আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: চিয়া হোক বা ফ্ল্যাক্স কিংবা অন্য কোনও বীজ, এখন অনেকেরই খাদ্য তালিকায় এগুলি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সেই তালিকায় সূর্যমুখীর বীজ (Sunflower Seeds) অন্যতম, যার পোশাকি নাম সানফ্লাওয়ার সিডস। ভিটামিন ই, ম্যাগনেশিয়াম-সহ নানা পুষ্টি উপাদান থাকায় অনেকেই তাদের ডায়েটে এটিকে স্বচ্ছন্দে গ্রহণ করেছেন। তবে বাজারে এই বীজের দাম শুনলে যে কোনও মধ্যবিত্ত পরিবারেরই চোখ কপালে উঠবে। দাম তুলনামূলকভাবে অনেকটাই বেশি হওয়ায় নিয়মিত কেনা অনেকের পক্ষে সম্ভব হয়ে উঠে না। তাই বাড়িতে যদি সূর্যমুখীর গাছ থাকে, তাহলে তার শুকিয়ে যাওয়া ফুল থেকেই বীজ সংগ্রহ করে নেওয়া যায়। এর জন্য বিশেষ কোনও যন্ত্রপাতিরও প্রয়োজন হয়না।
কখন ফুল থেকে বীজ সংগ্রহ করবেন?
ফুল ফুটলেই সঙ্গে সঙ্গে সেখান থেকে বীজ সংগ্রহ করা যাবে না। ফুলের পাপড়ি শুকিয়ে ঝরে যাওয়ার পর যখন পিছনের অংশের রং সবুজ থেকে হলুদ বা বাদামি হতে শুরু করবে, তখনই বুঝতে হবে বীজ ধীরে ধীরে বের করে নেওয়ার উপযোগী হচ্ছে। একইসঙ্গে ফুলের মাথা ধীরে ধীরে নীচের দিকে ঝুঁকে পড়বে এবং গাছের পাতাতেও শুকনো ভাব দেখা যাবে। শুকনো ফুলে আঙুল ঘষলে যদি বীজ সহজেই আলাদা হয়ে আসে, তাহলে সংগ্রহের সময় হয়েছে। এই পর্যায়ে অবশ্য পাখি পিঁপড়ে এবং অন্যান্য পোকামাকড়ের হাত থেকে ফুলটিকে বাঁচিয়ে রাখাও জরুরি। এই পরিস্থিতিতে ফুলটিকে হালকা কাপড় বা কাগজের ব্যাগ দিয়ে ঢেকে রাখা যায়, যাতে ভিতরে বাতাস চলাচল করতে পারে।
শুকনো ফুল থেকে বীজ বের করার সহজ পদ্ধতি
ফুল পুরোপুরি পরিণত হলে সেটিকে গাছ থেকে কেটে নিতে হবে। কেটে নেওয়ার সময় কয়েক ইঞ্চি ডাল রাখলে ফুলটি আরও তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যায়। আবহাওয়া স্যাঁতসেঁতে হলে ফুল গাছে না রেখে ঘরের ভিতরে শুকিয়ে নেওয়াই ভালো। কয়েকটি ফুল একসঙ্গে বেঁধে উল্টো করে এমন জায়গায় ঝুলিয়ে দিতে হবে যেখানে আলো কম আসে, বাতাস চলাচল করে এবং জায়গাটি শুকনো। কয়েক সপ্তাহ ভালোভাবে শুকিয়ে নেওয়ার পর বড় কোনও পাত্রের উপর ফুলটি রেখে হাত দিয়ে মাঝের অংশ ঘষলেই বীজ ঝরে পড়বে। প্রয়োজনে শক্ত ব্রাশ দিয়েও আলতো করে ঘষে নেওয়া যায়।
আরও পড়ুন: মুছল আগের সরকারের চিহ্ন, দিঘা গেটের মাথা থেকে সরল বিশ্ব বাংলা লোগো
বীজ সংগ্রহের পর কী করবেন?
বীজগুলি আলাদা করার পরই কিন্তু খেয়ে ফেলা যাবে না। আগে ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে। এরপর ওভেনে প্রায় ২০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় কয়েক মিনিট রোস্ট করে নিলেই এটি খাওয়ার উপযোগী হয়ে উঠবে। ওভেন না থাকলে গ্যাসে শুকনো কড়াইয়েও ভেজে নেওয়া সম্ভব। নোনতা স্বাদ পেতে গেলে নুন জলে কিছুক্ষণ সেদ্ধ করে নিয়ে জল ঝরিয়ে শুকিয়ে রোস্ট করা যায়। চাইলে কিছু স্বাস্থ্যকর ও মোটা বীজ পরের বার গাছ লাগানোর জন্য রেখে দেওয়া যেতে পারে। সম্পূর্ণ শুকিয়ে যাওয়ার পর সেগুলি পরিষ্কার, শুকনো এবং সহজে হাওয়া ঢুকবে না এমন পাত্রে রাখলেই কাজ শেষ। তবে সবচেয়ে বড় ব্যাপার, এই বীজ প্রতি কেজিতে ২৫০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করে আয় করা যায়।










