অনন্যা সরকার, কলকাতা: যাঁরা বন্যপ্রাণ ভালবাসেন তাঁদের অনেকেই চিড়িয়াখানার সুরক্ষা বলয়ের মধ্যে নয়, বন্যপ্রাণের সত্যিকারের রূপ প্রত্যক্ষ করতে ছুটে যান বিভিন্ন অভয়ারণ্য বা সাফারি পার্কে। এখানে প্রকৃতির মাঝে জীবকূল মুক্তভাবে বিরাজ করে। কখনো বাঘ, হাতি, গণ্ডার, আবার কখনো বা অচেনা পাখির কলতান শহুরে ব্যস্ত মানুষকে পৌঁছে দেয় অন্তরঙ্গ প্রকৃতির কাছে। জলদাপাড়া বা গরুমারা অভয়ারণ্য রাজ্যের মধ্যে তো খুবই জনপ্রিয়, তবে সামনের ছুটিটা যদি কাটাতে চান কোনো অফবিট (Offbeat) স্পটে, তাহলে কলকাতার কাছাকাছি ওড়িশার দেবরিগড় ওয়াইল্ডলাইফ স্যাঙ্কচুয়ারি (Debrigarh Wildlife Sanctuary) আপনার জন্য হবে আদর্শ। পূর্বভারতের এই অন্যতম সুন্দর অভয়ারণ্যটির বিষয়ে এখনও খুব কম মানুষই জানে। চলুন তাহলে দেবরিগড় ওয়াইল্ডলাইফ স্যাঙ্কচুয়ারির বিষয়ে বিশদে জেনে নিই।
দেবরিগড় ওয়াইল্ডলাইফ স্যাঙ্কচুয়ারি প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য স্বর্গ
ওড়িশার বারগড় জেলায় হিরাকুদ বাঁধ ও এর বিশাল জলাধারের পাশ ঘেঁষে ৩৪৭ বর্গকিলোমিটার জুড়ে গড়ে উঠেছে এই ডেবরিগড় ওয়াইল্ডলাইফ স্যাঙ্কচুয়ারি। এই অভয়ারণ্যের মূল আকর্ষণ হল এর জীববৈচিত্র্য। এখানে খুব সহজেই দেখা মিলতে পারে ভারতীয় গৌর বাইসন, বিপন্ন প্রজাতির চার-শৃঙ্গী বা চৌসিংহা হরিণ, সম্বর হরিণ, ভাল্লুক, বন্য শূকরের। আবার মাঝেমধ্যে চিতাবাঘের মুখোমুখিও হয়ে যেতে পারেন। এই অভয়ারণ্যে ৪০ টিরও বেশি প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী, ২৩৪ টিরও বেশি প্রজাতির পাখি সহ অসংখ্য সরীসৃপ ও পতঙ্গের সমাহার দেখা যায় ডেবরিগড়ে।
আরও পড়ুন: পশ্চিমবঙ্গে আন্দামানের অনুভূতি! ঘুরে আসুন ইতিহাস জর্জরিত কাছের এই অচেনা সি বিচ থেকে
পর্যটকদের জন্য দেবরিগড় ওয়াইল্ডলাইফ স্যাঙ্কচুয়ারির মুখে রয়েছে ধোদরোকুসুম (Dhodro Kusum) ফরেস্ট অফিস। এখান থেকে অনুমতি নিয়ে করা যায় জঙ্গল সাফারি বা ট্রেকিং। সকাল ৬:১৫ থেকে দুপুরে ২:৪৫ পর্যন্ত চারটি স্লটে জঙ্গল সাফারি চলে, মেয়াদ মোটামুটি ২:৩০ ঘন্টার মতো। আর ফরেস্ট গার্ডের সাথে গাইডেড ট্রেকিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া, অভয়ারণ্যে পাশে হিরাকুদের বিশাল জলাধারে বোট সাফারির সুবিধাও মিলবে। শীতে এই জলাধারে ভিড় জমায় পরিযায়ী পাখির দল, তাই পক্ষিপ্রেমীদের জন্য এটি একটি আদর্শ স্থান।
আরও পড়ুন: প্রাকৃতিক ও জীব বৈচিত্র্যে ভরপুর সেঁওয়াতি, পুরুলিয়ায় গড়ে উঠবে নতুন পর্যটন কেন্দ্র
কীভাবে যাবেন ও কোথায় থাকবেন?
কলকাতা থেকে দেবরিগড় ওয়াইল্ডলাইফ স্যাঙ্কচুয়ারি যাওয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সুবিধাজনক উপায় হল রেলপথ। হাওড়া বা শালিমার স্টেশন থেকে সরাসরি সম্বলপুর যাওয়ায় বেশ কয়েকটি ট্রেন রয়েছে, যেমন – সম্বলপুর এক্সপ্রেস বা সামালেশ্বরি এক্সপ্রেস। এই ট্রেনে করে সম্বলপুর পৌঁছে সেখান থেকে সড়কপথে দেবরিগড় প্রায় ৩০-৪০ কিলোমিটারের রাস্তা। আর কলকাতা থেকে সোজা সড়কপথে দেবরিগড় ওয়াইল্ডলাইফ স্যাঙ্কচুয়ারির দূরত্ব প্রায় ৫৩০ কিলোমিটার, ১০ থেকে ১২ ঘণ্টার ড্রাইভ। থাকার জন্য দেবরিগড় নেচার ক্যাম্পের ইকো-ট্যুরিজম কটেজগুলি সবচেয়ে জনপ্রিয়। তবে ক্যাম্পে জায়গা না পেলে সম্বলপুর বা হিরাকুদ বাঁধের কাছে হোটেল ও রিসোর্টে থেকেও দেবরিগড় ভ্রমণ করা যায়।










