বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: গত 4 মে সকালের কথা। তৃণমূলের ব্যারাকপুর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী রাজ চক্রবর্তী (Raj Chakrabarty) ঢুকছিলেন গণনা কেন্দ্রে। তার আগে সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, জিতে ফিরবেন। তবে ঘটে উল্টোটা। ব্যারাকপুর কেন্দ্রে গণনা সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই কেন্দ্র ছেড়ে বেরিয়ে আসছিলেন রাজ। সেই সময় তাঁকে লক্ষ্য করে চটি এবং কাদা ছুড়ে মারেন স্থানীয়রা। এবার সেই রাজ চক্রবর্তী, নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল একেবারে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন রাজনীতির ময়দানে তাঁর লড়াই শেষ হল। অর্থাৎ রাজনীতি ছাড়লেন তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক তথা পরিচালক রাজ চক্রবর্তী।
রাজনীতি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিলেন রাজ চক্রবর্তী
এবছর তৃণমূল ব্যারাকপুর কেন্দ্র থেকে ফের তাঁকে প্রার্থী করতেই নিজের জয় নিয়ে যথেষ্ট আশাবাদী ছিলেন বাঙালি পরিচালক রাজ চক্রবর্তী। নির্বাচনের আগে প্রচারে বেরিয়ে বারবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানিয়েছিলেন, ব্যারাকপুর কেন্দ্রে তাঁর জয় নিশ্চিত! শুধু তাই নয়, ভোট পর্ব মেটার পরেও সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ জানিয়েছিলেন তিনি জিতবেন। এমনকি, ভোট গণনার দিন সকালেও রাজ চক্রবর্তীর গলায় শোনা গিয়েছিল আত্মবিশ্বাসী সুর। তবে সবটা কেমন যেন পাল্টে গেল মুহূর্তে!
ভোটের ফলাফল ঘোষণার দিন সকাল থেকেই বলে বলে তৃণমূলকে টেক্কা দিচ্ছিল বিজেপি। ব্যালট গণনার সময় থেকেই রাজ্যের প্রাক্তন শাসক দলের তুলনায় অনেকটাই এগিয়েছিল গেরুয়া শিবির। শেষ পর্যন্ত দেখা গেল সেই দূরত্ব ধরে রেখেই পশ্চিমবঙ্গের মানুষের রায়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জিতল বিজেপি। একই সাথে, ব্যারাকপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকেও নিকটতম প্রার্থী বিজেপির কৌস্তব বাগচীর কাছে বড় ব্যবধানে হারলেন রাজ চক্রবর্তী। যদিও ফলাফল প্রকাশের অনেক আগে গণনা কেন্দ্র ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন পরিচালক। সেই সময় অবশ্য তাঁকে উদ্দেশ্য করে চোর চোর স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি ছোঁড়া হয়েছিল কাদা ও চটিও। এবার সেই রাজ রাজনৈতিক জীবনে ইতি টানলেন।
অবশ্যই পড়ুন: গতিতে নতুন মাইলফলক! এই রুটে ১৮০ কিমি বেগে ছুটল বন্দে ভারত এক্সপ্রেস
সদ্য নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে রাজ চক্রবর্তী লিখেছেন, “জীবনে যখনই কোনও দায়িত্ব পেয়েছি, নিষ্ঠা এবং সততার সাথে পালন করেছি। চেষ্টা করেছি নিজের সবটুকু দেওয়ার। একজন পরিচালক হিসেবে সিনেমার মাধ্যমে মানুষকে সব সময় আনন্দ দেওয়ার চেষ্টা করেছি। কখনও জিতেছি, কখনও হেরেছি।” এদিন নিজের রাজনৈতিক জীবন নিয়ে বর্ণনা দিতে দিতেই কয়েক লাইনেই রাজ জানিয়ে দেন, তাঁর রাজনৈতিক জীবনের পথ চলা শেষ হল। বাংলায় যে সরকার আসছে তাদেরকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি তিনি আশা করছেন, নতুন সরকারের হাত ধরে বাংলার মানুষের উন্নতি হবে।










