প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রাজ্য রাজনীতিতে ক্ষমতার রদবদলের পর এবার অন্য রূপ দেখল গোটা বাংলা। বুধবার বীরভূমের একসময়ের ‘দৌর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা’ অনুব্রত মণ্ডলের (Anubrata Mondal) সামনেই সিউড়ির (Suri) পার্টি অফিসে ঢুকে ভাঙচুর চালালেন তিন যুবক। তবে শুধু ভাঙচুর নয়, অনুব্রতর কলার ধরে রীতিমতো শাসানো হয় তাঁকে। স্পষ্ট এবং কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, ‘সিউড়িতে যেন আর না দেখি।’ আর সেই কথা শুনে হাতজোড় করে ক্ষমা চাইলেন বীরভূমের একসময়ের বেতাজ বাদশা। এই ঘটনায় (Anubrata Mondal Attacked Case) যেখানে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক বিতর্কের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে সেখানে বিধায়ক সজল ঘোষকে (Sajal Ghosh) দেখা গেল আক্রমণকারীদের হয়ে গলা চড়াতে।
অনুব্রতর সামনেই পার্টি অফিস ভাঙচুর
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, গতকাল বুধবার বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর প্রথমবার সিউড়ির পার্টি অফিসে গিয়েছিলেন অনুব্রত মণ্ডল। মূলত স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলতেই গিয়েছিলেন। আর সেই সময় আচমকা তিন যুবক মোটা গাছের ডাল, লাঠি হাতে নিয়ে পার্টি অফিসের ভিতরে ঢুকে অনুব্রতের সামনেই ভাঙচুর করতে থাকেন। এসি, কাচের জানলা, টেবিল ও চেয়ারে ভাঙচুর চালান তাঁরা। অনুব্রত মণ্ডলের সামনে থাকা কাচের টেবিলেও ভাঙচুর চালায় ৩ জন যুবক। অনুব্রতকে মারধর করা না হলেও, তাঁকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
অভিষেকের সঙ্গে কেষ্টর ঘনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন
আক্রমণকারীরা জানান, গত ১৫ বছরে বীরভূমবাসীর উপর প্রচুর অত্যাচার করেছেন কেষ্ট। যদিও সেই সময় অনুব্রত তাঁদের বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু কোনও কথা কানে তোলেননি তারা। এমনকি হামলার সময় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কেষ্টর ঘনিষ্ঠতা নিয়েও প্রশ্ন করেন আক্রমণকারীরা। কিন্তু কেষ্ট বলতে থাকেন, “আমি অভিষেককে পছন্দ করি না। আমি ওকে পছন্দ করি না..।’’ পরে এই ঘটনায় ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। যদিও আক্রমণকারীরা নির্দিষ্ট কোনও রাজনৈতিক কর্মী বা সমর্থক কি না তা পরিষ্কার নয়। এমতাবস্থায় এই ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করলেন বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ।
আরও পড়ুন: উপযুক্ত পরিকাঠামোর অভাব, কেন্দ্রীয় প্রকল্পে অংশ নিতে পারল না বাংলার স্কুলগুলি
বিস্ফোরক সজল ঘোষ
সিউড়িতে অনুব্রত মণ্ডলের পার্টি অফিসে ভাঙচুরের ঘটনা নিয়ে সাংবাদিকরা বিধায়ক সজল ঘোষকে প্রশ্ন করলে তিনি স্পষ্ট জানান, “যা হয়েছে বেশ হয়েছে, যখন ওঁর সময় ছিল তখন ও করেছিল। ছেলেগুলোর মধ্যে দেখলাম একটুখানি মায়া-মমতা বোধ আছে তাই কিছু করা হয়নি ওঁকে। ঠ্যাঙানোর দরকার ছিল কিন্তু ঠ্যাঙায়নি, জুতো লাঠি দেখিয়েছে। জানেন গাঁজা কেসে কতজনকে অনুব্রত ইচ্ছে করে জেলে ঢুকিয়েছিল। ওঁর সেই চরাম চরাম, গুড় বাতাসা, পুলিশের গাড়িতে বোম মেরে দে বিরোধীদের ঘর জ্বালিয়ে দে..সবকিছু মনে আছে। ছেলেগুলো নেহাত ভালো ছেড়ে দিয়েছে, আদতে ওঁর গরু পেটা করা উচিত।”










