রাস্তায় পকোড়া বেচেন বাবা, এক কামরার ঘর থেকেই UPSC ক্র্যাক করে IAS মেয়ে

Published:

UPSC Success Story

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: জীবন মানেই সংগ্রাম। আর সেই সংগ্রামকে জয় করার নামই আসল সাফল্য। যদি নিজের ভিতর জেদ আর ইচ্ছাশক্তি থাকে তাহলে যে সবকিছুই সম্ভব তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। ভরতপুরের দীপেশ কুমারী আজ সেই লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থীদের কাছে জীবন্ত এক উদাহরণ, যারা অভাবের কারণে নিজেদের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে থাকে। সাতজনের সংসার, নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা। সবকিছুকে হার মানিয়ে দীপেশ আজ ভারতীয় প্রশাসনিক সেবার এক উজ্জ্বল নক্ষত্র (UPSC Success Story)।

এক কামরার ঘরেই সাতজন

আসলে রাজস্থানের ভরতপুরের বাসিন্দা দীপেশ কুমারীর বড় হয়ে ওঠা এক সাধারণ পরিবেশে। তাঁদের পরিবারে সদস্য সংখ্যা সাতজন। মা-বাবা এবং পাঁচ ভাই-বোন। একটি মাত্র ঘরেই সকলে থাকতেন। পড়াশোনার জন্য আলাদা কোনও টেবিল বা ঘর ছিল না। কিন্তু ছিল তাঁর অদম্য জেদ। দীপেশের বাবা বিগত ২৫ বছর ধরে রাস্তার ধারে পকোড়া আর স্ন্যাকস বিক্রি করে সন্তানদেরকে বড় করেছেন।

দীপেশ ছোট থেকেই ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতার গ্রাফ দেখলেই তা স্পষ্ট উঠে আসে। মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৯৮ শতাংশ এবং উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৮৯ শতাংশ নম্বর পেয়ে সকলকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন এই ছাত্রী। এমনকি যোধপুরের এমবিএম ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ বিটেক ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। এরপর দেশের শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আইআইটি বোম্বে থেকে এম.টেক ডিগ্রি অর্জন করেন। উচ্চ শিক্ষার পর একটি বেসরকারি সংস্থায় মোটা মাইনের চাকরিও পেয়েছিলেন তিনি। তবে তাঁর লক্ষ্য ছিল দেশের সেবা করা। তাই সেই কেরিয়ার ছেড়ে তিনি শুরু করেন ইউপিএসসির প্রস্তুতি।

২০২০ সালে প্রথম প্রচেষ্টায় দীপেশ সফলতা অর্জন করতে পারেননি। তবে ব্যর্থতায় দমে না গিয়ে তিনি নিজের ভুলগুলি শুধরে নিয়ে আবারও ঝাপিয়ে পড়েন। ২০২১ সালের ইউপিএসসি পরীক্ষায় তিনি সারা ভারতে ৯৩ তম র‍্যাঙ্ক অর্জন করেছিলেন। আর অর্থনৈতিকভাবে অনগ্রসর ক্যাটাগরিতে তাঁর র‍্যাঙ্ক ছিল চতুর্থ। বর্তমানে তিনি ঝাড়খন্ড ক্যাডারের একজন সফল আইএএস অফিসার।

আরও পড়ুন: কিং কোবরার বাস, গাছ থেকে বেরোয় রক্ত! কলকাতার কাছেই রয়েছে রহস্যময় জঙ্গল

দীপেশের বাবার লড়াই বিফলে যায়নি। অভাব থাকলেও যে তিনি সন্তানদের শিক্ষায় কোনও রকম ত্রুটি রাখেননি তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আর আজ তাঁর সব সন্তানই প্রতিষ্ঠিত। তাঁর বড় মেয়ে দীপেশ একজন আইএএস অফিসার। ছোট মেয়ে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালের একজন সফল ডাক্তার। আর তিন ছেলের মধ্যে দুই ছেলে লাতুর এবং এক ছেলে এইইমস গুয়াহাটিতে এমবিবিএস করছেন। তবে তাঁদের মধ্যে দীপেশ কুমারী প্রমাণ করেছেন যে, স্বপ্নের আকার কখনও ঘরের আয়তন বা পরিবারের আর্থিক অবস্থা দিয়ে বিচার করা যায় না। নিজের ভিতর জেদ আর ইচ্ছেশক্তি থাকলে সব কিছুই অর্জন করা সম্ভব।