সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ইতিমধ্যেই বন্টন হয়েছে রাজ্যের নতুন মন্ত্রিসভা। অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন স্বপন দাশগুপ্ত (Swapan Dasgupta)। তবে আসনে বসেই বড় ঘোষণা তাঁর। রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পরেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, বার্ধক্য ভাতা (Old Age Allowance) এবং বিধবা ভাতা বাড়িয়ে ১০০০ টাকা থেকে ২০০০ টাকা করা হবে। কিন্তু সেই ভাতা কবে থেকে কার্যকর হবে তা তিনি স্পষ্ট করেননি। এবার এ বিষয়ে বিস্তারিত জানালেন অর্থমন্ত্রী।
বার্ধক্য ভাতা নিয়ে বড় আপডেট
এদিন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত বলেন, “অন্নপূর্ণা যোজনা দিয়েই আমাদের কর্মসূচি শুরু হয়েছে। আস্তে আস্তে সবটাই হবে। কিন্তু আগামী দুই মাস সময় লাগবে। আগের প্রকল্পটা ইউনিভার্সাল স্কিম ছিল। অর্থাৎ আপনি শুধুমাত্র অ্যাপ্লাই করলেই পেতে পারেন। পকেট মানি হিসেবেও অনেকে সেই টাকা ব্যবহার করছিলেন। তবে শুধু মহিলারা নন, বরং জেন্ডার নিউট্রাল হয়ে গিয়েছিল। সেটাও শোনা যাচ্ছে। এ কারণেই এখন অন্নপূর্ণা যোজনার আলাদা যাচাই-বাছাইয়ের পর অনেকেই বাদ পড়েছেন, এবং এর ফলে রাজ্যের অনেক টাকা বেঁচে যাবে।”
মন্ত্রীর আরও সংযোজন, “আল্টিমেটলি যে ধরনের ওয়েলফার পেমেন্ট বা ওয়েলফার স্ট্রাকচার তৈরি করতে হয় সেটা শুধুমাত্র ভারতে না, বরং গোটা বিশ্বে রয়েছে। আর সেখানে এই ধরনের পেমেন্টে দেওয়া হয়। এটা ঠিক মতো চলতে পারে ঠিক তখনই, যখন আপনার রেভিনিউ ঠিকঠাক আসে আর উৎপাদন ঠিকমতো হতে পারে, এবং অর্থনীতি আরও চাঙ্গা হয়। ধীরে ধীরে আমরা সবটাই বাস্তবায়ন করছি। প্রথমে অন্নপূর্ণা যোজনা দিয়ে আরম্ভ হয়েছে, এবং মোটামুটি ওয়ার্কিং প্রগ্রেস মোডেই চলছে সবকিছু। বার্ধক্য এবং বিধবা ভাতা বাড়ানোর কথা আমরা আগেই বলেছিলাম। আশা করছি, আগামী দুই মাসের মধ্যেই সবটা সম্পন্ন হবে।”
আরও পড়ুন: দুর্গাপুজোয় অর্থ সাহায্য পাবেন শুধু এরা, ইঙ্গিত মুখ্যমন্ত্রীর
উল্লেখ্য, ভোটের আগে সংকল্পপত্রে বিজেপি জানিয়েছিল যে, মহিলাদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ১৫০০ টাকা বাড়িয়ে ৩০০০ টাকা করা হবে এবং সেই প্রতিশ্রুতি ইতিমধ্যেই রক্ষা করেছে তারা। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের ভাতা জুন থেকেই দেওয়া শুরু হয়েছে। প্রত্যেক মহিলাদের ব্যাঙ্কে ঢুকছে ৩০০০ টাকা। এমনকি ইতিমধ্যেই ৫০ লক্ষের বেশি মহিলা সুবিধা পেয়েছেন। পাশাপাশি সংকল্পপত্রে জানানো হয়েছিল যে, বার্ধক্য ভাতা এবং বিধবা ভাতা বাড়িয়ে ২০০০ টাকা করা হবে। আর সরকার গঠনের পর সেই ঘোষণা ইতিমধ্যেই করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাই অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, আগামী দুই মাসের মধ্যেই তা কার্যকর হতে চলেছে।










