প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ঋতুস্রাবের (Period) দিনগুলিতে বেশিরভাগ মেয়েদের একাধিক শারীরিক অস্বস্তির মধ্যে পড়তে হয়। কারণ এই সময় মাসিকের ক্র্যাম্প (Period Cramps) এতটাই তীব্র থাকে যে বলে বোঝানো খুবই কষ্টকর। অনেক সময় আবার অত্যাধিক রক্তচাপ শুরু হয়, এর ফলে অনেক মহিলার মেজাজ খিটখিটে থাকার পাশাপাশি, শারীরিক দুর্বলতার কারণে কাজের প্রতিও অনীহা চলে আসে (Period Pain Releif)। তাই অনেকেই ওষুধের সাহায্য নিয়ে থাকে কিন্তু বেশি ওষুধ খাওয়াও ঠিক নয়। তাই আজ কিছু ঘরোয়া টোটকা নিয়ে হাজির হল আমাদের আজকের এই প্রতিবেদন।
ঋতুস্রাবের সময় পেটের যন্ত্রণা থেকে মুক্তির উপায়
ঋতুস্রাবের সময় চিকিৎসকেরা পুষ্টিকরযুক্ত খাবার বেশি করে খাওয়ার কথা বলে থাকেন। বিশেষ করে আয়রন-সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার, কারণ শরীরে রক্তের ঘাটতি মেটাতে আয়রন খুবই জরুরি। তাই এমন খাবার বেশি করে খাওয়া জরুরি। তবে এমন কিছু খাবার আছে যা ঋতুস্রাবের যন্ত্রণা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই ঘরোয়া উপায়ে কী ভাবে সেই ঋতুস্রাবের যন্ত্রণা ও কষ্ট কমাবেন, তাই নিয়ে বেশ কিছু টিপস দিতে চলেছে আমাদের এই প্রতিবেদন।
তেল মালিশ
ঋতুস্রাবের সময় তলপেটে যন্ত্রণা হলে ব্যবহার করতে পারেন তেল। সামান্য তেল বাটিতে করে খানিক গরম করে নিতে হবে। এবার হাতের তালুতে নিয়ে ভালো করে তলপেটে ম্যাসাজ করলে অনেকটাই যন্ত্রণা কমবে। বাজারে বেশ কিছু এসেনশিয়াল অয়েল বিক্রি হয়, যা ব্যথা কমাতে সাহায্য করবে। এই তেল কোমর, থাই এবং পায়েও ম্যাসাজ করা যেতে পারে।
নিয়মিত করতে হবে ব্যায়াম
ব্যায়াম হল এমন এক প্রসেস যা করলে শরীরে হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকে। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায় পিরিয়ড শুরু হলে অনেকেই ব্যায়াম করা ছেড়ে দেন সারাক্ষণ বিশ্রাম নেন। কিন্তু কখনোই সেটি করা যাবে না। আসলে অনেকের বিশ্বাস এই সময়ে শরীরচর্চা করলে আরও বেশি রক্তপাত হবে। কিন্তু না , তেমন কিছুই না উল্টে ব্যায়াম করলে এই সময় ব্যথা কম থাকে। কারণ এই সময়ে শরীর যত বেশি সচল থাকবে এবং ব্যথা-যন্ত্রণা কম হবে।
আরও পড়ুন: গরমে বগলে বিচ্ছিরি দুর্গন্ধ? চিন্তা নেই, এই টিপস মানলেই পাবেন রেহাই
কোল্ড ড্রিঙ্কস এবং দুগ্ধজাতীয় খাবার বাদ
ঋতুস্রাবের সময়ে কোল্ডড্রিঙ্ক একেবারেই খাওয়া উচিত না। কারণ এই ধরনের পানীয় খেলে রক্ত পুরোপুরি শরীরের বাইরে বেরোতে পারে না। ফলে পেট ব্যাথা শুরু হয়ে যায়। এছাড়াও সেটি সেটি জমে জমে পরবর্তী কালে বড় রোগের সৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি ঋতুস্রাবের সময়ে খুব বেশি দই, দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যও দেখা দিতে পারে। এছাড়াও এইসময় ক্যাফিনযুক্ত পানীয় না খাওয়াই ভাল। কারণ কফি বেশি খেলে শরীরে জলশূন্যতা তৈরি হয়।
গরম সেঁক
ঋতুস্রাবের সময়ে পেট ব্যাথা হলে হিট থেরাপি অর্থাৎ গরম সেঁক মাস্ট। কারণ গরম সেঁক দিয়ে জরায়ুর পেশিতে রক্ত সঞ্চালন সচল করে এবং পেশির সংকোচন কমিয়ে যন্ত্রণা মুক্ত করে। এই সময় হট ওয়াটার ব্যাগ বা হিটিং প্যাড ১৫-২০ মিনিট তলপেটে চেপে ধরুন। দেখবেন আরাম পাওয়া যাবে।










