জলের উপর ভাসবে সোলার প্যানেল, সস্তায় মিলবে বিদ্যুৎ! দারুণ প্রকল্প কেন্দ্রের

Published:

Solar Energy

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দেশের নবায়নযোগ্য শক্তি (Solar Energy) ব্যবহার আরও বাড়াতে বিরাট পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র সরকার। এবার প্রধানমন্ত্রী সূর্য সরোবর যোজনার অনুমোদন মিলল। এই প্রকল্পের আওতায় দেশের বিভিন্ন পুকুর, হ্রদ কিংবা বড় বড় জলাশয়ের উপর সৌর প্যানেল বসানো হবে। সরকারের মতে, এর মাধ্যমে একদিকে যেরকম পরিচ্ছন্ন শক্তি উৎপাদন হবে, ঠিক অন্যদিকে ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে কৃষক, এবং বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্রের সাশ্রয়ে মূল্যে বিদ্যুতের সুবিধা মিলবে।

চালু হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী সূর্য সরোবর যোজনা

আসলে এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হল, দেশের বিভিন্ন জলাশয়ের উপরে বড় আকারে ফ্লোটিং সোলার প্ল্যান্ট তৈরি করা। এই সৌর প্যানেল থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা হবে। এর ফলে বিভিন্ন রাজ্যে পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়বে। এমনকি সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই প্রকল্পের মাধ্যমে ৫০০০ মেগাওয়াট ফ্লোটিং সোলার বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা গড়ে উঠতে পারে। এদিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে। সেক্ষেত্রে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষ থেকে ২০৩০-৩১ অর্থবর্ষ পর্যন্ত ধাপে ধাপে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

সরকারি হিসেব অনুযায়ী, এই প্রকল্পের জন্য কেন্দ্র সরকারের মোট ৫০৭০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। পাশাপাশি প্রতি মেগাওয়াট প্রকল্পে সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সহায়তা প্রদান করা হবে। এমনকি মোট বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়াবে ২৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকায়।

আরও পড়ুন: আগস্টের ২ তারিখেও ঢোকেনি অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা? পাবেন কিনা জানুন

সাধারণ গ্রাহকের এতে কী সুবিধা হবে?

অনেকের মনেই এই প্রশ্ন। আসলে সৌর শক্তির মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়লে উৎপাদন ব্যয় ধীরে ধীরে কমতে পারে। সেক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়বে সাধারণ বিদ্যুৎ গ্রাহকদের উপরেই। দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুতের বিল অনেকটাই কমতে পারে। তবে এই প্রকল্প থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জলাশয়ের আশেপাশের এলাকায় কৃষিকাজে ব্যবহার করা হতে পারে। বিশেষ করে সেচ ব্যবস্থায় বিদ্যুৎ সরবরাহ আরও সহজ হতে পারে। পাশাপশি কৃষি উৎপাদনের খরচ কমতে পারে এবং গ্রামীণ এলাকায় বিদ্যুৎ নির্ভরযোগ্যতা আরও বাড়তে পারে। এমনকি শুধু কৃষি নয়, জলাশয় কিংবা শিল্পাঞ্চলের কাছাকাছি তৈরি হওয়া বিদ্যুৎ স্থানীয় শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোতেও ব্যবহার করা হতে পারে। এক কথায়, কেন্দ্রের এই উদ্যোগের ফলে প্রত্যেক দেশবাসী প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে উপকৃত হবে।