‘কাউকে রেয়াত নয়’ মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের পর চোরবাগান পদপিষ্টের ঘটনায় আটক ১২

Published:

Chorbagan Stampede

অনন্যা সরকার, কলকাতা: সপ্তমীর সন্ধ্যায় কলকাতা সাক্ষী হল এক নজিরবিহীন ও মর্মান্তিক দুর্ঘটনার। উত্তর কলকাতার অন্যতম আকর্ষণ চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপে অতিরিক্ত  ভিড় ও আকস্মিক বৃষ্টির জেরে ঘটে যায় এক ভয়াবহ পদপিষ্টের (Chorbagan Stampede) ঘটনা। ১৯ জন দর্শনার্থী প্রাণ হারিয়েছেন এবং বহু মানুষ গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।  দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মধ্যরাতেই কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে পৌঁছান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলিকে গভীর সমবেদনা জানিয়ে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। পুলিশ এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় সাথে জড়িত ১২ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে। 

কী ঘটেছিল চোরবাগান সর্বজনীনের মণ্ডপে?

সপ্তমীর সন্ধ্যায় হঠাৎই মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হলে চোরবাগান পূজা মণ্ডপে বাইরে অপেক্ষারত দর্শনার্থীদের বিশাল ভিড় একই সাথে প্যান্ডেলের ভিতরে এবং প্রস্থান গেটের দিকে ছুটে যায়। প্রচণ্ড ভিড়ের চাপে গেটের একটি অংশ ভেঙে পড়ে, ফলে সরু গলি, অন্ধকার এবং মানুষের বিশৃঙ্খল, অপরিকল্পিত ভিড়ের সাথে সাথে অনেকে নীচে পড়ে যান এবং পদপিষ্ট হন। দমবন্ধ হয়ে অনেকে ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারান। এই ঘটনার পর, দমকল বিভাগ, কলকাতা পুলিশ এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী উদ্ধার অভিযান শুরু করে এবং আহতদের কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। দুর্ঘটনার পরপরই দর্শনার্থীদের জন্য প্যান্ডেলটি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ১৯ জন মানুষ ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান, তাঁদের মধ্যে শিশু ও মহিলাও ছিল বলে জানা গেছে। 

মধ্যরাতেই মেডিকেল কলেজে মুখ্যমন্ত্রী

ঘটনার খবর পেয়ে গভীর রাতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মুখ্য সচিব মনোজ আগরওয়াল, স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে কলকাতা মেডিকেল কলেজে পৌঁছান এবং আহত ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন। মুখ্যমন্ত্রী এই ঘটনাটিকে “অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও দুঃখজনক” বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন এবং রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের ঘোষণা দেন। 

আরও পড়ুন: ট্র্যাফিক আইন ভাঙলে এবার থেকে ‘পেনাল্টি মার্কিং’, লাইসেন্সও বাতিল করতে পারে রাজ্য সরকার

তিনি বলেন, “আমি প্রায় ১২ থেকে ১৩টি মৃত পরিবারের সাথে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেছি… কলকাতা পুলিশের এআরএস সিসিটিভি ফুটেজ কালেক্ট করেছে, যারা ক্রাউড কন্ট্রোলের দায়িত্বে ছিল তাদের মধ্যে যাদের মধ্যে ত্রুটি পাওয়া যাবে, তা সে ক্লাবের ভলেন্টিয়ার হোক, টেম্পোরারি হোমগার্ড হোক বা পুলিশের লোক – সকলের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

মুখ্যমন্ত্রী এও জানান যে, এখনো পর্যন্ত মোট ২৫ জনকে আনা হয়েছে তার মধ্যে ২৪ জন বিপদমুক্ত এবং একজনের অবস্থা গুরুতর। সরকার প্রত্যেকেরই চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছে। আর যারা মারা গিয়েছেন তাদের প্রত্যেকটি পরিবারকে রাজ্য সরকারের  তরফে ২৫ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ এবং একটি করে সরকারি চাকরি দেওয়া হয়। এছাড়া আহতদেরও ৫ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। রবিবার কলকাতায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর যে কর্মসূচি ছিল, তা স্থগিত করা হয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। এর পাশাপাশি, রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের দুর্গাপূজা-কেন্দ্রিক যে সমস্ত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল, সেগুলিও স্থগিত রাখা হয়েছে।

ইতিমধ্যেই চোরবাগান সর্বজনীনের এই পদপিষ্টের ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে পুলিশ প্রশাসন। ঘটনার সাথে জড়িত ১২ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চালনো হচ্ছে। প্যান্ডেলে ভিড় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, নিরাপত্তা এবং প্রবেশ ও প্রস্থানের পথে ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কী কী ত্রুটি ছিল, তা খতিয়ে দেখার জন্য তদন্ত চলছে।

google button