অনন্যা সরকার, কলকাতা: “আরবানাতে থাকতে গেলে যোগ্যতা লাগে”- এই মন্তব্য করে সম্প্রতি তুমুল বিতর্কে জড়িয়েছেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় (Rachna Banerjee)। সোশ্যাল মিডিয়া খুললেই এখন এই নিয়ে মন্তব্যের বন্যা বইছে (Viral)। এই আবাসনে থাকতে গেলে কী যোগ্যতার মাপকাঠি রয়েছে? মাধ্যমিকে কটা লেটার দরকার? বা গ্রাজুয়েশনে কত নম্বর? – এমন নানাবিধ প্রশ্নবাণ ছুঁড়ে দেওয়া হচ্ছে রচনার দিকে।
আসলে বিষয়টা কী?
রচনার বিতর্কে জড়ানোর সূত্রপাত যদিও আরও কিছুদিন আগে। গত মে মাসে বিধানসভার ফল বেরোনোর পরই তৃণমূলের ঘরে ভাঙন ধরেছে। একসময়ের হেভিওয়েটরা একে একে দল ছাড়ছেন। ক্ষমতায় থাকাকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশেপাশে দেখা যেত বিনোদন জগতের বহু তারকাদের, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২৪ সালে তৃণমূলের টিকিটের হুগলি থেকে লোকসভা ভোটে জিতে সাংসদ হয়েছেন রচনা। কিন্তু ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে ছন্দপতন হতেই দল ছাড়তে বেশি সময় নেননি বাকিদের মতোই। অন্যান্য বিক্ষুব্ধ সাংসদের সাথে যোগ দিয়েছেন এনসিপিআই (NCPI) দলে।
এরপর থেকেই তারকা সাংসদের সঙ্গে প্রাক্তন দলের সতীর্থদের লেগে রয়েছে বাগবিতণ্ডা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফেস ভ্যালু না থাকলে রচনাকে কেউ চিনতেও পারতেন না বলে বাক্যবাণে বিঁধেছেন মমতাপন্থী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। কল্যাণকে জবাব দিতে ছাড়েননি তিনি।
সম্প্রতি একটি টেলিভিশন চ্যানেলের সাক্ষাৎকারে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় কিছু মন্তব্য করেছেন, যার মধ্যে একটি অংশ হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। রচনা বলেন, বাংলা থেকে তিনি নাকি একমাত্র অভিনেত্রী যিনি বলিউডে অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে অভিনয় করেছেন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় হয়তো সেটা জানেন না। সাতটা ভাষায় ১৫০-এর বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন, সেটাও বোধহয় তার জানা নেই। এরপরেই রচনা মন্তব্য করেন, “আরবানাতে থাকতে গেলে যোগ্যতা লাগে, সেই যোগ্যতা রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় অর্জন করেছে, কিন্তু টিএমসি করে নয়”।
সাক্ষাৎকারের এই অংশটি নিমেশেই ভাইরাল হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। বিশেষ করে, ‘আরবানাতে থাকতে গেলে যোগ্যতা লাগে’ লাইনটি নিয়ে নানা দিক থেকে ছুটে আসছে কটাক্ষ। বয়ে যাচ্ছে মিমের বন্যা। এমনকি চলচ্চিত্রজগতের সতীর্থরাও এর থেকে বাদ পড়েননি। অভিনেতা ঋত্বিক চক্রবর্তী ব্যঙ্গ করে ফেসবুকে লেখেন, “শুনলাম কে নাকি বলেছে জয়েন্ট এন্ট্রান্স দিয়ে পাশ করলে তবেই আরবানাতে চান্স পাওয়া যায়!” রচনার এই মন্তব্য কার্যত হাসির খোরাক হয়ে উঠেছে নেট পাড়ায়। আবারও ট্রোলিং-এর শিকার টেলিভিশন জগতের “দিদি নম্বর ১”।
কত দাম আরবানার ফ্ল্যাটের
দক্ষিণ কলকাতার আনন্দপুরে অবস্থিত বিলাসবহুল আরবানা কমপ্লেক্সের ফ্ল্যাটগুলির দাম নিঃসন্দেহে আকাশ ছোঁয়া। রয়েছেন মোট সাতটি টাওয়ার, তার মধ্যে ২ ও ৩ নম্বর টাওয়ারের ফ্ল্যাটগুলি সবথেকে প্রিমিয়াম। এগুলির মধ্যে অধিকাংশ ফ্ল্যাটের কার্পেট এরিয়া ৫০০০ স্কোয়্যার ফিট। দাম আন্দাজ ১৩ থেকে ১৫ কোটি। প্রিমিয়াম এই টাওয়ারগুলির একটি ফ্ল্যাটেই থাকেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়।
আরও পড়ুনঃ আর ছোঁয়া যাবে না মা তারাকে, তারাপীঠ মন্দিরে বদলে গেল একাধিক নিয়ম
তবে শুধু রচনা নন, আরবানায় বন্ধন ব্যাঙ্কের প্রাক্তন চেয়ারম্যান চন্দ্রশেখর ঘোষ থেকে শুরু করে দেব, শুভশ্রী-রাজ চক্রবর্তী, অরিন্দম শীল, শ্রাবন্তী ও পায়েল সরকারের মত বহু সেলিব্রিটির ঠিকানা। ফলে নেটিজেনরা মানছেন যে এই বিলাসবহুল কমপ্লেক্সে নিঃসন্দেহে সম্ভ্রান্ত পরিবারের বা কষ্ট করে প্রতিষ্ঠিত হওয়া ব্যক্তিরাই ফ্ল্যাট কিনতে পারেন। কিন্তু তার জন্য অযথা অহংকার করা উচিত নয়, যে কারণে রচনা হয়েছেন কটাক্ষের শিকার।










