সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: সাফল্য কোনও সময় সহজে ধরা দেয় না। আর যদি মাথার উপর থেকে বাবার ছায়া চলে যায় এবং দারিদ্রতা গ্রাস করে, তাহলে সেই পথ যে আরও দুর্গম হয়ে ওঠে তাও বলার অপেক্ষা রাখে না। অসমের নারায়ণ কোঁয়ারের জীবনটা ঠিক তেমনই ছিল। তবে দারিদ্রতা বা পড়াশোনার ব্যর্থতা কোনও কিছুই তাঁকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। আজ তিনি অসম সরকারের উচ্চশিক্ষা এবং স্কুল শিক্ষা দফতরের সচিব পদেই কর্মরত। তাঁর জীবনের লড়াই জানাবো এই প্রতিবেদনে (UPSC Success Story)।
শৈশব থেকেই দারিদ্র্যতার সঙ্গে লড়াই
নারায়ণের যখন মাত্র ১১ থেকে ১২ বছরের বয়স, তখনই তাঁর মাথার উপর থেকে বাবার ছায়া সরে যায়। এরপর চরম আর্থিক সংকটে পড়ে তাঁর পরিবার। সংসার চালাতে গিয়ে কিশোর বয়সে কাজের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিতে হয়েছিল তাঁর। পড়াশোনার পাশাপাশি বাজারের সবজি বিক্রি করতে শুরু করেন তিনি। অভাব এতটাই গ্রাস করেছিল যে, প্রতিদিন স্কুল বা কলেজে যাওয়ার জন্য তাঁকে ১৫ কিলোমিটার পথ হেঁটে পাড়ি দিতে হত।
তবে কাজের চাপ এবং দীর্ঘ পথ যাতায়াতের ক্লান্তিতে পড়াশোনা ও ব্যাঘাত ঘটাচ্ছিল তাঁর। ফলাফল হিসেবে দ্বাদশ শ্রেণীর পরীক্ষায় তিনি ফেল করেন। আর সেই সময় প্রতিবেশী বা আত্মীয়-স্বজনদের চরম কটাক্ষ এবং উপহাসের স্বীকার হতে হয় তাঁকে। অনেকে ভেবে নিয়েছিলেন যে, সবজি বিক্রেতার জীবনই হয়তো তাঁর ভবিষ্যৎ। কিন্তু নারায়ণ ভেঙে পড়েননি। সেই ব্যর্থতাকেই তিনি জেদে পরিণত করেন। আর পরের বছর দ্বাদশ শ্রেণীর পরীক্ষায় ফের বসে প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন।
এদিকে উচ্চ মাধ্যমিকের বাধা পেরিয়ে গুয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চ শিক্ষা সম্পন্ন করেছিলেন তিনি। এরপর তাঁর লক্ষ্য ছিল সিভিল সার্ভিস। লক্ষ্য কঠিন হলেও পরিশ্রমের কাছে তা অসম্ভব ছিল না। ২০১০ সালে ইউপিএসসি পরীক্ষায় সারা ভারতে ১১৯ তম র্যাঙ্ক অর্জন করে আইএস অফিসার হিসেবে নিজের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখেছিলেন তিনি। যে ছেলেটি একসময় ফুটপাতে সবজি বিক্রি করত, আজ সে গোটা রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রধান কর্ণধার।
আরও পড়ুন: কেদারনাথ দর্শন আরও সহজ, চারধাম ট্যুর প্যাকেজ আনল IRCTC, জানুন খরচ
বর্তমানে নারায়ণ কোঁয়ার অসমের শিক্ষা দফতরের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। একজন দক্ষ প্রশাসনিক আধিকারিকের পাশাপাশি তিনি নিয়মিত তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। বিভিন্ন সেমিনারে নিজের লড়াইয়ের গল্প শুনিয়ে যুবকদের অনুপ্রাণিত করেন তিনি। তাঁর সাফল্যের গল্প সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে।










