সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বর্তমানে আলোচনার শিরোনামে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তাঁর পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা এক অভিযোগকে কেন্দ্র করেই এখন তোলপাড় গোটা দেশের রাজনীতি। তবে দেশের সবচেয়ে শিক্ষিত ও সম্ভ্রান্ত পরিবারগুলির কথা উঠলে জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) পরিবারের নাম একেবারে শীর্ষে থাকে। জানলে অবাক হবেন, তাঁর পরিবারে রয়েছেন ২৮ জন ডাক্তার, ৩ জন আইএএস এবং ১ জন আইআরএস।
জ্ঞানেশ কুমারের পরিবার নিয়ে অজানা তথ্য
২০২৫ এর ফেব্রুয়ারি মাসে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন জ্ঞানেশ কুমার। কেরালা ক্যাডারের ১৯৮৮ ব্যাচের প্রাক্তন আইএএস কর্মকর্তা এবং আইআইটি কানপুরের প্রাক্তন ছাত্র তিনি। এর আগে দেশের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে তাঁর গোটা পরিবার দেশের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ সিভিল সার্ভিস এবং চিকিৎসাক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত। বর্তমানে জ্ঞানেশ কুমারের মেয়ে এবং জামাই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলির দায়িত্বে রয়েছেন। কেউ সামলাচ্ছেন ডিএম-র দায়িত্ব, আবার কেউ শ্রীনগর ও আগ্রায় আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে নিযুক্ত।
অন্যদিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পরিবারে তাঁর জ্যেষ্ঠ কন্যাসহ অন্যান্যরাও রয়েছেন উচ্চতর সব পদে। তবে খবরের শিরোনামে কেনই বা থাকেন মেধা রূপম? আসলে জ্ঞানেশ কন্যা মেধা রূপম একজন আইএএস অফিসার। বর্তমানে তিনি নয়ডার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে তাঁর প্রশাসনিক কাজের জন্য আলোচনার শিরোনামে। তিনি পড়াশোনা করেছেন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বনামধন্য সেন্ট স্টিফেনস কলেজে। জানলে অবাক হবেন, মেধা রূপম ইউপিএসসি পরীক্ষায় সর্বভারতীয় মেধাতালিকায় ১০তম র্যাঙ্ক অর্জন করেন এবং উত্তরপ্রদেশ ক্যাডারের ২০১৪ ব্যাচের একজন আইএএস অফিসার হিসেবে নিযুক্ত হন।
এদিকে আইএএস মেধা রূপমের স্বামী তথা জ্ঞানেশ কুমারের বড় জামাই মনিষ বনসালও ২০১৪ ব্যাচের একজন আইএএস অফিসার। তিনি ইউপিএসসি পরীক্ষায় সর্বভারতীয় মেধাতালিকায় ৫৩তম স্থান অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি আগ্রা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে জ্ঞানেশ কুমারের ছোট মেয়ে অভ্রিশিও তাঁর বড় বোনের মতো দিল্লির সেন্ট স্টিফেনস কলেজ থেকে উচ্চশিক্ষা লাভ করে পরবর্তী সময়ে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ২০১৭ ব্যাচের একজন আইআরএস অফিসার হিসেবে নিযুক্ত হন। বর্তমানে তিনি আয়কর বিভাগের সহকারী কমিশনার হিসেবে কর্মরত।
আরও পড়ুন: ফের অভিষেকের নিরাপত্তায় কাটছাঁট, শান্তিনিকেতনের সামনে থেকে সরল পুলিশ কিয়স্ক
পাশাপাশি আইআরএস অফিসার অভ্রিশির স্বামী তথা জ্ঞানেশ কুমারের ছোট জামাই অক্ষয় লাবরু ২০১৬ সালে ইউপিএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে একজন আইএএস অফিসার হন। তিনিও ২০১৭ ব্যাচের একজন সিভিল সার্ভিস অফিসার। বর্তমানে তিনি জম্মু ও কাশ্মীরের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাম ডেপুটি কমিশনার হিসেবে কর্মরত। অন্যদিকে জ্ঞানেশ কুমারের বাবা এবং মা দুজনেই চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর ভাই মনোজ কুমার একজন আইআরএস অফিসার। এমনকি সংবাদমাধ্যমের বেশ কিছু প্রতিবেদন অনুযায়ী, জ্ঞানেশের পুরো পরিবারে বর্তমানে প্রায় ২৮ জন চিকিৎসক রয়েছেন এবং তাঁরা সকলেই চিকিৎসা ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত।










