সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ সরকারি শিক্ষকদের জন্য রইল অত্যন্ত জরুরি খবর। এবার অষ্টম পে কমিশন (8th Pay Commission) লাগু হওয়ার আগে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে একগুচ্ছ দাবি পেশ করল শিক্ষকদের (Teacher) একাধিক সংগঠন। পেনশন থেকে শুরু করে অবসরের বয়স বৃদ্ধি সহ বেশ কিছু দাবি এখন সরকারের কাছে পেশ করা হয়েছে। এখন প্রশ্ন উঠছে, ঠিক কী কী দাবি করা হয়েছে? সরকার কি সেগুলি মেনে নেবে? চলুন জেনে নেওয়া যাক।
সরকারের কাছে একগুচ্ছ দাবি পেশ শিক্ষকদের
অল ইন্ডিয়া এনপিএস এমপ্লয়িজ ফেডারেশন-এর অধীনস্থ কেন্দ্রীয় সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের (Teachers) সংগঠনটি শুক্রবার নয়াদিল্লিতে অষ্টম বেতন কমিশনের সঙ্গে এক বৈঠকে বেশ কিছু দাবি পেশ করেছে। এই দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে ছুটি, পদোন্নতি, অবসর-পরবর্তী সুবিধা, স্বাস্থ্যসেবা এবং পেনশন সম্পর্কিত নিয়মের পরিবর্তন। বৈঠকে উপস্থিত এআইএনপিএসইএফ-এর জাতীয় সভাপতি মনজিৎ সিং প্যাটেলের মতে, কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়, নবোদয় বিদ্যালয়, কস্তুরবা গান্ধী বালিকা বিদ্যালয়, দিল্লি এমসিডি ও এনডিএমসি স্কুল, দিল্লি সরকারি স্কুল (সহায়তাপ্রাপ্ত স্কুল সহ), এবং চণ্ডীগড় ও আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের মতো কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের কেন্দ্রীয় সরকারি স্কুলের প্রতিনিধিরা তাঁদের দাবিগুলি পেশ করেছেন।
আরও পড়ুনঃ রাজ্যের ৬.২ লক্ষ কৃষকের অ্যাকাউন্টে ঢুকল ঋণ মকুবের ৫০২৭ কোটি টাকা
মনজিৎ প্যাটেল বলেছেন যে এই সভার উদ্দেশ্য ছিল সমস্ত কেন্দ্রীয় সরকারি শিক্ষকদের জন্য সমান বেতন, ভাতা (Allowance) এবং অন্যান্য চাকরির শর্তাবলীর দাবি উত্থাপন করা। তিনি বলেন, “‘এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত’ তখনই বাস্তবে পরিণত হবে যখন কেন্দ্রীয় সরকারি শিক্ষকদের জন্য প্রদত্ত সুযোগ-সুবিধায় একরূপতা থাকবে। সমস্ত শিক্ষকদের জন্য বেতন এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা একই হওয়া উচিত, তাঁরা দিল্লি, বিহার বা আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে যেখানেই থাকুন না কেন। ভারতের বিভিন্ন শহরে খরচ মোটামুটি একই রকম, তাই সমস্ত শিক্ষকদের জন্য বেতন কাঠামো এবং ভাতাও একই হওয়া উচিত।”
এক নজরে দেখুন শিক্ষকদের দাবি
- শিক্ষক সমিতির প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে পুরোনো পেনশন স্কিম (Old Pension Scheme) পুনরায় চালু করা, অবসরের বয়স ৬৫ বছর পর্যন্ত বৃদ্ধি করা, আরও বেশি ছুটি এবং পদোন্নতির কোটা বাড়ানো।
- স্কুল শিক্ষক সমিতিও পুরোনো পেনশন স্কিম (ওপিএস) পুনরায় চালু করার দাবি জানিয়েছে। ১ জানুয়ারি, ২০০৪ বা তার পরে চাকরিতে যোগদানকারী অন্যান্য অনেক কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীর মতো শিক্ষকদেরও জাতীয় পেনশন ব্যবস্থা (এনপিএস)-এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। এখন তাদের কাছে একীভূত পেনশন স্কিম (ইউপিএস)-এ যোগ দেওয়ার বিকল্পও রয়েছে।
- স্কুল শিক্ষক সমিতি প্রস্তাব করেছে যে, বিভাগীয় শিক্ষকদের ৫০% অধ্যক্ষ পদে পদোন্নতি দেওয়া হোক। এছাড়াও, ২৫% পদ পরীক্ষা কোটার মাধ্যমে পূরণ করা হবে। আরেকটি প্রস্তাব ছিল ‘বিষয় প্রধান’ পদের জন্য একটি নতুন পদোন্নতির পদ তৈরি করা। প্রতিনিধিদল পরামর্শ দিয়েছে যে, এই পদের জন্য গ্রেড পে ৫,৪০০ টাকা এবং উপাধ্যক্ষের গ্রেড পে বাড়িয়ে ৬,৬০০ টাকা করা হোক।
- শিক্ষক সংগঠন জানিয়েছে যে, সকল কেন্দ্রীয় সরকারি শিক্ষককে কর্মরত থাকাকালীন ক্যাশলেস চিকিৎসা সেবা দেওয়া উচিত। যদি কোনো পরিবারের শুধু পুরুষ সদস্য কর্মরত থাকেন, তবে তাকেও সিসিএল (CCL) সুবিধা দেওয়া উচিত।










