সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ দীর্ঘ ১৫ বছর পর তারাপীঠ (Tarapith) মন্দির কমিটিতে বদল। রাজ্যে পালাবদল হওয়ার পরেই, মন্দির পরিছালনার দায়িত্বে এসেছে নতুন কমিটি। দর্শনার্থীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে, এক গুচ্ছ নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে এই নবনির্বাচিত কমিটি। আপনিও যদি সম্প্রতি তারাপীঠ গিয়ে পুজো দেওয়ার কথা ভেবে থাকেন তাহলে চোখ রাখুন আজকের এই প্রতিবেদনটির ওপর।
তারাপীঠ মন্দির নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত প্রশাসনের
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোন ভক্তই আর ছুঁতে পারবেন না মন্দিরে থাকা মায়ের বিগ্রহকে। দর্শন করতে হবে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে, নির্দিষ্ট দুরুত্ব বজায় রেখে। অতীতে। মন্দির ও মায়ের মূর্তি দর্শনে সাধারণ মানুষকে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে। যার অন্যতম কারণ ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার অভাব। সাধারণ মানুষ সহ বিশেষ দর্শনার্থী বা ভিআইপি-দের জন্য এবার থেকে থাকবে পৃথক ব্যবস্থা। নির্দিষ্ট করা হবে আলাদা গেট। সেই সঙ্গে, ভিড় নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বেঁধে দেওয়া হবে লাইনে থাকা দর্শনার্থীদের সংখ্যা। দর্শনার্থীদের বিগ্রহ দর্শন করতে হবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে, যাতে লাইনে থাকা পরের পুণ্যার্থীরাও বিগ্রহ দর্শনের জন্য যথাযথ থেকে বঞ্চিত না হন।
পুণ্যার্থীদের জন্য একগুচ্ছ নিয়ম জারি
সভাপতি নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সম্পাদক পুলক চট্টোপাধ্যায়ের পর্যবেক্ষণে, বুধবার হওয়া কমিটির বৈঠকে স্থির করা হয়েছে তারাপীঠ মন্দিরের গর্ভগৃহ এক ফুট নীচু করা হবে, তবে মায়ের মূর্তি থাকবে উঁচু বেদীর ওপরেই, যাতে বিগ্রহ দর্শনে কোনও সমস্যা না হয়। মন্দিরে ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য কাউকেই, সে সাধারণ দর্শনার্থী হোক বা ভিআইপি, কাউকেই গর্ভগৃহে বেশি সময় থাকতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মন্দির কমিটির সভাপতি জানিয়েছেন, সাধারণ পুণ্যার্থীদের জন্য আধঘন্টা এবং বিশেষ বা ভিআইপি লাইনে থাকা জন্য কুড়ি মিনিট চলবে লাইন।
আরও পড়ুনঃ ডিম কাণ্ডে ‘রাজনৈতিক শত্রু’ মহুয়ার পাশে দাঁড়ালেন বিকাশ
আগামী দিনে, এই লাইন পরিচালনা ব্যবস্থা আরও মসৃণ করার জন্য বিশেষ লাইনে দাঁড়ানো ব্যক্তিদের জন্য মন্দিরের ঢোকা এবং বাইরে আসার জন্য একটি নির্দিষ্ট গেট করার ভাবনা রয়েছে কমিটির। কৌশিকী অমাবস্যার পর শুরু হবে গর্ভগৃহ সংস্কারের কাজ। সেই সময়, মায়ের মূর্তি রাখা হবে অন্যত্র। এ ব্যাপারে, বর্তমান কমিটিকে সর্বতভাবে সাহায্য করার আশ্বাস দিয়েছেন মন্দির কমিটির প্রাক্তন সভাপতি তারাময় মুখোপাধ্যায়।










