আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: জলখাবার থেকে মধ্যাহ্নভোজ, ডিমের ব্যবহার সর্বত্র। ডিম (Egg) রান্না করার সময় সাধারণত খোসাটা (Eggshell) ফেলে দেওয়া হয়। অনেকেই জানেন না এই ফেলে দেওয়া বর্জ্য থেকে কত কিছু তৈরি হতে পারে। বাগানের পরিচর্যা থেকে শুরু করে কম্পোস্ট তৈরি, ছোট গাছের চারা লাগানো কিংবা সৃজনশীলতা বৃদ্ধি, বিভিন্ন ক্ষেত্রেই ডিমের খোসা এক কথায় অপরিহার্য। চলুন দেখে নেওয়া যাক এই খোসার কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার।
১. গাছের মাটিতে ক্যালসিয়াম যোগ করতে
ডিমের খোসায় ক্যালসিয়াম কার্বনেট থাকে। খোসা ভালোভাবে শুকিয়ে গুঁড়ো করে অল্প পরিমাণে মাটিতে মিশিয়ে দিতে পারেন। তবে এই খোসা কিন্তু সহজে পচে না এবং এর ক্যালসিয়াম গাছের কাজে লাগতে সময় লাগে। তাই দ্রুত ফল পাওয়ার আশা করবেন না।
২. বাড়িতে কম্পোস্ট তৈরিতে
রান্নাঘরের জৈব বর্জ্য দিয়ে যাঁরা কম্পোস্ট তৈরি করেন, তাঁরা ডিমের খোসা ছোট ছোট টুকরো করে তাতে মেশাতে পারেন। এতে কম্পোস্টে ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ উপাদান যোগ হয়। খোসা যত ছোট করে ভাঙা হবে, তত দ্রুত কম্পোস্টে মিশে যাবে।
৩. ছোট গাছের চারা তৈরিতে
ডিমের খোসা অর্ধেক করে কেটে সেটিকে ছোট পাত্রের মতো ব্যবহার করা যায়। এর মধ্যে মাটি ভরে ছোট বীজ বপন করা সম্ভব। চারাটি বড় হলে উপযুক্ত সময়ে বড় পাত্রে বা জমিতে স্থানান্তর করতে হবে।
৪. সাদা কাপড়ের উজ্জ্বলতা ফেরাতে
সাদা কাপড়ের জেল্লা বাড়াতে ডিমের খোসা ব্যবহার করা যেতে পারে। এই পদ্ধতিতে পরিষ্কার ডিমের খোসা ছোট ছোট টুকরো করে একটি কাপড়ের থলিতে ভরে তার সঙ্গে কয়েক টুকরো লেবু দিয়ে ওয়াশিং মেশিনে ফেলে দিন। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, এতে কাপড়ের হলদেটে দাগ দূর হয়। তবে এর কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই, তাই ব্যবহারের আগে ভালো করে বিবেচনা করে নেবেন।
৫. সিঙ্ক পরিষ্কারের কাজে
ডিমের খোসার গুঁড়োকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার পদ্ধতিতে হিসেবেও ব্যবহার করা হয়। তবে খোসার শক্ত কণা ঘষলে কিছু পাত্রে দাগ পড়ে যেতে পারে। তাই স্টেইনলেস স্টিল, কাচ, নন-স্টিক বাসন বা সহজে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এমন বাসনে এটি ব্যবহার না করাই ভালো।
৬. বাসনের একগুঁয়ে দাগ তুলতে
ঘরোয়া পদ্ধতিতে ডিমের খোসার গুঁড়ো ও ডিশওয়াশ একসঙ্গে ব্যবহার করে বাসনের জেদী দাগ ঘষে তুলে ফেলা সম্ভব।
৭. হাতের কাজ ও সাজসজ্জায়
ডিমের খোসার টুকরো দিয়ে মোজাইক ধরনের শিল্পকর্ম, ছবির ফ্রেম সাজানো কিংবা বিভিন্ন DIY ক্রাফট তৈরি করা যায়। রং করে বা বিভিন্ন আকারে সাজিয়ে এগুলি দিয়ে সৃজনশীল কাজ করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে খোসা পরিষ্কার করে ধুয়ে সম্পূর্ণ শুকিয়ে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
৮. ঘরে তৈরি চক বানানো
কিছু DIY পদ্ধতিতে ডিমের খোসার গুঁড়ো, ময়দা ও জল মিশিয়ে চক তৈরি করা যেতে পারে। এটি মূলত ঘরোয়া কারুশিল্পের একটি প্রক্রিয়া। এতে বাজারে পাওয়া চক-এর মতো একই মান বা কার্যকারিতা পাওয়া যাবে না।
৯. পাখির জন্য ক্যালসিয়ামের উৎস হিসেবে
কিছু পাখির খাদ্যতালিকায় ক্যালসিয়াম গুরুত্বপূর্ণ। তবে শুধু ডিমের খোসা দিলেই পাখির সমস্ত পুষ্টির চাহিদা পূরণ হবে না। খোসা ব্যবহার করতে হলে যথাযথভাবে পরিষ্কার ও গরম করে জীবাণুর ঝুঁকি কমাতে হবে। পাশাপাশি পাখির প্রজাতি অনুযায়ী বুঝেশুনে তাদের খাদ্য তালিকায় এটি ব্যবহার করতে পারেন।
১০. বাগানের পোকামাকড় দূরে রাখতে
ডিমের খোসা ফেলে না দিয়ে ছোট ছোট টুকরো করে গাছের গোড়ার চারপাশে ছড়িয়ে দিতে পারেন। প্রচলিত ঘরোয়া পদ্ধতি অনুযায়ী, খোসার ধারালো প্রান্তের কারণে শামুক ও স্লাগের মতো কিছু নরম দেহের প্রাণী গাছের কাছে আসতে বাধা পায়।
আরও পড়ুন: রাতেই কেন হয় কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো? জানুন আসল কারণ
ব্যবহারের আগে যে বিষয়গুলি মনে রাখবেন
- খোসা ভালোভাবে ধুয়ে শুকিয়ে নিন।
- কাঁচা ডিমের অবশিষ্টাংশ থেকে জীবাণু ছড়ানোর ঝুঁকি এড়াতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন।
- ত্বকের যত্নে ডিমের খোসার গুঁড়ো সরাসরি ব্যবহার করবেন না।
- মিক্সারের ব্লেড ধারালো করতে ডিমের খোসা ব্যবহার করার প্রচলিত টোটকার উপর নির্ভর করবেন না। এতে ব্লেড ধারালো হওয়ার নিশ্চয়তা নেই এবং যন্ত্রের ক্ষতি হতে পারে।










