সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ৩৪ বছরের বাম জমানা কিংবা ১৫ বছরের তৃণমূল, ধুলোয় মুছে গিয়েছে বাংলার শিল্প ভবিষ্যৎ। কিন্তু এবার ডাবল ইঞ্জিন সরকার ক্ষমতায় ফিরতেই আশার আলো দেখছে রাজ্যবাসী। পরুশুদিনই রাজ্যের নতুন শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় আশ্বাস দিয়ে বলেছিলেন যে, বাংলায় টাটাকে (Tata Group) ফেরাতেই হবে! প্রয়োজন পড়লে তিনি নিজে গিয়ে টাতে কথা বলার ইঙ্গিত দেন তিনি। তবে আজ মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) যেন তাতে আরও শিলমোহর দিলেন। জানালেন, “বাংলায় আবার টাটাকে নিয়ে আসব।” শুক্রবার নিউটাউনের বিশ্ব বাংলা কনভেশন সেন্টারে নিজেই এ কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
টাটা ফিরবে বাংলায়!
২০১১ সালের সেই সিঙ্গুর আন্দোলনের ক্ষত এখনও পর্যন্ত রাজ্যবাসীর মনে টাটকা। টাটার সামনে একেবারে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন বাম জমানার তৎকালীন বিরোধী দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাধ্য হয়ে লোটাপত্র গুটিয়ে রাজ্য থেকে চলে যেতে হয় শিল্পগোষ্ঠীকে। এমনকি রতন টাটা নিজেই মমতাকে কাঠগোড়ায় তুলেছিলেন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মতো সেই সময় জমি দিতে অনিচ্ছুক কৃষকরা জমি ফিরে পেয়েছিলেন। এমনকি মমতা নিজেই সর্ষের বীজ ছড়িয়েছিলেন। কিন্তু কৃষকদের দাবি, কারখানার রড-সিমেন্ট মিশে থাকার কারণে মাটি চাষের ক্ষমতা হারিয়েছে। আক্ষেপের সুরে তাদের বলতে শোনা যায়, “কারখানাটাও হলো না। এখন চাষও করতে পারছি না।”
তারপর থেকে জল অনেক দূর গড়িয়েছে। রাজ্য ক্ষমতায় আসে তৃণমূল। কিন্তু টাটা চলে যাওয়ার পর থেকে সেরকম কোনও শিল্পগোষ্ঠী বিনিয়োগের আগ্রহ দেখায়নি এই রাজ্যে। এমনকি প্রায় সাড়ে ৬ হাজার কারখানা বাংলা থেকে মুছে যায় শুধুমাত্র তৃণমূলের আমলে। কিন্তু বাংলায় ডাবল ইঞ্জিন সরকার আসতেই শিল্প নিয়ে ফের আশার আলো দেখেছে সাধারণ মানুষ। এদিকে রাজ্যের নবনির্বাচিত শিল্পমন্ত্রী হয়েছেন মানিকতলার বিধায়ক তাপস রায়। গত পরশুদিনই তিনি জানিয়েছেন যে, “১৫ বছরের চাকরি হলো না। শিল্প হলো না। তবে রাজ্যে টাটাকে ফেরাতেই হবে। প্রয়োজন পড়লে আমি নিজেকে টাটা আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলব।”
আরও পড়ুন: দুর্গাপুজোয় অর্থ সাহায্য পাবেন শুধু এরা, ইঙ্গিত মুখ্যমন্ত্রীর
এদিকে আজ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিশ্ব বাংলার কনভেশন সেন্টারে প্রশাসনিক বৈঠক করেন। আর সেখান থেকেই তিনি জানান যে, “ফের রাজ্যে টাটা বিনিয়োগ করবে। বাংলায় টাটাকে নিয়ে আসবই।” কিন্তু সিঙ্গুরেই টাটা গোষ্ঠী আবার বিনিয়োগ করবে কিনা সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত তিনি অনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানাননি। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী জানান যে, “সিঙ্গুরে যখন টাটা কারখানা করতে চেয়েছিল, তখন সেখানকার মাটির প্রকৃতি পরিবর্তন হয়েছে। রড-সিমেন্ট মাটিতে মিশে রয়েছে। ইতিমধ্যেই আমার কাছে বহু প্রকল্প এসেছে। সব খতিয়ে দেখার জন্য শিল্প নেতৃত্বের টিম বানিয়েছি।”










