অনন্যা সরকার, কলকাতা: এই বর্ষায় পাহাড় উপভোগ করতে চান, অথচ কর্মব্যস্ততায় হাতে ছুটি সামান্য? তাহলে কলকাতার খুব কাছাকাছিই আছে এমন এক ডেস্টিনেশন, যা উইক এন্ড ট্রিপের জন্য আদর্শ। পাহাড় বললেই বাঙালির চোখের সামনে ভেসে ওঠে দার্জিলিংয়ের মনোরম দৃশ্য। তবে জানেন কি দক্ষিণবঙ্গেও রয়েছে এমন এক জায়গা, যেখানে গেলেই পাবেন দার্জিলিং-এর আমেজ। এটি হল বাঁকুড়া জেলার খাতড়া মহকুমার জঙ্গল ঘেরা পাহাড়ি জনপদ, ঝিলিমিলি (Jhilimili)। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য অনেকে এই অফবিট (Offbeat Bankura) টুরিস্ট স্পটটিকে ‘দক্ষিণবঙ্গের দার্জিলিং’-ও বলেন। কলকাতার কাছাকাছি উত্তরের আমেজ পেতে সপ্তাহান্তের দুটো দিন কাটিয়ে আসতেই পারেন ঝিলিমিলিতে।
সবুজ পাহাড়ের কোলে শান্তির আশ্রয় ঝিলিমিলি
উঁচুনিচু পাহাড়ি পথ, ঘন সবুজ বনাঞ্চল, মনোরম প্রকৃতি ঝিলিমিলিকে করে তুলেছে অনন্য। জঙ্গলের বুক চিড়ে বয়ে চলেছে কংসাবতী নদী। এই নদীতীরের অঞ্চলটি পিকনিকের জন্য অনেকেরই খুব প্রিয়। বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও পশ্চিম মেদিনীপুরের সীমানায় অবস্থিত এই পর্যটন কেন্দ্রটি থেকে ঘুরে আসা যায় বছরের যেকোনো সময়ই, কিন্তু বর্ষায় বৃষ্টির ছোঁয়া লেগে এর সৌন্দর্য বেড়ে যায় কয়েকগুণ। ঝিলিমিলির মূল আকর্ষণ হল এর দলমা পাহাড় ও পাহাড়কে ঘিরে রাখা শিমুল, পিয়াল, মহুয়া ও শাল গাছের বিস্তীর্ণ বনভূমি। শহরের কোলাহল থেকে বহু দূরে, ঝিলিমিলির এই শান্ত পরিবেশ পর্যটকদের মন জুড়িয়ে দেয়।
আরও পড়ুন: কলকাতার অদূরেই প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণের সমাহার, বর্ষায় ঘুরে আসুন দেবরিগড় অভয়ারণ্য
ঝিলিমিলি গেলে ঘুরে আসতে পারেন মাত্র ৭ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত ‘সুতান হ্রদ’ ও একে ঘিরে রাখা মায়াময় ‘কুমারী বন’ থেকে। সারা বছরই এই হ্রদের চারিদিকে পরিযায়ী পাখিদের মেলা দেখতে পাওয়া যায়। আর ভাগ্য সুপ্রসন্ন থাকলে জঙ্গলের ভেতরে ময়ূরের নাচও প্রত্যক্ষ করতে পারবেন। রানীবাঁধ-ঝিলিমিলি রুটে বনভূমির দৃশ্য মুগ্ধ করবে। এছাড়া, রানীবাঁধের কাছেই আছে সুপরিচিত তালবেরিয়া বাঁধ। এই জায়গায় পিকনিক করতে ছুটে আসেন শহুরে মানুষের দল। ছোট ছোট আদিবাসী গ্রামের মানুষগুলির গ্রাম্য জীবনযাত্রা ও কুলকুল করে বয়ে যাওয়া নদীর জলের শব্দ ও সবুজে ঘেরা শীতল পরিবেশ – সময় কাটানোর জন্য আদর্শ স্থান।
আরও পড়ুন: পশ্চিমবঙ্গে আন্দামানের অনুভূতি! ঘুরে আসুন ইতিহাস জর্জরিত কাছের এই অচেনা সি বিচ থেকে
কীভাবে যাবেন?
কলকাতা থেকে খুব সহজেই ট্রেনে বা সড়কপথে পৌঁছানো যায় ঝিলিমিলি। রেলপথে যেতে চাইলে, হাওড়া বা সাঁতরাগাছি থেকে উঠে পড়তে পারেন যেকোনো বাঁকুড়াগামী ট্রেনে। সেখান থেকে প্রাইভেট গাড়ি কিংবা বাসে করে সরাসরি পৌঁছানো যাবে ‘দক্ষিণবঙ্গের দার্জিলিং’-এ। ধর্মতলা থেকে রাতের বাসে করেও বাঁকুড়া বা সরাসরি ঝিলিমিলি পৌঁছানো যায়। কলকাতা থেকে সড়কপথে গেলে রাস্তার দূরত্ব আনুমানিক ২২৫ কিলোমিটার, যেতে লাগবে ৫ ঘণ্টা মতো।










