সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: কার্গিল দিবসে দাঁড়িয়ে পাক অধিকৃত কাশ্মীর নিয়ে বড় হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং (Rajnath Singh)। তবে এবার তাতেই ঘুম উড়ল পাকিস্তানের (Pakistan)! শেহবাজ শরীফ সরকার এবার রাজনাথ সিং-র করা Pok সংক্রান্ত মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। এমনকি তাঁর মন্তব্যকে আগ্রাসনমূলক এবং ভুল তথ্য উপস্থাপন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে পড়শী দেশ। এ নিয়ে দুই দেশের রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে চরম বিশৃঙ্খলা। এমনকি পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে একটি বিবৃতিও জারি করেছে।
কী বলছে পাকিস্তান?
রাজনাথ সিংয়ের করা মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি জানিয়েছেন, “জম্মু ও কাশ্মীর বিবাদ প্রসঙ্গে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর উস্কানিমূলক এবং দায়িত্ব জ্ঞানহীন মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে পাকিস্তান সরকার। রাজনাথ সিংয়ের এই মন্তব্য জম্মু ও কাশ্মীর বিবাদ সম্পর্কিত তথ্যকে বিকৃত করছে। এটি আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। ভারতকে অবশ্যই পাকিস্তানের জনগণ এবং সরকারের সংকল্প ও দৃঢ়তাকে মূল্যায়ন করা উচিত।” এমনকি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রাসঙ্গিক প্রস্তাবগুলি সম্মত রাখতে ব্যর্থতার জন্য ভারতকে জবাবদিহিতা করার আবেদন জানিয়েছে তারা।
পাশাপাশি এ বিষয়ে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা মহম্মদ আসিফ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট বলেছেন, “রাজনাথ সিংয়ের বক্তব্য সঠিক নয়। আমরা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আইনি অবস্থানকে বিকৃত করার জন্য চাপ প্রয়োগে এরকম বক্তব্য মেনে নেব না। রাজনাথ সিংয়ের বক্তব্য আঞ্চলিক শান্তি এবং অর্থপূর্ণ সংলাপে অবদান রাখে না। পাকিস্তানের স্পষ্ট অবস্থান, জম্মু ও কাশ্মীর একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিতর্কিত অঞ্চল। আর এর সমাধান জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব এবং কাশ্মীরি জনগণের ইচ্ছার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হওয়া উচিত।”
![]()
আরও পড়ুন: এবার পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ মুনিরের হাতে, চিন্তা বাড়ল ভারতের!
কী বলেছিলেন রাজনাথ সিং?
আসলে গতকাল অর্থাৎ রবিবার কার্গিল বিজয় দিবস উপলক্ষে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং এক বিবৃতিতে পাকিস্তানকে ইঙ্গিত দিয়ে জানান, “কাশ্মীরের নিজেদের অংশে তাদের দখলদারিত্ব সম্পূর্ণ অবৈধ। কাশ্মীর বিবাদ বা এ বিষয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে আমরা স্পষ্ট করে দিতে চাই যে আলোচনা শুধুমাত্র পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর নিয়েই হবে। ভারত সরকার সশস্ত্র বাহিনীকে হুমকির বিরুদ্ধে সিদ্ধান্তমূলকভাবেই জবাব দেওয়ার স্বাধীনতা দিয়েছে। কোনও শত্রু ভারতের দিকে কুদৃষ্টি থেকে তাকানোর সাহস পাবে না।”










