্ধতি
ট্যাঙ্কটি ভেতর থেকে পরিষ্কার করার জন্য প্রথমেই জল সরবরাহ বন্ধ করে ট্যাঙ্ক থেকে সব জল বের করে দিন। এরপর, লম্বা হাতলযুক্ত ব্রাশ ব্যবহার করে ট্যাঙ্কের বাইরের দিক থেকে ভেতরের দেওয়াল ও তলদেশ ঘষে পরিষ্কার করুন। এই পদ্ধতিতে ট্যাঙ্কের ভেতরে ঢোকার প্রয়োজন পড়ে না ও শারীরিক পরিশ্রমও কম হয়। ভেতরের অংশ পরিষ্কার করার জন্য একটি লম্বা লাঠির মাথায় ব্রাশ লাগিয়ে নিতে পারেন।
আরও পড়ুন: সার থেকে ঘর পরিষ্কার, ডিমের খোসা না ফেলে এভাবে করুন ব্যবহার
তলদেশে জমে থাকা পলি বা তলানি পরিষ্কার করতে উপযুক্ত ওয়াটার ড্রেনেজ পাম্প কিংবা ওয়েট-ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ব্যবহার করতে পারেন। তবে, নীচে দিকে জমে থাকা জল তোলার জন্য সাধারণ ঘরোয়া ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ব্যবহার করবেন না। নোংরা জল বের করে দেওয়ার পর, লম্বা হাতলযুক্ত ব্রাশ দিয়ে অবশিষ্ট ময়লা ঘষে পরিষ্কার করে ফেলুন।
জলের ট্যাঙ্কটি যে উপাদান দিয়ে তৈরি, তার সঙ্গে মানানসই ক্লিনিং এজেন্ট ব্যবহার করুন এবং প্রস্তুতকারকের নির্দেশাবলী মেনে চলুন। অ্যাসিড, ব্লিচ বা অন্যান্য রাসায়নিক কখনোই একে অপরের সঙ্গে মেশাবেন না, কারণ এই উপাদানগুলির বিক্রিয়ায় বিষাক্ত গ্যাস তৈরি হতে পারে। পরিষ্কার করার সময় হাতে গ্লাভস, মুখে মাস্ক এবং চোখের সুরক্ষার জন্য চশমা বা গগলস ব্যবহার করা উচিত।
শুধু ট্যাঙ্কের ভিতরের অংশই নয়, ট্যাঙ্কের ঢাকনা ও পাইপগুলোও পরীক্ষা করুন। কোথাও কোনো ফাটল থাকলে, ঢাকনা আলগা হয়ে থাকলে বা পাইপের ভেতর ময়লা জমে থাকলে – তা আগেই ঠিক করে নিন। তা নাহলে জল দূষিত হওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যাবে। পরিষ্কার করার পর, ট্যাঙ্কটিকে পরিষ্কার জল দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া প্রয়োজন, যাতে ডিটারজেন্ট বা রাসায়নিক ক্লিনারের কোনো অবশিষ্টাংশ না থাকে। এরপর, ট্যাঙ্কের ঢাকনা শক্ত করে আটকে দিন ও খেয়াল রাখুন যেন ছাদের ওপর জল বা আবর্জনা না জমে। নিয়মিত যত্ন ও সামান্য সতর্কতার মাধ্যমে দীপাবলিতে বাড়িঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কাজ সহজ হয়ে উঠবে এবং প্রতিদিনের ব্যবহৃত জলও নিরাপদ ও পরিষ্কার থাকবে।










