সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: মেধা যে শুধুমাত্র বড় কোচিং সেন্টার এবং টাকার উপর নির্ভর করে এমনটা নয়, বরং জেদ আর ইচ্ছাশক্তি থাকলে সব কিছুই সম্ভব। এই কথা আবারও প্রমাণ করলেন রাজস্থানের শিবানী গেহলট। ২০২৬ সালে জেইই মেইনস (JEE Mains) পরীক্ষায় ৯৮.৩৮% নম্বর পেয়ে তিনি এখন একজন ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন পূরণের দোরগোড়ায়। শিবানীর এই জয়ের নেপথ্যে রয়েছে তাঁর বাবা-মায়ের হাড়ভাঙা খাটুনি আর মেয়ের নিরলস পরিশ্রম। তাঁর সেই সাফল্যের কথাই জানাবো এই প্রতিবেদনে (Success Story)।
ছোটবেলা থেকেই শুরু সংগ্রাম
আসলে শিবানীর বাবা ইন্দ্রাজ গেহলট প্লাম্বারের কাজ করেই কোনও রকমে সংসার চালান। আর তাঁর মা ছোটি দেবী একজন গৃহবধূ। পাশাপাশি আর্থিক অনটনের দিনে অন্যের খেতে দিনমজুরি করতেও পিছপা হননি তিনি। শিবানীর দিদি বর্তমানে বিমান বাহিনীতে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আর তাঁর ছোট ভাই অষ্টম শ্রেণীতে পড়াশোনা করছে। সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য মা-বাবার এই আত্মত্যাগই ছিল শিবানীর একমাত্র চালিকাশক্তি।
আসলে শিবানী তাঁর এই দীর্ঘযাত্রাকে কষ্টের গল্প না বলে লক্ষ্য পূরণের লড়াই হিসেবেই দেখেন। তাঁর প্রস্তুতির গল্প শুনলে সত্যিই চোখ ভিজবে। তিনি ফিজিক্সওয়ালার হিন্দি ব্যাচে যোগ দিয়েছিলেন, যা তাঁকে পড়াশোনার জন্য আরও সুনির্দিষ্ট কাঠামো তৈরি করে দিয়েছিল। পাশাপাশি তিনি মনে করেন যে, মোটিভেশন বা অনুপ্রেরণা ক্ষণস্থায়ী হতে পারে। কিন্তু দৈনন্দিন রুটিন বা শৃঙ্খলা মানুষকে লক্ষ্যে পৌঁছে দেয়। সেই কারণেই রুটিন অনুযায়ী পড়াশোনা করতেন তিনি। পরীক্ষার প্রস্তুতি চলাকালীনও তিনি খুব বেশি আবেগপ্রবণ হতেন না। অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস বা অতিরিক্ত হতাশাকে তিনি নিজের উপরে কোনও সময় ভর করতে দেননি।
তবে শিবানীর মা-বাবা প্রথাগতভাবে খুব একটা শিক্ষিত নন। কিন্তু তাঁরা জানতেন যে, দারিদ্রতা থেকে মুক্তি পাওয়ার একমাত্র পথই হল শিক্ষা। শিবানী জানিয়েছেন যে, আমার মা-বাবা কোনও দিন সংসারের আর্থিক টানাপোড়েনের আঁচ আমার উপর পড়তে দেননি। তাঁরা সবসময় বলতেন যে, তোমার একমাত্র কাজ হল মন দিয়ে পড়াশোনা করা। আর বাকি সবটা আমরা সামলে নেব। মা-বাবার এই বিশ্বাসই শিবানীর কাছে শক্তির উৎস।
আরও পড়ুন: বাংলায় বসে ১৬০০ কোটির কেলেঙ্কারি, আশ্রয় দিয়েছিল TMC! গ্রেফতার মহফুজ
তবে তাঁর স্বপ্ন এখন আরও সুনির্দিষ্ট। তিনি একটি ভালো আইআইটি থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে তাঁর পরিবারের প্রথম ইঞ্জিনিয়ার হতে চান বলে জানিয়েছেন। আর তিনি বিশ্বাস করেন, তাঁর এই সাফল্য কেবলমাত্র তাঁর নিজের নয়, বরং তাঁর মা-বাবার বছরের পর বছর করা আত্মত্যাগের ফলাফল। তার এই সাফল্য সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে।










