সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ ওড়িশা (Odisha) বলতেই সিংহভাগ মানুষ বোঝেন পুরী সমুদ্র। কিন্তু তা কিন্তু নয়। এই ওড়িশার বুকেই লুকিয়ে রয়েছে এমন কিছু রত্ন যেগুলিকে স্বর্গ বললে খুব একটা ভুল হবে। আজকের এই প্রতিবেদনে তেমনই একটি লুকনো রত্ন বা স্বর্গ নিয়ে তথ্য দেব যেখানে আপনি ঘন জঙ্গলে ঘেরা নদী, উঁচু পাহাড় দেখার সৌভাগ্য লাভ করবেন। দারিংবাড়ি নিয়ে কথা হচ্ছে না। আজ কথা ওড়িশার সর্বোচ্চ পাহাড় নিয়ে, যা ‘দেওমালি’ (Deomali) নামে পরিচিত। চলুন জায়গাটি সম্পর্কে বিশদে জেনে নেবেন।
ঘুরে আসুন ওড়িশার উঁচু পাহাড় ‘দেওমালি’ থেকে
ওড়িশার কোরাপুট জেলায় অবস্থিত দেওমালি পাহাড়ের সৌন্দর্য সবাইকে মুগ্ধ করে। ঘন জঙ্গলে ঘেরা এই পাহাড়টি নদী, ঝর্ণা এবং গভীর উপত্যকা দ্বারা পরিবেষ্টিত। প্রায় ১,৬৭২ মিটার উচ্চতার চূড়া সহ দেওমালি ওড়িশার সর্বোচ্চ পাহাড়। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত এই স্থানটি অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের কাছে একটি প্রিয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে। এখানে আপনি হ্যাং-গ্লাইডিং, পর্বতারোহণ এবং ট্রেকিং সহ বিভিন্ন ধরনের কার্যকলাপে অংশ নিতে পারেন। এখানকার আবহাওয়া ১২ মাস মনোরম থাকে, ফলে গরম নিয়ে চিন্তা করার দরকার নেই।
কী কী দেখবেন?
এমনিতেই ওড়িশার ভূস্বর্গ বলা হয় এই কোরাপুটকে। এখানেই রয়েছে ওড়িশার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ দেওমালি, যেখানে রয়েছে পাহাড় নদী উপত্যকা জঙ্গল গুহা আর জলপ্রপাত। রয়েছে ডুডুমা জলপ্রপাত এখানেই রয়েছে। যেখানে এখনো বাস করে আদিম জনজাতি। এখানে বেশি মানুষের ভিড় নেই। খুব একটা পর্যটকদের পা এখানে পড়েনি। এছাড়া তালামালি, কোরাপুট কফি গার্ডেন, বালদা গুহা, শবর শ্রীক্ষেত্র ঘুরে আসতে পারেন। এটি পাহাড়ের উপর থাকা জগন্নাথ মন্দির, যাকে দ্বিতীয় পুরী বলা হয়। এরইসঙ্গে কোলাব ড্যাম, কালিয়ামালি, গুপ্তেশ্বর গুহা ঘুরে আসতে পারেন।
আরও পড়ুনঃ বজ্রবিদ্যুৎ সহ তুমুল বৃষ্টি, কালবৈশাখী! দক্ষিণবঙ্গের ৭ জেলায় অ্যালার্ট, আবহাওয়ার খবর
এখানে আপনি পাহাড়ে উঁচুতে থাকা হোটেল, রিসোর্টে রাত্রিবাস করতে পারবেন। মনে হবে যেন মেঘেদের দেশে এসে পড়েছেন। দেওমালি টপে সবসময় মেঘেদের আনাগোনা থাকে। এখানে আপনি সারি সারি প্রচুর পাহাড় দেখতে পাবেন যা আপনার মন খারাপ ও স্ট্রেসকে নিমিষে ভুলিয়ে দিতে সাহায্য করবে।
কীভাবে পৌঁছাবেন?
হাওড়া থেকে রাতারাতি কোরাপুট পৌঁছানো যাবে। আপনি সম্বলেশ্বরী এক্সপ্রেস ধরে কোরাপুট চলে আসুন। এরপর সেখান থেকে প্রাউভেট গাড়ি ভাড়া করে কোরাপুটের সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে ঘুরে আসুন দেওমালি।










