আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: ৮ মাসের কন্যাসন্তানকে বাঁচানোর আশায় মানুষের দরজায় দরজায় ঘুরছেন এক অসহায় বাবা-মা। রাজমিস্ত্রি কার্তিক রায় ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না রায়ের সংসারে আট মাস আগে এসেছিল ফুটফুটে কন্যাসন্তান। মেয়ে হওয়ার আনন্দে ভরে উঠেছিল পরিবার। কিন্তু সেই আনন্দ বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। বর্তমানে মেয়ের চিকিৎসার বিপুল খরচ কীভাবে জোগাড় করবেন, তা ভেবেই দিশেহারা পরিবার (Sad Story)।
কী হয়েছে এই আট মাসের শিশুকন্যার?
জন্মের পরপরই শিশুটির শারীরিক সমস্যা এতটা স্পষ্টভাবে বোঝা যায়নি। কিন্তু সম্প্রতি মলত্যাগের সময় শিশুটি চরম কষ্ট পেতে শুরু করে। পরিস্থিতি দেখে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান বাবা-মা। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যায়, শিশুটির স্বাভাবিক মলদ্বার নেই। মলত্যাগের ক্ষেত্রে গুরুতর শারীরিক সমস্যাও রয়েছে। পরিস্থিতি দেখে চিকিৎসকরা দ্রুত অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিয়েছেন। আর সেই অস্ত্রোপচারের জন্য প্রয়োজন প্রায় ৪ লক্ষ টাকা।
রাজমিস্ত্রির কাজ করে কোনওরকমে সংসার চালান ধুবরি ব্লকের কালিঘাট সংলগ্ন তেঁতুলতলা, দক্ষিণ কাটুলি এলাকার বাসিন্দা কার্তিক রায়। তাঁর মতো হতদরিদ্র পরিবারের পক্ষে একসঙ্গে ৪ লক্ষ টাকা জোগাড় করা কার্যত অসম্ভব। মেয়ের চিকিৎসার টাকা জোগাড় করতে তাই কখনও প্রশাসনের কাছে, কখনও আবার সাধারণ মানুষের কাছে ছুটে বেড়াচ্ছেন বাবা-মা। কিন্তু সময় যত গড়াচ্ছে, ততই বাড়ছে তাঁদের দুশ্চিন্তা।
পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, তাঁদের এখনও আয়ুষ্মান কার্ড হয়নি। ফলে সেই কার্ডের মাধ্যমে বিনামূল্যে চিকিৎসার সুযোগও তাঁরা পাচ্ছেন না। কার্ড হতে যতটা সময় লাগবে, ততদিনে শিশুটির কী অবস্থা হবে, সেই আশঙ্কাতেই আতঙ্কিত পরিবার। স্বপ্না রায়ের কথায়, জন্মের পর বিষয়টি এতটা স্পষ্ট ছিল না। সম্প্রতি মেয়েকে অসহ্য কষ্ট পেতে দেখে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরই সমস্যাটি ধরা পড়ে।
আরও পড়ুন: মা সন্তোষীর কৃপায় কপাল খুলবে ৪ রাশির! আজকের রাশিফল, ২৫ সেপ্টেম্বর
অসহায় বাবা-মায়ের একটাই আবেদন, মানুষ যদি পাশে দাঁড়ান, তবেই হয়তো তাঁদের ছোট্ট মেয়েটির চিকিৎসা সম্ভব হবে। পরিবারের কথায়, “আমাদের চিকিৎসা করানোর ক্ষমতা নেই। মানুষ যদি সাহায্য না করে তাহলে আমরা এই বাচ্চা মেয়েটাকে বাঁচাতে পারব না।” মেয়ের জীবন বাঁচাতে তাই এখন শেষ আশ্রয় সাধারণ মানুষের মানবিকতা।










