প্যাঁচে পড়েই সুর বদল! বৈরিতা ভুলে বামেদের প্রস্তাবে সায় মমতার

Published:

Mamata Banerjee

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ঝড়ে এক লহমায় ভেঙে গিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) ১৫ বছরের সাধের সাম্রাজ্য। নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব এখন টিকিয়ে রাখাই হয়ে উঠেছে তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের। এমতাবস্থায় সব হারিয়ে শেষে বামদেরই (Mamata Banerjee CPIM) প্রস্তাবে সাড়া দিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বামেদের প্রস্তাবে মমতার সায়!

প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী গতকাল বুধবার দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেখানে সিপিআই(এম) নেতা এম এ বেবি প্রস্তাব দেন যে, বিজেপি বিরোধী সব দল, সিভিল সোসাইটি ও বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবীদের একসঙ্গে আনা দরকার। এরপরই সেই প্রস্তাবে সায় দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তখনই তিনি জানান, ইতিমধ্যেই বিরোধী নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন এবং গত মঙ্গলবার ওড়িশার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়কের সঙ্গেও কথা বলেছেন। এখানেই শেষ নয়, নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে অভিযানের বিষয়ে ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা জি দেবরাজনের প্রস্তাবকে সমর্থন করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। আর সেই নিয়ে রাজনীতির অন্দরে শুরু হয়েছে নয়া শোরগোল।

বদলে গেল রাজনৈতিক সমীকরণ?

বাংলায় বাম শাসনের আমলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনীতির মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল বাম শাসনের অবসান ঘটানো। যদিও সেই পরিকল্পনায় সাফল্য অর্জন করেছিলেন তিনি। কিন্তু মাত্র ১৫ বছরের শাসন চালানোর পর ক্ষমতা দখল করে বিজেপি। আর তাতেই ঘুরে গেল রাজনৈতিক সমীকরণ। যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কয়েক মাস আগেও ইন্ডিয়া জোটের এক মঞ্চে সিপিএমকে নিয়ে বরাবর আপত্তি তুলেছিলেন, সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই এবার বামেদের প্রস্তাবে সবুজ সংকেত দিচ্ছে। শুধু তাই নয়, বৈরিতা ভুলে বাম ও অতিবাম দলগুলোকে একজোট হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। আর তাই দেখে বামেদের অন্দরমহলে শুরু হয়েছে সমালোচনা।

আরও পড়ুন: অনুব্রত মণ্ডলকে “শুঁটিয়ে লাল” করে দিল দুই যুবক! মুখ খুললেন সজল ঘোষ

সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ভাবভঙ্গি দেখে দাবি করেছেন, “আসলে প্যাঁচে পড়লে তো অনেকেই অনেক কিছু করেন। এখন তো আর তৃণমূল দলটা নেই। যেটা আছে, তিনি যে তৃণমূলের নেত্রী, সেটা প্রমাণ করার মরিয়া চেষ্টা চলছে। তবে জ্ঞানেশ কুমার যা করেছেন, তার বিরুদ্ধে দলমত নির্বিশেষে সকলকে একজোট হয়ে দাঁড়াতে হবে।”

google button