অনন্যা সরকার, কলকাতা: সামনেই দুর্গাপুজো। হাতে সময় অল্প, কিন্তু ওজন ঝরাতে চান কয়েক কেজি – কাজটা কিন্তু মোটেই সহজ নয়। চটজলদি রোগা হওয়ার কোনও শর্ট কাট নেই। ওজন কমাতে গেলে বেশ কয়েকটি ধাপ পেরোতেই হবে এবং কোনও ধাপে ফাঁকি মারা যাবে না। ব্যায়াম থেকে শুরু করে ডায়েট পর্যন্ত – সতর্ক হয়ে মনোযোগের সাথে অনুসরণ না করলে ওজন সেই একই জায়গায় আটকে থাকবে। কোনমতে খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করা গেলেওকখনও কখনও ব্যায়ামের ব্যাপারে আলসেমি চলে আসে। সকালে ঘুম থেকে উঠে জিমে যাওয়ার কথা ভাবলেও, রোগা হওয়ার স্বপ্নটা চোখের সামনে ঝাপসা হতে থাকে। কিন্তু রোগা হওয়ার জার্নিতে যদি ব্যায়ামের ওপর জোর দেওয়া হয়, তাহলে ওজন কমানোর পথ অনেক মসৃণ হয়ে যায়। তবে, ব্যায়াম না করলে যে একেবারেই রোগা হওয়া যাবে না এমনটা নয়। মেদ কমানোর ক্ষেত্রে ব্যায়ামের অনেক বিকল্প রয়েছে (Weight Loss Tips)। শরীরচর্চার বদলে যদি কয়েকটি নিয়ম মেনে চলা যায়, তাহলে বিনা ব্যায়ামেও পুজোর আগে কিছুটা মেদ ঝরিয়ে ফেলতে পারবেন। চলুন তাহলে এই উপায়গুলি দেখে নেওয়া যাক।
বেশি পরিমাণে জল পান করা
দ্রুত ওজন কমানোর একটি ভালো উপায় হল প্রচুর পরিমাণে জল পান করা। তবে, জল পানের কিছু নিয়ম আছে। নিয়ম মেনে জল খেলে ক্ষিদে কমবে এবং হজমের সমস্যাও দূর হবে। এতে বাড়বে ওজন কমার সম্ভাবনা। বিশেষ করে দুপুরের বা রাতের খাবারের আগে জল পান করা যেতে পারে। এতে বেশি খাবার খাওয়ার অভ্যাস দূর হবে।
বেশি পরিমাণে প্রোটিন খাওয়া
কম খেলেই যে ওজন কমবে, এমনটা নয়। খাদ্যতালিকায় কী ধরনের খাবার রয়েছে, সেটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ওজন কমানোর পর্যায়ে বেশি করে প্রোটিন খেতে হবে। তাই দুধ এবং ওটসের পরিবর্তে ডিম বা মাংসের মতো প্রোটিন-সমৃদ্ধ খাবার বেশি পরিমাণে খান। শরীরে যত বেশি প্রোটিন থাকবে, চর্বি কমানো তত সহজ হবে। এছাড়া, শরীর পর্যাপ্ত প্রোটিন পেলে ক্ষিদে কম পাবে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতাও কমবে।
আরও পড়ুন: পুজোর আগেই মুখে কালো দাগ দূর করুন এই ৩ ঘরোয়া ফেসপ্যাকই
তাড়াহুড়ো করে না খাওয়া
ধীরে ধীরে ও অল্প পরিমাণে নিয়ে খেলে ওজন কমানোর জার্নিতে ভালো ফল মেলে। খাবার গেলার আগে ভালোভাবে চিবিয়ে নিতে হবে। ক্ষিদে মিটে গেলে মস্তিষ্ক শরীরকে সংকেত পাঠায়, কিন্তু এই প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগে। তাই, ধীরে ধীরে খাবার খাওয়া অনুশীলন করুন। আপনি আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন কি না, তা নির্ভর করে খাবার শেষ করতে কতটা সময় নিচ্ছেন তার ওপর। খাওয়ার সময় তাড়াহুড়ো না করার চেষ্টা করতে হবে, যাতে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করা
মানসিক চাপ বেশি থাকলে ওজন বাড়বে। তাই সবার আগে উদ্বেগ ও মানসিক চাপ থেকে দূরে থাকা দরকার। প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করতে হবে। কোনো নির্দিষ্ট কারণে মানসিক চাপ থাকলে, তা সমাধান করার চেষ্টা করুন। নিজের মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের উপায়গুলি খুঁজে বের করুন। এক্ষেত্রে যোগব্যায়াম অনেকটাই সাহায্য করতে পারে। ধ্যান মানসিক চাপ কমাতে ভীষণই সাহায্য করে।
আরও পড়ুন: ২৮ জন ডাক্তার, ৩ জন IAS! দেশের সবচেয়ে শিক্ষিত পরিবার জ্ঞানেশ কুমারেরই
পর্যাপ্ত মাত্রায় ঘুমানো
যদি পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম না হয়, তাহলে বডি মাস ইনডেক্স (BMI) বেড়ে যাওয়ায় সম্ভাবনা থাকে। আর বডি মাস ইনডেক্স বাড়ার অর্থই হল ওজন বৃদ্ধি। ডাক্তাররা বলেন, একজন প্রাপ্তবয়স্কের দিনে অন্তত ৬ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুমের প্রয়োজন রয়েছে। যদি শরীর পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশ্রাম পায়, তাহলে শরীর ভেতর ও বাইরে – দু’দিক থেকেই সুস্থ থাকবে এবং ওজনও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।










