এবার থেকে অল্প খরচেই পাবেন খাঁটি ২৪ ক্যারেট সোনা, ইলেকট্রনিক গোল্ড চালু করল NSE

Published:

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই সোনায় (NSE Electronic Gold) বিনিয়োগ করেন কমবেশি প্রত্যেকেই। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সোনার দামে যে হারে উত্থান পতন দেখা যাচ্ছে তাতে এখনই ফিজিকাল গোল্ড কিনবেন কিনা তা বুঝে উঠতে পারছেন না ক্রেতারা। তাছাড়াও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, শুধুমাত্র বিনিয়োগের জন্য সোনা কেনার কথা ভাবলে ফিজিক্যাল গোল্ডের থেকে ডিজিটাল গোল্ড অনেক বেশি ভাল বিকল্প। কেননা, সোনা কেনার পর পরবর্তীতে তা বিক্রি করতে গেলে মেকিং চার্জ তো বাদ যায় তাছাড়াও অনেক সময় সোনার বিশুদ্ধতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। মূলত এইসব সমস্যা দূর করতেই এবার ইলেকট্রনিক গোল্ড রিসিপ্টস চালু করল ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ বা NSE।

অল্প খরচে 24 ক্যারেট সোনা কেনার সুযোগ!

প্রথমেই বলে রাখি ইলেক্ট্রনিক গোল্ড রিসিপ্টস বা EGR হল ফিজিক্যাল বা ভৌত সোনার ডিজিটাল প্রমাণ। অর্থাৎ যখন আপনি সোনা কিনবেন তখন একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ফিজিক্যাল গোল্ড আপনার নামে SEBI এর মাধ্যমে একটি সুরক্ষিত ভল্টে জমা হবে। শেয়ার বা বন্ডের মতোই এই সোনা আপনার ডিম্যাট অ্যাকাউন্টে জমা থাকবে। আপনার সঞ্চিত সোনা সুরক্ষিত রাখার দায়িত্বে থাকবেন লাইসেন্সপ্রাপ্ত ভল্ট ম্যানেজার। এক্ষেত্রে আপনাকে আলাদা করে সোনার নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তা করতে হবে না।

বলে রাখি, NSE যে EGR সিস্টেম চালু করেছে তাতে একজন ব্যক্তি নিজের ইচ্ছে মতো সোনা বিনিয়োগ করতে পারবেন। অর্থাৎ একজন বিনিয়োগকারী চাইলে 1 কেজি, 100 গ্রাম, 1 গ্রাম অথবা শুধুমাত্র 100 মিলিগ্রাম সোনাও এই ডিজিটাল ভল্টে বিনিয়োগ করতে পারবেন। সবচেয়ে বড় কথা, সাধারণত ক্রেতারা যখন বাজার থেকে সোনা কেনেন তখন হলমার্কিং থাকলেও অনেক সময় সোনাতে খাদ মেশানোর অভিযোগ ওঠে। তবে NSE তে আপনি যে ইলেকট্রনিক বা ডিজিটাল গোল্ড কিনবেন সেটি 999 শতাংশ খাঁটি অর্থাৎ 24 ক্যারেট। এছাড়াও 995 শতাংশ বিশুদ্ধ সোনার বিকল্পও রয়েছে। অর্থাৎ সোনার বিশুদ্ধতা নিয়ে এখানে আলাদা করে চিন্তা করতে হবে না।

অবশ্যই পড়ুন: আধার কার্ডে নাম-ঠিকানা, মোবাইল নম্বর চেঞ্জ করুন ঘরে বসে! পদ্ধতি জানাল UIDAI

এখানেই শেষ নয়, বাজার থেকে সোনা কেনার সময় আলাদা করে মেকিং চার্জের জন্য অতিরিক্ত টাকা চলে যায় ক্রেতাদের। তবে আপনি যদি ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে 24 ক্যারেট সোনা কেনেন সেক্ষেত্রে আলাদা করে এর জন্য কোনও রকম মেকিং চার্জ দিতে হবে না আপনাকে। অর্থাৎ বাজারের থেকে তুলনামূলক অনেক কম দামে পেয়ে যাবেন 24 ক্যারেট সোনা। কাজেই অল্প দামে কিনে পরবর্তীতে সোনার দাম যেমন বাড়বে সেই সাথে বাড়বে আপনার লাভের অঙ্ক। বেশ কিছু ব্রোকারেজ ফার্মও ইতিমধ্যেই ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের এই ইলেকট্রনিক গোল্ডে বিনিয়োগের পরামর্শ দিচ্ছে।

(ডিজিটাল গোল্ড হোক কিংবা শেয়ার বাজার, বিনিয়োগ করার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেবেন। প্রতিবেদনটিতে উল্লেখিত কোনও বক্তব্যের জন্য আমরা দায়ী নই।)