সহেলি মিত্র, কলকাতা: এই বর্ষায় দুটো দিন একটু প্রকৃতির সান্নিধ্যে থাকতে ইচ্ছুক? একদম অফবিট জায়গা খুঁজছেন? তাহলে আজকের এই আর্টিকেলটি রইল শুধুমাত্র আপনাদের জন্য। আজ আপনাদের বাংলার অদূরে থাকা এমন এক অফবিট জায়গার সন্ধান দেব যেখানে গেলে আর বাড়ি ফিরে যেতে মন চাইবে না। আজ কথা হচ্ছে বাংলার একদম পড়শি রাজ্য ওড়িশার বুকে থাকা ‘মালকানগিরি’ (Malkangiri) নিয়ে। চলুন জায়গাটি সম্পর্কে আরও খুঁটিনাটি জেনে নেওয়া যাক।
বর্ষায় ঘুরে আসুন ‘মালকানগিরি’
মালকানগিরি সাধারণত ভুবনেশ্বর–পুরী–কোনার্ক বা কোরাপুটের মতো বিখ্যাত পর্যটন মানচিত্রে খুব একটা জায়গা পায় না। কিন্তু আসলে এটি একেবারে ‘লুকোনো রত্ন’ যাকে বলে। এর কারণও রয়েছে অবশ্য। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য- এ ভরপুর মালকানগিরি মূলত ঘন অরণ্য, পাহাড়ি উপত্যকা আর জলপ্রপাতের দেশ। এখানে দারিংবাড়ি বা কোরাপুটের মতো পাহাড়ি আবহাওয়ার ছোঁয়া আছে, কিন্তু তেমন ভিড় নেই। কারণ জায়গাটি সম্পর্কে এখনো খুব কম মানুষই আছেন জানেন। এখানে রয়েছে সীতাকুণ্ড, সত্যবালা জলপ্রপাত, এবং ছোট ছোট পাহাড়ি ঝর্ণা যা জায়গাটার সৌন্দর্য কয়েক গুণ বাড়িয়ে তুলেছে বৈকি।
এছাড়াও এখানে রয়েছে বালিমেলা জলাধার যা জায়গাটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। বিশাল নীল জল, পাহাড় ঘেরা পরিবেশ—বোটিং করলে আন্দামানের মতো অনুভূতি দেবে আপনাকে। সাবেরি নদী ও সিলেরু নদী ঘুরে দেখার মতো। সূর্যাস্ত দেখতে ভুলবেন না কিন্তু।আম্বাপানি গুহা ও জলপ্রপাত, সতীবালা জলপ্রপাত,চিত্রকোন্ডা হল এখানে থাকা কিছু অফবিট জায়গা যা ঘুরে দেখতে পারেন। মালকানগিরি হল ওডিশার উপজাতি সংস্কৃতির কেন্দ্র। বনজীবন, লোকসংস্কৃতি, নাচ-গান—সব কিছু এখানে এখনও অক্ষত। গাদাবা, বন্ডা, কন্ধ প্রভৃতি আদিবাসী সম্প্রদায়ের জীবনযাত্রা দেখলে একেবারে অন্যরকম অভিজ্ঞতা হয়।শহুরে কোলাহল থেকে দূরে গিয়ে ২–৩ – ৪ দিনের জন্য প্রকৃতি, নদী, পাহাড় আর উপজাতি গ্রামে সময় কাটাতে এই মালকানগিরির জুড়ি মেলা ভার।।
কীভাবে যাবেন?
এখন সবথেকে বড় প্রশ্ন হল এই মালকানগিরি পৌঁছাবেন কীভাবে? সেক্ষেত্রে ট্রেনে করে আপনি দুইভাবে যেতে পারেন। হীরাকুন্ড এক্সপ্রেস ধরে ভুবনেশ্বর নামতে পারেন। এরপর সেখান থেকে বাসে করে মালকানগিরি যেতে পারেন। এছাড়াও হাওড়া-বিশাখাপত্তনম গাড়ি ধরে বিজয়নগরম নামতে পারেন ট্রেনে করে। সেখান থেকে বাসে করে আপনি মালকানগিরি পৌঁছাতে পারেন।










