প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: শারদোৎসবের আনন্দ কাটতে না কাটতেই এবার বাঙালির ঘরে ঘরে চলছে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর (Lakshmi Puja 2026) তোড়জোড়। পূর্ণিমার আলোয় প্রতিটি বাঙালি ঘর যেন সেজে ওঠে মায়ের আরাধনার জন্য। মূলত বাংলার ঘরে ঘরে ধন-সম্পদ ও সুখ-সমৃদ্ধির কামনায় দেবীর আরাধনা করা হয়। এই লক্ষ্মীপুজোকে কেন্দ্র করে নানা ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতি লুকিয়ে রয়েছে (Lakshmi Puja Unknown Facts)। অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, ‘শ্রী’ ও ‘লক্ষ্মী’ কি একই দেবী? নাকি এই দুই নামের মধ্যে রয়েছে কোনও বিশেষ পার্থক্য? তাহলে চলুন আজকের প্রতিবেদনের মাধ্যমে জেনে নেওয়া যায় বিস্তারিত।
কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো
বাংলায় শারদীয়া দুর্গোৎসবের দশমীর ঠিক চার দিন পরেই ঘরে ঘরে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর আরাধনা করা হয়। পঞ্জিকা অনুযায়ী আশ্বিন মাসের শেষ পূর্ণিমা তিথিতে বাঙালির ঘরে লক্ষ্মীপুজো হয়ে থাকে। এই সময় মহা ধূমধাম করে বাঙালি ফলমূল, পদ্ম, নারকেল, নাড়ু, বড়ি, খই, দই, মিষ্টি সহকারে দেবী লক্ষ্মীর আরাধনায় মেতে ওঠে সকলে। ধর্মীয় শাস্ত্রে ‘শ্রী’ ও ‘লক্ষ্মী’ নাম দুটি একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। অনেকেই দেবী লক্ষ্মীকে ‘শ্রী’ নামেও সম্বোধন করেন। কারণ শ্রী শব্দটি সৌন্দর্য, সৌভাগ্য, ঐশ্বর্য, সমৃদ্ধি, মঙ্গল ও মর্যাদার প্রতীক। কিন্তু জানেন কি ‘শ্রী’ এবং ‘লক্ষ্মী’ একই দেবী নন?
‘শ্রী’ ও ‘লক্ষ্মী’ কি একই দেবী?
পুরাণ অনুযায়ী দূর্বাশা মুনি একবার দেবরাজ ইন্দ্রকে একটি পারিজাত ফুলের মালা উপহার দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই উপহারকে সঠিকভাবে যত্ন নিতে পারেননি দেবরাজ। বলা হয় ইন্দ্র যখন রম্ভা ও সম্ভোগে মত্ত ছিলেন, ঠিক তখনই ওই মালার নিজের অজান্তেই এক ঐরাবতীর গলায় ছুড়ে দিয়েছিলেন। আর সেই দৃশ্য দেখে রেগে ক্ষুব্ধ হয়ে দূর্বাশা মুনি দেবরাজ ইন্দ্রকে অভিশাপ দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, ‘‘তোমার ত্রিলোক এখন লক্ষ্মীছাড়া হবে। অর্থাৎ লক্ষ্মীর নির্বাসন হবে।’’ তখনই নাকি মা লক্ষ্মী পাতালে প্রবেশ করেন।
আরও পড়ুন: রাতেই কেন হয় কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো? জানুন আসল কারণ
সমুদ্রমন্থনের সময় রত্নাকর থেকে যিনি উঠে এসেছিলেন তাঁর নাম ছিল শ্রী। তিনি কিন্তু দেবী লক্ষ্মী ছিলেন না। তাই বলা যায় শ্রী ও লক্ষ্মী দুই পৃথক দেবী ছিলেন। যদিও তাঁরা পরে মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছেন। দেবী লক্ষ্মী পদ্মাসনা আর তাঁর বাহন হল শ্বেত পেঁচা। কথিত আছে এই লক্ষ্মীদেবী নাকি একবার তুলসী, একবার ঘোটকী হয়েও জন্মান। আর এই জ্যোৎস্না প্লাবিত রাতে দেবী লক্ষ্মী আসেন শুধু একটি রাতের অতিথি হয়ে। কথিত আছে, কোজাগরী পূর্ণিমার দিন দেবী লক্ষ্মী রাতে মর্ত্যে নেমে গৃহস্থ বাঙালির ঘরে ঘরে গিয়ে জিজ্ঞাসা করেন, ‘কে জেগে আছ?’ তাই রাত জেগে লক্ষ্মীর আরাধনা করে থাকেন সকলে।










