গোল ডিশ অতীত, এবার ছাদে বসবে ল্যাপটপের মতো চ্যাপ্টা ‘অ্যারেলিঙ্ক’ অ্যান্টেনা! জানুন সুবিধা

Published:

Array Link

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: মহাকাশে হাজার হাজার অত্যাধুনিক স্যাটেলাইটগুলোর মাটির সঙ্গে তাদের সংযোগকারী ব্যবস্থা এখনও পর্যন্ত সেই ১৯৭০ এর দশকের ভারী এবং গোল্ড ডিশ অ্যান্টেনার উপরেই ভরসা করে চলছে। কিন্তু এবার প্রযুক্তির এই পুরনো ধাঁচকে বিদায় জানানোর সময় এসেছে। আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা তৈরি করে ফেলেছেন অ্যারেলিঙ্ক (Array Link) নামক এক অদ্ভুত প্রযুক্তি, যেটি স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের গতি এবং সংযোগ সম্পূর্ণ নতুন স্তরে নিয়ে যাবি।

কী এই ‘অ্যারেলিঙ্ক’ প্রযুক্তি?

আসলে পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে থাকা স্যাটেলাইটগুলি মহাকাশে ঘণ্টায় আনুমানিক ২৮ হাজার কিলোমিটার গতিবেগে ছুটে চলে। এত তীব্র গতিতে থাকা স্যাটেলাইটকে ট্র্যাক করতে প্রথাগত গোল ডিশগুলিকে ক্রমাগত শারীরিক দিক পরিবর্তন করতে হয়। কিন্তু দিক বদলানোর সময়ে প্রায়ই গ্রাহকদের ইন্টারনেট সংযোগ কয়েক সেকেন্ডের জন্য বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আর এই সমস্যা সমাধান করতে এসেছে অ্যারেলিঙ্ক। এটি কোনও গোল বাটি বা ডিশ নয়, বরং দেখতে অনেকটা ল্যাপটপের মতো ফ্ল্যাট ও চ্যাপ্টা একটি ডিভাইস, যাকে ফেজ্ড অ্যারে বলা হয়। এই সিস্টেমের প্রধান ম্যাজিক হল—কোনও রকম নড়াচড়া না করে এটি সম্পূর্ণ ইলেকট্রনিক্স পদ্ধতিতে নিজের রেডিও তরঙ্গকে বাকিয়ে স্যাটেলাইটকে নিখুঁতভাবে ট্র্যাক করতে পারবে। যার ফলে এক সেকেন্ডের জন্যও সংযোগ বিচ্ছিন্ন হবে না।

উল্লেখ্য, বিজ্ঞানীরা বিশাল ডিশ বসানোর বদলে ছোট এবং সস্তার ১৬ টি অ্যান্টেনা প্যানেলকে প্রায় এক কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যেই বিভিন্ন বাড়ির ছাদ বা মোবাইল টাওয়ারে ছড়িয়ে দিয়েছেন বলেই খবর। এরপর একটি বিশেষ সফটওয়্যারের সাহায্যে সেগুলিকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এই ছোট প্যানেলগুলো একটি নিখুঁত দলের মতোই কাজ করে, আর বড় বড় ডিশের সমান শক্তি উৎপন্ন করে। ল্যাব টেস্টে দেখা গিয়েছে যে, এই সিস্টেমটি সাধারণ ডিশ অ্যান্টেনার তুলনায় আনুমানিক ৩ গুণ বেশি গতিতে ডেটা ট্রান্সফার করতে পারে।

আরও পড়ুন: ঘূর্ণাবর্তের চোখ রাঙানি, দক্ষিণবঙ্গের ৫ জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা, আজকের আবহাওয়া

সাধারণ মানুষ কী সুবিধা পাবে?

প্রথমত, এই অ্যান্টেনা বসাতে কোটি কোটি টাকার পরিকাঠামো লাগে না। যে কোনও অফিস বা বাড়ির ছাদে বসানো যায়। দ্বিতীয়ত, আপনার বাড়ির মোবাইল টাওয়ার থেকে এই প্রযুক্তির সাহায্যে খুব সহজে স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশনে রূপান্তর করা যাবে। এর ফলে পরিকাঠামো খরচ কমে যাওয়ার কারণে সাধারণ মানুষ স্থায়ী হাইস্পিড স্যাটেলাইট ইন্টারনেট আর সরাসরি মোবাইলে স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সুবিধা পাবে।