অর্ধেকের বেশি অক্সিজেন প্ল্যান্ট চালুই হয়নি! কোভিডে ৬৬০ কোটির দুর্নীতি তৃণমূল সরকারের?

Published:

COVID Corruption

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: চাকরি চুরি থেকে শুরু করে রেশন চুরি, আমফানের ত্রাণ চুরি, বালি চুরি, কয়লা চুরি, কোন অপবাদ নেই তৃণমূলের সাথে! এমনকি আজ পুলিশকে দেওয়া বডি ক্যামেরা নিয়েও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসে। তবে এবার যে দুর্নীতির কথা বলব তা শুনলে হয়তো আকাশ থেকে পড়বেন! হ্যাঁ, তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে এবার কোভিডেও দুর্নীতির (COVID Corruption) অভিযোগ সামনে এল। সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে ক্যাগের রিপোর্ট। আর সেই অনুযায়ী জানা যাচ্ছে, করোনা মহামারীর সময় পিএম কেয়ার্স তহবিলে কেনা অক্সিজেন প্ল্যান্ট এবং ভেন্টিলেটরের একাংশ ব্যবহারই করা হয়নি।

তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে কোভিডে দুর্নীতির অভিযোগ

আসলে করোনা মহামারীর সময় কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে ২০২২ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত আর্থিক প্যাকেজের ঘোষণা করা হয়। প্রত্যেকটি রাজ্যকেই দেওয়া হয় এই অর্থ সাহায্য। কিন্তু ক্যাগের রিপোর্ট বলছে, সেই আর্থিক প্যাকেজের ৬৫ শতাংশ নাকি পশ্চিমবঙ্গে ব্যবহারই করা হয়নি। তাহলে কোথায় গেল এত টাকা? এমনকি এর পাশাপাশি অর্ধেকের বেশি অক্সিজেন প্ল্যান্ট চালু করা হয়নি রাজ্যে। গত শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ২০২৪ সালের ক্যাগের রিপোর্ট পেশ করা হয়। আর সেই অনুযায়ী করোনা মহামারীর সময় তৃণমূল সরকারের দুর্নীতির চিত্র স্পষ্টভাবে সামনে আসে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, করোনা মহামারীর সময় কেন্দ্র সরকারের তরফ থেকে মোট ৭৫টি অক্সিজেন প্ল্যান্ট সরবরাহ করা হয়েছিল রাজ্যে। কিন্তু ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত মাত্র ৩২টি প্ল্যান্ট চালু করা হয়েছিল। সেক্ষেত্রে বাকি ৪৩টি প্ল্যান্ট কোথায় গেল তার কোনও হদিস নেই। এমনকি রাজ্যের হাসপাতালগুলির পরিকাঠামো উন্নয়ন করতে পিএম কেয়ার্স তহবিল থেকে ভেন্টিলেটর এবং অক্সিজেন কনসেনট্রেটর সরবরাহ করা হয়েছিল। কিন্তু হাসপাতালগুলোতে সেগুলি ব্যবহারই করা হয়নি বলেই উঠে আসছে রিপোর্টে। এমনকি সেগুলি কোথায় গেল, তার কোনও হিসাব নেই।

আরও পড়ুন: “মানুষকে শান্তিতে থাকতে দিন..” শুভেন্দু অধিকারীর মামলা খারিজ করল হাইকোর্ট

জানা যাচ্ছে, ২০২২ সাল পর্যন্ত নাকি রাজ্যের মেডিকেল কলেজ এবং হাসপাতালগুলিতে কেন্দ্রের তরফ থেকে পাওয়া ৫টি ভেন্টিলেটর গুদামেই পড়েছিল। এমনকি আরও ৩টি ভেন্টিলেটর হাসপাতালে প্যাকেট বন্দি অবস্থায় ছিল। এর পাশাপাশি কেন্দ্রের তরফ থেকে পাওয়া ৫টি অক্সিজেন কনসেনট্রেটর হাসপাতালের স্টোরে পড়েছিল বলেই খবর। সেগুলিও ব্যবহার করা হয়নি। সবথেকে বড় ব্যাপার, কেন্দ্রের তরফ থেকে বরাদ্দ করা রাজ্য সরকারকে দেওয়া আর্থিক সহায়তার মোট ৬৫ শতাংশ ২০২২ এর মার্চ পর্যন্ত খরচ করা হয়নি। অর্থাৎ রাজ্যের হাতে থেকে গিয়েছে প্রায় ৬৬০ কোটি টাকা। কিন্তু এই বিপুল পরিমাণ টাকার কোনও হিসাব নেই। পাশাপাশি অক্সিজেন সিলিন্ডার থেকে শুরু করে বাদবাকি সহায়তাগুলি কোথায় গেল, সেই সংক্রান্ত কোনও তথ্য নেই রাজ্যের কাছে। এবার এগুলিই তদন্ত করে দেখবে রাজ্যের ডাবল ইঞ্জিন সরকার। কারণ, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর স্পষ্ট বক্তব্য, দুর্নীতির সঙ্গে কোনও আপস নয়।