হারিয়ে ফেলেন দৃষ্টিশক্তি, বাবা নেই! আর্থিক অনটনের মধ্য দিয়েও IAS অফিসার জয়ন্ত

Published:

UPSC Success Story

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: যাদের জীবনে লক্ষ্য আর ইচ্ছাশক্তি থাকে, তাদের যে কোনও কিছুরই অভাব হয় না এবং সমস্ত টার্গেট পূরণ হয় তা আবারও প্রমাণ করলেন মহারাষ্ট্রের এক যুবক। মহারাষ্ট্রের জয়ন্ত মনকালের কথা বলছি আমরা এই প্রতিবেদনে। এক বিরল রোগে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু দমে যাননি। আর্থিক অনটন আর শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে উড়িয়ে তিনি আজ গর্বিত আইএএস অফিসার (UPSC Success Story)।

অন্ধকার গ্রাস করা সত্ত্বেও নেভেনি তাঁর জীবনের আলো

আসলে জয়ন্তের শুরুটা হয়েছিল অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র হিসেবে। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করার পর এক বেসরকারি সংস্থার রক্ষণাবেক্ষণ প্রকৌশলী হিসেবে তিনি কাজ শুরু করেছিলেন। তবে ২০১৫ সালে তাঁর জীবনের সবথেকে বড় অন্ধকার নেমে আসে। আর এটা রেটিনাইটিস পিগমেন্টোসা নামক এক বিরল জেনেটিক রোগের কবলে পড়ে তাঁর চোখের ৭৫ শতাংশ আলো নিভে যায়। তবে তিনি দমে যাননি।

জয়ন্তের লড়াইটা ছোটবেলা থেকেই শুরু হয়েছিল। মাত্র ১০ বছর বয়সেই তিনি বাবাকে হারিয়ে ফেলেছিলেন। তাঁর বাবা ছিল একজন সামান্য পাম্প অপারেটর। মৃত্যুর পর নামমাত্র পেনশনেই তাঁদের সংসার চালাতে হতো। তবে দিন আনা দিন খাওয়া অবস্থা ছিল তাঁদের। জয়ন্তের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য তাঁর মা ঘরে আচার তৈরি করেই তা বিক্রি করা শুরু করেন। আর বোনারাও নিজেদের সব সুখ বিসর্জন বিসর্জন দিয়ে ভাইয়ের পড়াশোনার খরচ চালাতে থাকেন।

এদিকে আর্থিক অভাবের কারণে দৃষ্টিহীনতার জন্য প্রয়োজনীয় দামী অডিও বুক বা স্ক্রিন রিডার সফটওয়্যার কেনার সমর্থও ছিল না তাঁদের। তাই তিনি বিকল্প পথ বেছে নিয়েছিলেন। খবর বিশ্লেষণ শুনতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা তিনি রেডিওর সামনে বসে থাকতেন। এমনকি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিতর্ক শুনে সাধারণ জ্ঞান বা জিকে ঝালিয়ে নিতেন। আর মারাঠি সাহিত্যিক ও বিশেষজ্ঞদের বক্তৃতা শুনে নিজের মনে মনে তিনি নোট তৈরি করতেন। পাশাপাশি নিজের মাতৃভাষাকেই পরীক্ষার মাধ্যমে হিসেবে বেছে নেন তিনি।

আরও পড়ুন: সৌন্দর্য উজাড় করে দিয়েছে প্রকৃতি, স্ট্রেস ভুলতে ঘুরে আসুন ডুয়ার্সের ‘গাহুনবাড়ি’ থেকে

এদিকে ২০১৮ সালে ইউপিএসসি পরীক্ষায় প্রথমবার ৯২৩ তম র‍্যাঙ্ক অর্জন করেন জয়ন্ত। তবে লক্ষ্য ছিল তাঁর আরও বড়। ২০১৯ সালে দ্বিতীয় প্রচেষ্টার ফলে অল ইন্ডিয়া ১৪৩ তম র‍্যাঙ্ক অর্জন করে আইএএস অফিসার হয়ে নিজের জায়গা পাকা করেন জয়ন্ত। প্রাঞ্জল পাটিলের পর জয়ন্তই মহারাষ্ট্রের দ্বিতীয় দৃষ্টিহীন ব্যক্তি, যিনি কিনা এই কঠিনতম পরীক্ষায় সাফল্য পান। আর তিনি প্রমাণ করে দিলেন যে, নিজের ভিতর ইচ্ছাশক্তি থাকলে কোনও কিছুই বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না।